নাগরপুরে টেকনোলজিস্ট–ফার্মাসিস্টদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি

নাগরপুর প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন ও পদোন্নতির কাঠামো সংশোধনের দাবিতে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশদ্বারে অবস্থান নিয়ে টানা তিন ঘণ্টা কর্মসূচি পালন করেন তারা।
কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা বলেন, স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি পদ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। তারা জানান, পদ সৃষ্টি হলেও তাতে কোনো পদোন্নতির ধাপ রাখা হয়নি, ফলে বছরের পর বছর একই গ্রেডে থেকে মানবেতর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাদের দাবি–
- মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড দ্রুত বাস্তবায়ন,
- পদোন্নতির নতুন কাঠামো প্রণয়ন,
- বেতন–বৈষম্য দূরীকরণ,
- এবং দীর্ঘদিনের অগ্রগতিহীনতা দূর করা।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামতে হয়েছে।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও ফার্মাসিস্ট সংগঠনের স্থানীয় নেতারা জানিয়েছে, দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তারা আরও জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশের সব সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এদিন জরুরি সেবা ছাড়া সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে কর্মবিরতির কারণে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত রোগীরা। অনেকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চিকিৎসা নিতে পারেননি। বিশেষ করে জরুরি ল্যাব টেস্ট ও ওষুধ সরবরাহে দেখা দেয় ব্যাপক বিঘ্ন। কয়েকজন রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালে এলে সেবা পাওয়া আমাদের অধিকার। কিন্তু প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো কর্মবিরতির কারণে মানুষ হয়রানি হয়।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক সূত্র জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। তবে আন্দোলনের বিস্তৃতি বাড়লে স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশব্যাপী পূর্ণদিবস শাটডাউনের ফলে আগামীকাল স্বাস্থ্যসেবা আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়বে—এমন আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, “দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি আদায়ের বাইরে আর কোনো পথ খোলা নেই।”










