জবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব লিমনের লেখায় উঠে এসেছে জগন্নাথ প্রকল্প ওঠা না ওঠা নিয়ে বিতর্ক

জবি প্রতিনিধি – ফারিহা রহমান:
১১তম একনেক সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় ক্যাম্পাস প্রকল্প না ওঠা নিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ার পর, “জগন্নাথ প্রকল্প একনেকে ওঠা না ওঠা নিয়ে বিতর্ক” নিয়ে লিখলেন জবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব লিমন।
গত ২৪মে, শনিবার তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জবি প্রকল্প নিয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো তুলে ধরেন –
১. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দুটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এখন পর্যন্ত যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর কাছে যে কাজ হস্তান্তর করা হয়েছে, তা প্রথম ধাপের অংশ। এতদিন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দ্বারা যে কাজগুলো হয়েছে, সেগুলো যে ডিপিপি অনুযায়ী বাস্তবায়ন হয়েছে, সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের পর সেই আরডিপিপিই সংশোধন করে অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলে সংশোধিত আরডিপিপিটি গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এই সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন দেবে মন্ত্রণালয়। পরে এই মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত আরডিপিপির একটি কপি একনেকে জমা দেওয়া হবে। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কার্যক্রম উপাচার্যের ক্ষমতা বলে বাস্তবায়ন করে পরবর্তী সিন্ডিকেটে নামমাত্র উঠানো হয়।
২. মন্ত্রণালয় থেকে আরডিপিপি অনুমোদনের পর, প্রথম ধাপের ১৯০০ কোটি টাকার অবশিষ্ট অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই অর্থ ছাড়ের জন্য একনেক অনুমোদনের প্রয়োজন নেই, কারণ এটি ২০১৮ সালেই একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত গিয়েছিল। বর্তমানে সেই অর্থই সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের পর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
৩. এখন আসা যাক দ্বিতীয় ধাপের কাজ, অর্থাৎ প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হলেই দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করা যাবে। তবে এটি সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করবে নাকি টেন্ডারের মাধ্যমে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। যদিও সেনাবাহিনী দ্বিতীয় ধাপের কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপের জন্য পরিকল্পনা করে পূর্ণাঙ্গ ডিপিপি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। মন্ত্রণালয় সেই আরডিপিপি যাচাই-বাছাই করে একনেকে অনুমোদনের জন্য পাঠাবে। অর্থাৎ, দ্বিতীয় ধাপের কাজ অবশ্যই একনেকে অনুমোদিত হতে হবে। যদি প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত না হয়, তাহলে সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো পক্ষ কাজ বাস্তবায়ন করতে পারবে না।
সর্বশেষে তিনি বলেন, “বর্তমানে যে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে, তা হলো—গত ২৪মে, ১১তম একনেক সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পটি কেন ওঠেনি? এর কারণ, প্রকল্পটি একনেকে ইতোমধ্যে ২০১৮ সালে অনুমোদিত হয়েছিল। পরবর্তীতে কাজ না হওয়ার কারণে অর্থ ফেরত গিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর, প্রথম ধাপের অবশিষ্ট কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাই পূর্বের আরডিপিপি সংশোধন করে সেনাবাহিনী অর্থ ছাড়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করবে।”













