শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ভালোবাসা দিবস: আধুনিকতার মুখোশে আবৃত এক সাংস্কৃতিক বিপর্যয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৪:০৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভালোবাসা দিবস: আধুনিকতার মুখোশে আবৃত এক সাংস্কৃতিক বিপর্যয়

 

 জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান:

লেখক,

ভালোবাসা একটি শব্দ, যার গভীরতা মাপার মতো কোনো মানদণ্ড নেই। মানবজীবনের সূচনালগ্ন থেকে এই অনুভূতি বহমান, নদীর স্রোতের মতো, কখনো শান্ত, কখনো উন্মত্ত। ভালোবাসা নিছক একটি দিন, একটি তারিখ, একটি ফুলের তোড়া বা চকোলেটের মোড়কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি হৃদয়ের নিভৃততম কোণে জেগে থাকা একটি চিরন্তন সুর, যা বাজে প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি সম্পর্কের টানাপোড়েনে। কিন্তু এই বিশুদ্ধ অনুভূতি বর্তমানে যেন একটি বাজারজাত পণ্যে পরিণত হয়েছে। সেই পণ্যের নাম ‘ভালোবাসা দিবস’।
যেখানে একসময় কবিগণ প্রেমের বিশুদ্ধতাকে উদযাপন করতেন মনের আঙিনায়, সেখানে আজ প্রেমের নামেই পালিত হয় কৃত্রিমতা, বাহ্যিক চাকচিক্য, আর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা। শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলোতে রঙিন বেলুন, চকোলেটের দোকান, কাঁচের প্রদর্শনীতে জ্বলজ্বল করা কার্ড সবই যেন এক বিষণ্ন হাসি হেসে বলে, “ভালোবাসা আজ এক নিখুঁত বিপণন কৌশল।” প্রেমের এই উদযাপন কি তবে এক গভীর ব্যঙ্গ নয় সেই অনুভূতির ওপর, যা ছিল হৃদয়ের নিভৃততম সত্য?
রবীন্দ্রনাথের প্রেমে ছিল আত্মার মুক্তি, জীবনানন্দের কবিতায় প্রেম ছিল অপার্থিব এক শূন্যতার সঙ্গী। কিন্তু এখনকার প্রেমের গল্পগুলো যেন ইনস্টাগ্রামের ফিল্টার দিয়ে রঙিন করা, কিছুটা মেকি, কিছুটা ক্লান্ত। প্রেমের স্থায়িত্ব এখন রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসের উপর নির্ভরশীল, “ইন আ রিলেশনশিপ” থেকে “ইট’স কমপ্লিকেটেড” এ পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র কয়েকটি ক্লিক। এই ডিজিটাল প্রেমের জগতে হৃদয়ের ভাষা হয়তো হারিয়ে গেছে ইমোজির ভিড়ে।
এই দিবসের নামে সমাজের এক শ্রেণি যেন উদ্দামতাকে স্বাধীনতা ভেবে বসেছে। পার্কের নির্জনে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা কি সত্যিই প্রেম, নাকি তা শুধুই অদূরদর্শী আবেগের বহিঃপ্রকাশ? সেই প্রেম, যার ভিত্তি ভঙ্গুর, যার শেকড় নেই কোনো গভীরে, তা কি পারে কবিতার মতো অমর হতে? এমন প্রেমের গল্পগুলোই হয়তো শেষ হয় সংবাদ শিরোনামে, যেখানে ভালোবাসা রক্তে ভেজা, যন্ত্রণায় আঁকা।
ভালোবাসার শিক্ষা কি তবে এই? যে প্রেমে নেই আত্মার জ্যোতি, নেই দায়িত্ববোধ, তা কেবলই এক ক্ষণস্থায়ী প্রলোভন। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, পরিবারের টানাপোড়েন, কিশোর-তরুণদের অন্ধ অনুকরণ সবই যেন ভালোবাসা দিবসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতা।
তবে কি প্রেম হারিয়ে গেছে? না, প্রেম হারায় না। প্রেম রয়ে গেছে সেই মায়ের চোখের কোণে, যে ভোরবেলা সন্তানের জন্য প্রার্থনা করে; রয়ে গেছে সেই বৃদ্ধ দম্পতির হাতে-হাত রাখা নীরব বন্ধনে। প্রেমের জন্য কোনো বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না। প্রেম প্রতিদিনের শ্বাস-প্রশ্বাসে, প্রতিটি ছোট্ট খেয়ালে, প্রতিটি নিঃশব্দ ভক্তিতে বেঁচে থাকে।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন,

