সোহাগ কাজী = মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে ইতালির যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে মাফিয়া মাহবুল ফরাজি ও তার সহযোগী মানবপাচারকারী চক্র। দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুঁইয়ে এখন দিশেহারা নিখোঁজ সলেমান বেপারীর পরিবার। একদিকে একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোক, অন্যদিকে দেনার দায়ে ভিটেমাটি হারানোর উপক্রম—সব মিলিয়ে এক মানবেতর জীবন পার করছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ঘটনার শুরু ও প্রতারণার জাল
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের নয়াচর এলাকার মাহবুল ফরাজি (৪৬) নামে এক চিহ্নিত মানবপাচারকারী একই গ্রামের কৃষক মুনসুর বেপারীর ছেলে সলেমানকে সরাসরি ফ্লাইটে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। প্রথমে রাজি না হলেও মাহবুল ও তার সহযোগী ৫ সদস্যের মিষ্টি কথায় ও উন্নত জীবনের আশায় পা দেন সহজ-সরল কৃষক মুনসুর। গত ২০ সেপ্টেম্বর চুক্তি অনুযায়ী ২২ লক্ষ টাকা তুলে দেন মাহবুল ও এবাদুল বেপারীর হাতে।
সরাসরি ফ্লাইটের নামে লিবিয়ার বন্দিশালায়
২৪ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে সলেমানকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটে উঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সলেমান ইতালির বদলে পৌঁছান শ্রীলঙ্কা এবং সেখান থেকে তাকে দুবাই হয়ে নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ার ত্রিপোলিতে। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই স্থানীয় লিবিয়ান মাফিয়াদের হাতে সলেমানকে বিক্রি করে দেয় এই চক্রটি। শুরু হয় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। নির্যাতনের সেই ভিডিও চিত্র বাংলাদেশে সলেমানের বাবার কাছে পাঠিয়ে আরও ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মাহবুল ফরাজি।
ছেলের ওপর অমানবিক অত্যাচারের দৃশ্য সইতে না পেরে কৃষক মুনসুর বেপারী বিভিন্ন এনজিও থেকে কিস্তি এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আবারও ১৩ লক্ষ টাকা তুলে দেন ওই চক্রের হাতে।
টাকা নিয়েও শেষ হয়নি নিষ্ঠুরতা
টাকা দেওয়ার পর ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও সলেমানের কোনো খোঁজ না পেয়ে ১০ ডিসেম্বর মাহবুলের বাড়িতে যান মুনসুর বেপারী। সেখানে তাকে জানানো হয়, ছেলের সাথে কথা বলতে হলে আরও ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে, অন্যথায় সলেমানকে মেরে ফেলা হবে। ছেলের প্রাণ বাঁচাতে শেষ সম্বল বিক্রি করে ৫ ডিসেম্বর আরও ৫ লক্ষ টাকা মাহবুলের হাতে দেন মুনসুর। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকেই মাহবুল ফরাজি, এবাদুল ফরাজি, মলিনা বেগম, আজাদ বেপারী, মাহমুদা বেগম ও সোহেল নামের চক্রের ৬ সদস্যই আত্মগোপন করে।
বিচারের অপেক্ষায় ভুক্তভোগী পরিবার
বর্তমানে ছেলের কোনো হদিস না পেয়ে এবং ঋণের চাপে পিষ্ট হয়ে সলেমানের মা ইয়াসমিন বেগম (৪৫) বাদী হয়ে মাদারীপুর মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-৩৩১)।
ভুক্তভোগী মুনসুর বেপারী আহজারি করে বলেন, "আমি মাহবুলের কথা বিশ্বাস করে আমার ছেলে, জায়গা-জমি, ঘরবাড়ি সব হারিয়ে আজ নিঃশেষ। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি, এই মাফিয়াদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক যাতে আর কোনো বাবার বুক এভাবে খালি না হয়।"
এলাকাবাসীর ক্ষোভ
নয়াচর এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগম ও সালাম খাঁ জানান, এই মাহবুল ফরাজি চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার তরুণদের বিদেশে পাঠানোর নামে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন করে আসছে। এর আগেও জনৈক এক ব্যক্তি কোটি টাকা খরচ করে প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরেছেন। এই মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজাউল করিম ।। নির্বাহী সম্পাদকঃ সোলায়মান হোসাইন।। বার্তা সম্পাদকঃ জাকারিয়া আল ফয়সাল।।
যোগাযোগঃ ঠিকানাঃ হাসেম মার্কেট = কুরগাও = নবীনগর = আশুলিয়া = সাভার = ঢাকা ১২১৬। রোড নাম্বারঃ ৭৩৩ = হোল্ডিং নাম্বারঃ ৮০৫ = ফোন: 01606638418 = মেইলঃ dailynewsbangla756@gmail.com = বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদন পত্রের ক্রমিক নং: ৩৫৬-২৪ ||