কুমিল্লায় ৮২ কেজি গাঁজাসহ ছাত্র দল নেতা গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:
মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে রাজধানীর শ্যামপুর থানার দোলাইরপাড় মোড় এলাকা থেকে র্যাব-১০-এর সদস্যরা বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদকে আটক করেছে। তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮২ কেজি গাঁজা, একটি পিকআপ ভ্যান এবং তার সহযোগী তিনজনকে।
গ্রেপ্তারকৃত রাসেল মাহমুদ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের রুপ মিয়ার ছেলে। মাদক পরিবহনের এই ভয়াবহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা অপর তিন সহযোগী হলেন—মানরা গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. ইউসুফ, ছাতিয়ানি গ্রামের বারেক মিয়ার ছেলে সুজন এবং মাধবপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির।
র্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর শ্যামপুর থানা এলাকার দোলাইরপাড় মোড়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের ভাষ্যমতে, রাসেল মাহমুদ একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গাঁজা পাচার ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের বহনকারী পিকআপ ভ্যানটিও জব্দ করা হয়েছে। মাদকের মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধির সঙ্গে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতার সম্পৃক্ততা সামাজিক বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফয়সাল আহমেদ ভূঁইয়া ‘আমার দেশ’কে জানান, “মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি সঠিক। সংগঠনের নীতিমালার আলোকে আমরা আজ রাতেই রাসেল মাহমুদকে বহিষ্কার করছি।
এই ঘটনা দেশব্যাপী রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা ও দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের জড়িত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ মানুষ যেমন হতবাক, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি এখন আরও তীক্ষ্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাত্র রাজনীতি যদি অপরাধীর আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি একটি ভয়াবহ বার্তা বহন করে।
ব্রাহ্মণপাড়ার সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা চাইছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এদিকে, র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
একজন ছাত্রনেতার কাছ থেকে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের প্রত্যাশা কখনোই ছিল না। এটি শুধু রাজনীতিকেই কলুষিত করছে না, বরং সমাজের মূল ভিত্তিকে নড়িয়ে দিচ্ছে। দ্রুত ও কঠোর বিচারই পারে এমন অপরাধের লাগাম টানতে। এ ঘটনায় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহলের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি হয়ে পড়েছে।