“ভালোবাসা অবিনশ্বর,
যেখানে হৃদয় নির্ভীকভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেয়।”
ভালোবাসা যদি সত্যিই হয়, তবে তা কেবল এক দিনের প্রদীপ নয়, তা একটি জীবনভর জ্বলে থাকা শিখা। আমাদের প্রয়োজন এই শিখাকে আবার খুঁজে বের করা, আবারও উপলব্ধি করা যে ভালোবাসা কোনো কার্ডের ভেতর আটকে থাকে না—ভালোবাসা বেঁচে থাকে হৃদয়ের গভীরে, নিরবধি, শাশ্বত।

লেখক, শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো মিশর।

1

রাজশাহী জেলা ও মহানগর শ্রমিকদলের উদ্যোগে মহান মে দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
রাজশাহী জেলা ও মহানগর শ্রমিকদলের উদ্যোগে মহান মে দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে

জাকারিয়া আল ফয়সালঃ

শুক্রবার (১ মে) নগরীর বাটারমোড় এলাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে একটি র‍্যালী বের করা হয়। র‍্যালীটি বাটারমোড় থেকে শুরু হয়ে সোনাদীঘির মোড়, জিরো পয়েন্ট ঘুরে পুনরায় বাটারমোড়ে এসে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি রোকনুজ্জামান আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহিন শওকত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ইরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মামুন অর রশীদ এবং সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম তোতা, মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল বারেক শেখ, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার আমিন বিপুলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে বক্তারা মহান মে দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তারা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

1

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি তালিকায় ড. ইসরাফিল শাহীন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি তালিকায় ড. ইসরাফিল শাহীন
মোঃ রানা ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান ড. ইসরাফিল শাহীন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (ভিসি) হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিমনাদের মধ্যে আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ড. ইসরাফিল শাহীন (মোহাম্মদ ইসরাফিল) ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেশের একজন খ্যাতিমান থিয়েটার নির্দেশক, গবেষক ও শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত। ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে ১৯৯১ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৯৯ সালে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের স্ট্রিট থিয়েটার বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে সিনিয়র প্রফেসর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল, ভুটান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মিশর, ফিলিপাইন, ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড, ফ্রান্স ও চেক প্রজাতন্ত্রে কর্মশালা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
পদ্ধতিগত অভিনয়, স্থানীয় নাট্যরীতি, নৃবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং মিতব্যয়ী দৃশ্যরূপে তাঁর কাজ বিশেষভাবে প্রশংসিত। থিয়েটারকে সমাজমুখী ও অংশগ্রহণমূলক ধারায় প্রতিষ্ঠা করতে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় আসায় জেলাবাসীর মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

1

বকশীগঞ্জে অবৈধ জ্বালানি তেল ট্যাঙ্কিতে সংগ্রহের দায়ে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
বকশীগঞ্জে অবৈধ জ্বালানি তেল ট্যাঙ্কিতে সংগ্রহের দায়ে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Oplus_131072

 মোঃ ইমরান আকন্দ, (জামালপুর জেলা) প্রতিনিধিঃ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে অবৈধ পন্থায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ কালে শাকিল মিয়া (২২) নামে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড  করেছেন ভ্রম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনে এই জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনে অবৈধ পন্থায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ সময় শ্রীবরদী উপজেলার কোর্নঝোড়া ইউনিয়নের জাহান আলী ছেলে শাকিল মিয়া কে আটক করা হয়। পরে অবৈধ পন্থায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১০ হাজার জরিমানা করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসমা-উল- হুসনা, ট্যাগ অফিসার কামরুজ্জামান সহ অনেকেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন। দৈনিক ইনকিলাব ও দৈনিক আজকের বসুন্ধরাকে জানান, দেশের জ্বালানি সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত তেল নেয়া, মজুত রাখা, প্রতারণা ও অনিয়ম ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।