এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্সে দুর্নীতি ও অনিয়মে ডুবছে গ্রাহকের অর্থ: কিবরিয়া-হোসনে আরা এখনো

বিশেষ প্রতিনিধি :
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পরও এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্সে দুর্নীতিবাজদের প্রভাব কাটেনি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে বহাল রয়েছেন সাবেক সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ইতালি আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কিবরিয়া গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জি এম কিবরিয়া। তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম, যিনি সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, এখনও কোম্পানির ওভারসিজ এজেন্সি ডিরেক্টরের পদে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কমিশনের নামে বিপুল অংকের অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন তারা।
প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন কোম্পানির বিতর্কিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহ্ জামাল হাওলাদার। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর তদন্তে উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তারিত বিবরণ।
আইডিআরএ জানায়, অনুমোদনহীন বীমা পরিকল্প বিক্রি, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, প্রিমিয়াম তহবিল আত্মসাৎ, মিথ্যা তথ্য প্রদানসহ নানাবিধ আইন লঙ্ঘন করেছেন শাহ জামাল। ২০২১-২০২৩ সাল পর্যন্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় ৮১.৫২ কোটি টাকার প্রিমিয়ামের মধ্যে মাত্র ১.২০ কোটি টাকা রয়েছে লাইফ ফান্ডে। ফলে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আইডিআরএ ২০২৪ সালের ১০ জুন কোম্পানির চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে সিইও হিসেবে শাহ জামালের পুনঃনিয়োগ বাতিল করে। চিঠিতে বলা হয়, তার কর্মকাণ্ড কোম্পানিকে দেউলিয়ার পথে ঠেলে দিয়েছে। তবে শাহ জামাল হাইকোর্টে রিট করে ৬ মাসের স্থিতাবস্থা আদায় করেন। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি এখনও ঝুলে রয়েছে।
আরও জানা যায়, ২০২১-২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদনহীন “সুরক্ষিত দ্বিগুণ প্রদান এক কিস্তি বীমা” থেকে ২৩ কোটি টাকারও বেশি প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে। অথচ এই প্রিমিয়াম থেকে ৫% এর বেশি ব্যয় করার নিয়ম থাকলেও, ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নামে কখনো ৪৫% আবার কখনো তারও বেশি হারে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
কোম্পানির নিরীক্ষিত-অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ক্যাশ ইন হ্যান্ডের নামে প্রায় ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা হিসাবের গরমিল রয়েছে। মাহফেল হক এন্ড কোম্পানি ২০২২ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ অর্থের অস্তিত্ব পাননি বলে উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইসেন্সের তিন বছরের মধ্যেই এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম ও অপচয়ের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। গ্রাহকের অর্থ রক্ষায় কর্তৃপক্ষের কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।













