1
ছাত্রসংসদ নির্বাচন: ‘ছোট ভোটে’ বড় রাজনৈতিক বার্তা – মোঃ ইস্রাফিল হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার :
দেশের পাঁচটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে। অনেকে এসব নির্বাচনকে ‘ইমপ্যাক্টহীন’ বলে আখ্যায়িত করলেও ভোটের ফলাফল ও রাজনৈতিক তৎপরতা ভিন্ন বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চাকসু) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জকসু)—এই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবগুলো নির্বাচনেই শিবির-সমর্থিত প্যানেল বিজয়ী হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এসব ছাত্রসংসদে শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা সর্বোচ্চ যে ভোট পেয়েছেন তা হলো—
ডাকসু: ১৪,০৪২
জাকসু: ৩,৯৩০
রাকসু: ১২,৬৮৭
চাকসু: ৮,০৩১
জকসু: ৫,৫৫৮
মোট ভোট: ৪৪,২৪৮
অর্থাৎ প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী সরাসরি শিবির-সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। এরা দেশের শীর্ষ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী—যাদের একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, ব্যাংকিং, শিক্ষা, নীতি নির্ধারণ ও রাজনীতিতে যুক্ত হবেন।
পরিবার ও সমাজে প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভোট শুধু ব্যক্তিগত মতামতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। গ্রাম ও মফস্বলভিত্তিক পরিবারগুলোতে এসব শিক্ষার্থীর মতামত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। ফলে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী মানেই ৪৫ হাজার পরিবার—এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত আরও বিস্তৃত সামাজিক নেটওয়ার্ক।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীরা এসব নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিষয়টি সারাদেশেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের কারণে গ্রামাঞ্চলেও ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ফলাফল এখন নিয়মিত আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
১০৩ বিজয়ী প্রতিনিধি
পাঁচটি ছাত্রসংসদ মিলিয়ে শিবির-সমর্থিত মোট ১০৩ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিজ নিজ এলাকায় এসব বিজয়ী শিক্ষার্থীদের ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয়তা
ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সক্রিয় ভূমিকাও নজরে এসেছে। ডাকসু থেকে শুরু করে জকসু পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, তৎপরতা এবং কৌশলগত পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
বিশেষ করে জকসু নির্বাচন ঘিরে জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের আগ্রহ ছাত্রসংসদের গুরুত্বকেই তুলে ধরে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইঙ্গিত?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাত্রসংসদ নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের বিকল্প না হলেও এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রবণতার একটি ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটার—যাদের বড় একটি অংশ আগে ভোটে অনাগ্রহী ছিল—তারা কোন ধরণের নেতৃত্ব পছন্দ করছে, ছাত্রসংসদ নির্বাচন সে বিষয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, তরুণ ভোটারদের এই মনোভাব আগামী জাতীয় নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ছাত্রসংসদ নির্বাচন হয়তো ‘ছোট পরিসরের ভোট’, কিন্তু এর রাজনৈতিক বার্তা ও সামাজিক প্রতিধ্বনি যে বড়—তা এখন আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।







