আনোয়ার হোসেন =মির্জাপুর প্রতিনিধি:
টাংগাইল ৭ মির্জাপুরে আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথে এই আসনটি । এই আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে বলা যায় ।একটি পৌরসভা ১৪ টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে মির্জাপুর সংসদীয় আসনটি গঠিত । এখানে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১২৬ । এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৭৫,৪৩৭ । এরমধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১,৮৮ ,৮৭১ জন । নারী ভোটার সংখ্যা ১,৮৬,৫৬০ জন । তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে মোট ০৬ জন । আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে রাজনীতি ও ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠ পর্যায়ের প্রচারণা, সাংগঠনিক সক্রিয়তা এবং পরিস্থিতি বিশ্লেষণে অনেকের ধারণা, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই হতে পারে।
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল্লাহ তালুকদারকে ঘিরেই নির্বাচনী আলোচনা বেশি। এছাড়া বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির হাতি প্রতীকের প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেনও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। মনোনয়ন দাখিলের আগে তিনি গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসায় তিনি পদত্যাগ করে বাংলাদেশ রিপাবলিকান দলে যোগ দেন। তোফাজ্জল হোসেন সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রচার প্রচারণায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন মুখ এবং তরুণ প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের আগ্রহ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলেরই কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি এবং প্রচারণা কার্যক্রম দৃশ্যমান। পথসভা, গণসংযোগ ও প্রচার সামগ্রীর ব্যবহারে দুই দলের সক্রিয়তা বেশি চোখে পড়ছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভিত্তি ও সংগঠনিক শক্তি এ দুই দলকে নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে রাখছে।
বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে জয়ের বিষয়ে যেমন দৃশ্যমান আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তেমনি জামায়াতের কর্মীরাও শক্ত অবস্থানের কথা বলছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব ফেললে ফলাফলে অপ্রত্যাশিত সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
মির্জাপুর উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মসজিদ ও মাদ্রাসা রয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ইমাম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জামায়াতে ইসলামের ঐতিহ্যগত ভোটভিত্তির অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। তবে নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে এই সমর্থকগোষ্ঠীর ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির ওপর।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি অংশ প্রকাশ্যে মতামত না দিলেও নির্বাচনের দিন ভোট প্রদানের মাধ্যমে ভিন্ন সমীকরণ তৈরি করতে পারেন—যাদের স্থানীয়ভাবে “নীরব ভোটার” বলা হচ্ছে।
অন্যদিকে শিক্ষিত শ্রেণির কিছু ভোটার স্থানীয় প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে জাতীয় পর্যায়ে কোন দল সরকার গঠন করবে—এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে মত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনে ফলাফল নির্ভর করতে পারে কয়েকটি বিষয়ের ওপর যেমন -
* কোন দল তাদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে পারে
* নীরব ভোটারদের অবস্থান
*অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসজনিত শৈথিল্য তৈরি হলে
*শেষ সময়ের নির্বাচনী পরিবেশ
*ভোটার উপস্থিতি।
সব মিলিয়ে মির্জাপুর আসনটি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অনিশ্চয়তাপূর্ণ আসনে পরিণত হয়েছে, যেখানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফলাফলের সমীকরণ খোলা থাকছে। তবে ফলাফল যাই হোক, এখানে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে-এ বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেছেন। তবে কিছু সংখ্যক ভোটারদের কিছুটা শঙ্কা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে ভোটের দিনকে ঘিরে । তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল ৭ মির্জাপুর আসনটি কার ভাগ্যে নির্ধারিত সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং ভোটের দিন ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজাউল করিম ।। নির্বাহী সম্পাদকঃ সোলায়মান হোসাইন।। বার্তা সম্পাদকঃ জাকারিয়া আল ফয়সাল।।
যোগাযোগঃ ঠিকানাঃ হাসেম মার্কেট = কুরগাও = নবীনগর = আশুলিয়া = সাভার = ঢাকা ১২১৬। রোড নাম্বারঃ ৭৩৩ = হোল্ডিং নাম্বারঃ ৮০৫ = ফোন: 01606638418 = মেইলঃ dailynewsbangla756@gmail.com = বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদন পত্রের ক্রমিক নং: ৩৫৬-২৪ ||