বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ উদ্দিন বেপারীর জীবনসংগ্রাম: অবহেলায় কাটছে শেষ বয়স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:৫৯ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ উদ্দিন বেপারীর জীবনসংগ্রাম: অবহেলায় কাটছে শেষ বয়স

শাহাদাত কামাল শাকিল:

মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী মন্তাজ উদ্দিন বেপারী আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অবহেলা ও অভাবের সঙ্গে লড়াই করছেন। এক সময় যিনি দেশ মাতৃকার টানে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, সেই মানুষটিই আজ সরকারি স্বীকৃতি ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মন্তাজ উদ্দিন বেপারী, পিতা ছলুমুদ্দিন বেপারী ও মাতা করফুলনেছার সন্তান, জন্মগ্রহণ করেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামগর ইউনিয়নের মুগসাইর দাররা গ্রামে। ১৯৭১ সালে পাহাড়পুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তাজুল ইসলাম খোকনের নেতৃত্বে ভারতের কলামচূড়া এলাকায় গিয়ে প্রশিক্ষণ নেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। কিন্তু যুদ্ধশেষে কিছু দুরভিসন্ধিমূলক পরামর্শে ভয়ে কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন, যার ফলে আজও নিশ্চিত হতে পারেননি তার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আছে কিনা।

১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভিটেমাটি হারিয়ে তিনি চলে আসেন দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের কুড়াখাল পূর্ব পাড়া গ্রামে। শ্বশুরবাড়ির সহায়তায় সেখানেই নতুন করে জীবন শুরু করেন। বর্তমানে তার ছয় কন্যা ও একমাত্র ছেলে রয়েছে। ছেলে একজন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু পরিবারের একজনের আয়ে এত বড় সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তাজ উদ্দিন বলেন,
“আমি আজও গরীব মানুষ, কিন্তু চেষ্টা করছি যেন আমার পরিবার অন্তত শান্তিতে থাকতে পারে। একজন মুক্তিযোদ্ধার জীবনের এমন পরিণতি কাম্য নয়।”

তিনি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সমাজের বিবেকবান মানুষের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন, তার জীবনসংগ্রামের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যেন তাকে স্বীকৃতি ও সহায়তা প্রদান করা হয়।

তিনি বলেন, “আমার ছয় মেয়ে আর এক ছেলে—তাদের ভবিষ্যৎ আজ ঝুঁকির মুখে। সরকার যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো আমরা আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবো।”

1

শ্রীবরদী উপজেলার টিউমারে আক্রান্ত ১১ বছরের রাশেদ, অর্থের অভাবে অনিশ্চিত চিকিৎসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
শ্রীবরদী উপজেলার টিউমারে আক্রান্ত ১১ বছরের রাশেদ, অর্থের অভাবে অনিশ্চিত চিকিৎসা

 

শাওন আহাম্মেদ= স্টাফ রিপোর্টারঃ

“আমি বাঁচতে চাই”—১১ বছরের শিশু মো. রাশেদ মিয়ার এই আকুতি যেন নাড়া দিচ্ছে প্রতিটি মানবিক হৃদয়কে। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ৩ নম্বর কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের খাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের এই শিশুটি বর্তমানে পেটে টিউমার নিয়ে গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসকরা দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

যে বয়সে রাশেদের মাঠজুড়ে ছুটে বেড়ানোর কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে সময় কাটানোর কথা, সেই বয়সেই তাকে লড়তে হচ্ছে কঠিন এক রোগের সঙ্গে। অসুস্থতার যন্ত্রণায় তার মুখের হাসি ম্লান হয়ে গেছে। এখন তার একটাই স্বপ্ন—সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া।

রাশেদের বাবা মো. রাকিব মিয়া একজন সাধারণ পরিবারের মানুষ। সন্তানের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে ধার-দেনা করে অনেক অর্থ ব্যয় করেছেন। চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও অন্যান্য খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

একদিকে সন্তানের জীবন নিয়ে উৎকণ্ঠা, অন্যদিকে অর্থের অভাব—এই দুই দুশ্চিন্তায় দিশেহারা রাশেদের পরিবার। তাই সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কাছে সন্তানের জীবন বাঁচাতে সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মানুষের সামান্য সহযোগিতাও রাশেদের চিকিৎসার জন্য বড় সহায়তা হতে পারে। অনেক ছোট ছোট সহযোগিতা একত্রিত হলে হয়তো একটি শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। আপনার দেওয়া একটি সহায়তা ফিরিয়ে দিতে পারে রাশেদের মুখের হাসি, এনে দিতে পারে নতুন জীবনের স্বপ্ন।

