
মোঃ আসিফ উদ্দিন রাহাত, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সমগ্র জাতি যখন অনিশ্চয়তার সম্মুখীন, তখন সিপাহি-জনতার মিলিত বিপ্লব জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র নস্যাত্ করে দিয়ে দেশপ্রেমের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করে। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে এনে সিপাহি-জনতা তাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে। তিনি ক্রান্তিময় সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশে প্রবর্তন করেন বহুদলীয় গণতন্ত্র। সূচনা করেন উন্নয়ন ও উত্পাদনের নবধারার রাজনীতি।
সেই বিপ্লবী দিনটি কে স্বরণ করে আজ ১০ নভেম্বর রোজ শনিবার ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ছাত্রনেতা ঢাকা-২০ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রত্যাশি জনাব নাজমুল হাসান অভি এক বিশাল বর্ণাঢ্য র়্যালির আয়োজন করে।
উক্ত র়্যালিটি ধামরাই উপজেলা চত্বর হইতে শুরু করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়।ঢাকা-২০ আসনের বিএনপি, ছাত্রদল,যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দল,শ্রমিক দল,মহিলা দল,কৃষক দল,ওলামা দল সহ অঙ্গসংগঠনের সকল নেতাকর্মী ও সমর্থক গনের উপস্থিতিতে এই র়্যালিটি সংঘটিত হয়।
এ সময় তিনি ঢাকা-২০ ধামরাই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে দল তাকে মনোনয়ন দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এছাড়াও দল যাকেই মনোনীত করুক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সব নেতাকর্মী ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করবে বলেও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন নাজমুল হাসান অভি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন,“ সংঘর্ষের রাজনীতি নয়,রাজনীতি হোক উন্নয়নের,রাজনীতি হোক জনকল্যাণের।ঢাকা- ২০ আসনে বিএনপি কাকে নমিনেশন দেবে তা সম্পূর্ণই দলের সিদ্ধান্ত।তবে আমি আশাবাদী দল আমায় নিয়ে বিচার বিবেচনা করবে এবং ধানের শীষের জন্য মনোনীত করবে।রাজনীতি করবো দেশের জন্য, রাজনীতি করবো জনগণের জন্য। এমন কোন কাজ করবো না যাতে দেশের ও জনসাধারণের ক্ষতি হয়।৭৫ সালের মতো ২৫ সালেও রাজনৈতিক সহিংস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।তাই সকলের উদ্দেশ্যে আমার আহ্বান, আসুন বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করি, জিয়াউর রহমানের বিপ্লব ও সংহতি দিবসটিকে বাস্তবায়ন করি।”
সমাবেশে নাজমুল হাসান অভি আরো বলেন, গত ১৫ বছর ৭ মাস নির্যাতিত হয়ে, নিপিড়নে জর্জরিত হয়ে সাধারণ মানুষকে বন্দি জীবনযাপন করেছে। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী লাখ লাখ মামলা নিয়ে আমরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি। তখন কিন্তু আমরা এই ইসলামি মূল্যবোধের তথাকথিত বিশ্বাসী জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কোনো মানুষকে আমরা রাস্তায় দেখিনি। এখন তারা বলে যে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যদি আঙুল বাঁকা করতে হয় তাও তারা বাঁকা করে ঘি খাবে।
তিনি বলেন, আপনারা কি বলতে পারেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা কি ছিল? আপনারা কি বলতে পারেন ১৯৪৭ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা কি ছিল? বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রত্যেকবার জামায়াতে ইসলামী বিরোধিতা করেছে। আজকে ২৪ এর আগস্টের বিপ্লবে তারা ৫ আগস্টের পর নিজেদের তারা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক হিসেবে আবির্ভূত করার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, ১৫ বছর আমরা আপনাদের দেখেছি, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের আস্তিনের নিচে বসে আপনারা সংগঠন চালিয়েছেন। আজকে আপনারা বলছেন, নৌকা দেখেছেন, ধানের শীষ দেখেছেন, এবার দাঁড়িপাল্লা দেখেন। আপনাদের মানুষ দেখেছে ১৯৪৭ সালে, আপনাদের মানুষ দেখেছে ১৯৭১ সালে, আপনাদের মানুষ দেখেছে ১৯৯০ সালে, আপনাদের মানুষ দেখতে চায় না।
জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে নাজমুল হাসান অভি বলেন, আপনারা প্রত্যেকবারই ক্ষমতার ভাগ নিয়েছেন। এরশাদের সময় আপনারা ভাগ নিয়েছেন, চারদলীয় ঐক্যজোটে থেকে আপনারা ভাগ নিয়েছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে আপনারা ভাগ নিয়েছেন। সুতরাং বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের আর আপনাদের দেখতে চায় না। বাংলাদেশের মানুষ এখন ধানের শীষ দেখতে চায়।
ধামরাই পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুম আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আলম সুমন, । এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সুজন মাহমুদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন আহমেদ শাওন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মীর আকিব আলী, মোফাজ্জল হোসেন টিপু, রাশেদুল ইসলাম রাজু, থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক লেহাজ উদ্দিন, ঢাকা জেলা সেচ্ছাসেবক সদস্য সাইদুর রহমান জনি, সোহেল মাদবর সহ আরও অনেকে।
Leave a Reply