নোয়াখালী প্রতিনিধি- সাইফুল ইসলাম:
নিয়োগবিধি সংশোধন, ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ ও গ্রেড উন্নীতকরণসহ ছয় দফা দাবিতে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন (BHAA)। এর ফলে উপজেলার সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), আসন্ন টিসিভি টিকাদান ক্যাম্পেইনসহ সব ধরনের তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।
১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। ফলে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
৫ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন কবিরহাট উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস. এম. নুর উদ্দিন মাসউদ বলেন,
“আমাদের ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরও সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, তাই আমরা বাধ্য হয়েছি কর্মবিরতিতে যেতে।”
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিয়োগবিধি সংশোধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান নির্ধারণ, ১৪তম গ্রেড প্রদান, ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান ও ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ।
মাসউদ আরও বলেন, “২০১৮ ও ২০২০ সালে আমরা কর্মসূচি পালন করেছিলাম। তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব, মহাপরিচালক ও মন্ত্রী মহোদয়দের আশ্বাসে কাজেও ফিরে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। আবারও চলতি বছরের মে মাসে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তাও পূরণ হয়নি।”
তিনি আরও জানান, ২৬ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এক মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলে সংগঠনটি দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে টিসিভি টিকাদান ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সময় পার হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায়, ২৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় ৬৪ জেলার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সারাদেশব্যাপী পূর্ণ কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান, ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর থেকে ইপিআই ও টিসিভি টিকাদান ক্যাম্পেইনসহ সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যান স্বাস্থ্যকর্মীরা।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“ইপিআই কর্মসূচি বন্ধ থাকায় শিশুরা নিয়মিত টিকা পাচ্ছে না, যা ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হাম, পোলিও ও ডিপথেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।”
এদিকে, কর্মবিরতির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে। কবিরহাট পৌরসভার বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন,
“আমার শিশুর টিকা দেওয়ার তারিখ ছিল ৩ অক্টোবর। কিন্তু এখন গেলে বলা হচ্ছে টিকা কার্যক্রম বন্ধ। এটি শিশুদের জন্য খুবই বিপজ্জনক।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজাউল করিম ।। নির্বাহী সম্পাদকঃ সোলায়মান হোসাইন।। বার্তা সম্পাদকঃ জাকারিয়া আল ফয়সাল।।
যোগাযোগঃ ঠিকানাঃ হাসেম মার্কেট = কুরগাও = নবীনগর = আশুলিয়া = সাভার = ঢাকা ১২১৬। রোড নাম্বারঃ ৭৩৩ = হোল্ডিং নাম্বারঃ ৮০৫ = ফোন: 01606638418 = মেইলঃ dailynewsbangla756@gmail.com = বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদন পত্রের ক্রমিক নং: ৩৫৬-২৪ ||