মুন্সীগঞ্জে জোয়ারের তোড়ে ভেসে গেল শতাধিক গরু, কোটি টাকার ক্ষতির মুখে খামারিরা

মোঃ শাহজাহান বাশার:
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভাটি বলাকী গ্রামে শুক্রবার (২৩ মে) বিকেলে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো স্থানীয়রা। জোয়ারের হঠাৎ তোড়ে ও কচুরিপানার চাপে খালের পানিতে ভেসে গেলো শতাধিক গরু। স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের দাবি, এই ঘটনায় তাঁদের প্রায় সোয়া এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্তদের বরাতে জানা যায়, ভাটি বলাকী গ্রামের পাশে একটি ছোট খাল রয়েছে যা গ্রাম ও চরাঞ্চলের মাঝে প্রবাহিত। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলেও গরুগুলো চরে ঘাস খেয়ে ফিরছিল। কিন্তু বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ করে খালের পানি প্রবল জোয়ারে ফুলে ওঠে এবং কচুরিপানায় আটকে গিয়ে পানি আরও স্রোতস্বিনী হয়ে ওঠে। এতে গরুগুলো এক এক করে ভেসে যেতে শুরু করে।
“প্রতিদিন গরুগুলো খাল পার হয়ে চরে যায় এবং বিকেলে ফিরে আসে। আজ জোয়ারের তোড় এতটাই প্রবল ছিল যে, চোখের সামনে দেখি একটার পর একটা গরু পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।”
এ ঘটনায় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৪১টি মৃত গরু উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। নিখোঁজ রয়েছে আরও প্রায় ৬০টি গরু, যাদের বেশিরভাগেরই জীবিত অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠু জানান,
“বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে পাঠিয়ে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে দ্রুতই প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, একটি গরুর বর্তমান বাজারমূল্য ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে। সেই হিসাবে নিখোঁজ ও মৃত গরু মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় সোয়া এক কোটি টাকা। এই ক্ষতি তারা কীভাবে কাটিয়ে উঠবে, সে চিন্তায় এখন তারা দিশেহারা।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেক কৃষক কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। গরুগুলোর বেশিরভাগই আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পালন করা হচ্ছিল। ফলে শুধু আর্থিক নয়, মানসিক দিক থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারিরা।
উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হলেও দ্রুত সহায়তা না মিললে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ এড়াতে খালের পানিপ্রবাহ ও জোয়ার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।













