মোঃ হামজা শেখ,
পৃথিবীর আলো-বাতাসে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকতে চায় সেরিব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত শিশু মোঃ আরাফাত হোসেন (৬)।” সেরিব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেইনে অস্ত্রপচার করলে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে আরাফাত। পূর্ণ হবে তার লেখাপড়া করে বাবা-মা’র স্বপ্নপুরণের, ফিরে পাবে সে তার বাবা-মায়ের কোল। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের ইন্দুরদি এলাকার মোঃ আব্দুল মুন্নাফ শেখ ও মোছাঃ সাথী বেগম দম্পতির ছেলে আরাফাত হোসেন (৬)। ছেলেকে লেখাপড়া করিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে স্বপ্ন দেখছিলেন আরাফাতের বাবা-মা। ২০১৯ সালের ২জুলাই হঠাৎ করেই আরাফাতের সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমে স্হানীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করান তারপর শিশু বিশেষজ্ঞ মোঃ মিজানুর রহমানের নিকট গেলে ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। ফরিদপুর মেডিকেলে ১৫ দিন চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলে বাড়ীতে চলে আসেন। পুনরায় আবার বেশি অসুস্থ হইলে ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে ভর্তি করান ফরিদপুর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকগণ শিশু আরাফাতকে ঢাকার সিআরপি’তে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। এখানকার চিকিৎসকের পরামর্শে সেখানে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেরিব্রাল পালসি হয়েছে বলে জানা যায়। দীর্ঘ দিন সাভার সিআরপিতে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করানো হয়।চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে থেরাপি দেওয়া হয়।
সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি আরাফাতের বাবা কাঠমিস্ত্রীর কাজ করেই চলে সংসার। এই স্বল্প আয়ের সংসারে স্ত্রী ও ২টি সন্তান নিয়ে চলছিল তার সাংসারিক জীবনযাপন। এরই মধ্যে বড় ছেলেটির দেখা দেয দুরারোগ্য সেরিব্রাল পালসি নামের জটিল রোগ তিনি দিশেহার হয়ে পরেন। দীর্ঘদিন যাবৎ নিজের স্বল্প আয় এবং ধার দেনা সংসারের জিনিস পত্র বিক্রি, কিস্তির টাকা তুলে ছেলের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করতে পারেননি এখন হতাশায় দিনপার করছেন দরিদ্র কাঠমিস্ত্রী।
বলছি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের ইন্দুরদি গ্রামের কাঠমিস্ত্রী মোঃ আব্দুল মুন্নাফ ও মোছাঃ সাথী বেগম দম্পতির কথা। তারা তাদের ছেলে মোঃ আরাফাত হোসেনের চিকিৎসা করাতে দরকার অনেক টাকা। সেজন্যই দেশ এবং দেশের বাইরের দানশীল মানুষের সহানুভূতি আশা করছেন।
চিকিৎসকদের মতে এই রোগের চিকিৎসা একমাত্র অস্ত্রপচার করেই ভালো করা সম্ভব। তবে আমাদের দেশে এই রোগের তেমন চিকিৎসা নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের চেন্নাইতে করা সম্ভব। তবে এজন্য অনেক ব্যয় বহন করতে হবে।চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। শিশু আরাফাতের পরিবার সমাজের বিত্তশালীদের আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
প্রতিবেশি মোঃ জামান, মোছাঃ শাহিনা বেগম ও মোছাঃ খাদিজা আক্তার বলেন, মুন্নাফ – সাথী দম্পতির প্রথম সন্তান আরাফাত। ওর জন্মের পর খুবই আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যদিয়ে চলছিল তাদের সংসার জীবন। আরাফাতে বয়স যখন দেড় বছর তখন তার অস্বাভাবিক অবস্থা দেখা দেয়। চিকিৎসা করাতে গিয়ে ধরা পড়ে রোগটি। এখন তারা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। চিকিৎসার পিছনে সহায় সম্বল সবই বিক্রি করেছেন, দিয়েছেন।৷ দুই শতাংশ জমি মাথাগোজার একটি ছোট্ট টিনের ঘর রয়েছে । সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে সহোযোগিতায় হাত বাড়ালে ছোট আরাফাত হয়তো পৃথিবীর আলো বাতাসে বেঁচে থাকতে পারবে।
স্থাণীয় নবাবপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছাঃ মর্জিনা খাতুন বলেন, দীর্ঘ ৪/৫ বছর ধরে দরিদ্র মুন্নাফ তার ছেলে আরাফাতের চিকিৎসা করিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এখন চিকিৎসক চিকিৎসা খরচ বাবদ যে অর্থের প্রয়জন তা জোগার করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের দানবীর মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো আরাফাতের সুচিকিৎসা করাতে পারবেন তার পরিবার।”
সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে যোগাযোগের ঠিকানা : মোঃ আরাফাত হোসেন (আরাফাতের মা বিকাশ পার্সোনাল – ০১৯১৯ – ৬০১৩১৮)। আরাফাতের নানির ব্যাংক এশিয়ার হিসাব নং TITLE NAME: NASIMA BEGUM AC/NO: 1083482066595 BANK ASIA LTD BRANCH: AGENT BANKING ROUTING NO: 070820678 SWIFT:BALBBDDH.
Leave a Reply