চিকিৎসায় সহযোগিতা

রাশেদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠানো যাবে—

বিকাশ/নগদ: ০১৭৫৫-৭৫৫২৯৯

শুধু আর্থিক সহযোগিতাই নয়, এই মানবিক আবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেও রাশেদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব। আপনার একটি শেয়ার হয়তো এমন কোনো হৃদয়বান মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে, যিনি তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসবেন।

বিশেষ অনুরোধ: আর্থিক সহযোগিতা পাঠানোর আগে রোগী, পরিবারের পরিচয়, চিকিৎসার কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ছোট্ট রাশেদের চোখে আবারও স্বপ্নের আলো ফিরুক, মুখে ফুটে উঠুক হাসি। সে সুস্থ হয়ে আবারও বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করুক, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক—এটাই এখন তার পরিবার এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের একমাত্র প্রত্যাশা।

1

জামালগঞ্জে হামলার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
জামালগঞ্জে হামলার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার দাবি


‎সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::
‎সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার শাহপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল উদ্দিনের ওপর হামলার অভিযোগ এনে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
‎শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৩ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তিনি শাহপুর বাঁধ বাজারে যান। সেখানে সরকারি কাজে উপস্থিত একজন সার্ভেয়ার বাঁধ বাজারের কয়েকটি দোকান নির্মাণ ও মালিকানা সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, দোকানগুলো প্রায় ২৫ বছর আগে মরহুম আব্দুল মান্নান চৌধুরী ওরফে তেলা মিয়া চৌধুরী নির্মাণ করেছিলেন। এ কথা বলার পরপরই রফিকুল ইসলাম বিন বারী ও তার স্ত্রী রবিকুল বেগম উত্তেজিত হয়ে তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের নির্দেশ দেন এবং ওই সময় পায়েল, খোকন, পল্লব, রিগানসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন। এসময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।
‎সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তরে নিজের জানা তথ্য প্রকাশ করাই তার অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কারণে কেন একজন নাগরিককে শারীরিক হামলার শিকার হতে হবে। এ ঘটনায় জামালগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি জিডি করেছেন তিনি।
‎সংবাদ সম্মেলনে একাত্মতা প্রকাশ করে বিবাদী রফিকুল ইসলাম বিন বারীর আপন ছোট বোন পারভীন আক্তার চৌধুরী এবং আপন ভাতিজা পরাগ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তারা বক্তব্যে অভিযোগ করেন, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পারিবারিক ভূমি ও সম্পত্তি অবৈধভাবে ভোগদখল করে রেখেছেন রফিকুল ইসলাম বিন বারী। এসময় তারা রফিকুল ইসলাম বিন বারীর বিরুদ্ধে উত্তরাধিকারদের ভূমি দখলের অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব বিরোধের কারণে শুধু পরিবারের সদস্যরাই নয়, এলাকার সামাজিক সম্প্রীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
‎সংবাদ সম্মেলনে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
‎এব্যাপারে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বিন বারী বলেন, আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন। সামাজিকভাবে আমাকে হেয়-প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

1

মির্জাপুরে বন্ধ থাকা গোড়াই কটন মিলস পরিদর্শন করলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১০ পিএম
মির্জাপুরে বন্ধ থাকা গোড়াই কটন মিলস পরিদর্শন করলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

 

আনোয়ার হোসেন (মির্জাপুর প্রতিনিধি) :

হাজারো পরিবারের স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ শিল্প কারখানা মির্জাপুরের গোড়াই কটন মিল পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশের মাননীয় পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এমপি।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০ টার সময় উপজেলার এই বন্ধ কারখানাটি পরিদর্শন করেন।জানা যায়,শিল্প কারখানাটি যুগ যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে।একসময় এই কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করত,যেখানে হাজারো পরিবারের স্বপ্ন লুকিয়ে থাকত।আজ সেই কারখানাটি বন্ধ।এই বন্ধ কারখানা দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু হবে এমন আশ্বাস দেন মাননীয় পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এমপি।

কারখানা পরিদর্শনকালে আরোও উপস্থিত ছিলেন মির্জাপুরের মাননীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপি,বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ করপোরেশনের চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এসএম জাহিদ হাসান ও সচিব ফিরোজ আহমেদ, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবিব সহ প্রমূখ।

পরিদর্শন শেষে মাননীয় পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন,আমরা উদ্যোগ নিয়েছি,খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে যতগুলো কারখানা বন্ধ রয়েছে,সবগুলো চালু করা হবে। তিনি আরো বলেন সংশ্লিষ্ট মিলের সাথে এলাকার যোগ্যতা সম্পন্ন লোকজন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ।