সোলায়মানঃ
পরিকল্পনা করেই হাসিনা সরকারের পতনে ছাত্র জনতার নেতৃত্বে ছিলেন তারা। কোটা আন্দোলন থেকে এক দফার আন্দোলন নিশ্চিত। তাদের প্লান এ বি সি রেডি ছিল। প্লান এ কাজ না করলে বি কিংবা সি প্লান নিয়ে মাঠে থাকত তারা। এমন মেধাবী তরুণদের নিশ্চিত সেইফ এক্সিট প্ল্যানও রয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরে কিংবা আগে কী করবেন তারা? হাসনাত,সারর্জিস,আসিফ,নাহিদের আগামী প্লান কি এটা নিয়েই দিন দিন কৌতূহল বাড়ছে। হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে এখন অবধি বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা চিৎকার করে বলছেন, কাউকে ছাড় দেবেন না তারা। অর্থাৎ নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারাও যদি কোন ভুল করে তাহলে রুখে দাঁড়াবেন হাসনাত সারর্জিসরা। অন্যদিকে চেয়ার কে সুরক্ষিত রাখতে রাজনীতির সূক্ষ পরিকল্পনার অন্যতম হাতিয়ার প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রাখা। সে হিসেবে নির্বাচিত সরকারের কঠোর নজর থাকার কথা বৈষম্য বিরোধীদের দিকে। যারা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মত ক্ষমতাধর কে মাত্র এক মাসের আন্দোলনে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।তাদের বিষয়ে যে কোন রাজনৈতিক দলই সচেতন থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে তাদের মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তর্জনী তুলতে পারে এমন পক্ষকে দমিয়ে রাখাই রাজনীতির অন্যতম প্রধান কৌশল। সে হিসেবে সেইফ এক্সিট না পেলে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসলে বিপাকে পড়তে পারেন। হাসনাত,সারর্জিস,নাহিদ সহ সমন্ময়করা।অন্তর্বর্তী সরকারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন আসিফ মাহমুদ এবং নাহিদ ইসলাম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের সমালোচনা করতেও ছাড়ছেন না আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া। তাছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আগে থেকেই আসিফ নাহিদ বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কার করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের কাতারে চলে যাবেন তারা। কিন্তু হঠাৎ করেই চাউর হয়েছে হাসনাত,সারর্জিস,নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ শূন্য বাংলাদেশে তাহলে কি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হবেন তারা? যদি তাই হয়, তাহলে বড় এবং জনপ্রিয় দলগুলো কি বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবেন?
তাদের এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই হাসনাত সাজিদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তার ভাঁজ লক্ষ্য করা গেছে অনেকের কপালে। জানা যায়, হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে হাসনাত, সারর্জিস, নুসরাত, নাহিদ, আসিফ দের অনেকগুলো প্লান ছিল। প্লান এ কাজ না করলে তারা এবি,বি, সি সহ বেশ কয়েকটি প্ল্যান করে রেখেছিলেন। ঠিক একই সময়ে তাদের এক্সিট প্ল্যানও রয়েছে। কি সেই প্লান? কেউ বলছেন রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন এই তরুণ যুবকেরা। কেউবা বলছেন নতুন কোন কমিশন গঠন করে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতা করবেন তারা। আবার অন্য একদল বলছেন, আদতে পট পরিবর্তনের পর তাদের সেই এক্সিট প্লান ওয়ার্ক করছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না। আন্দোলনের সময় তারা ভেবেছিলেন মাথায় করে রাখা হবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া নেতাদের। এখন দেখা যাচ্ছে তাদের সঙ্গে সবার দূরত্ব বেড়েই যাচ্ছে। এসব নানা জনের নানা মত চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ মানুষসহ। সবকিছুই যারা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন তারা তো গুজব রটিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসলে অস্তিত্ব থাকবে না হাসনাত সারর্জিসদের। নিজেদের স্বার্থে হলেও এদের বিষয়ে মাইনাস ফর্মূলায় যাবে ক্ষমতাসীনরা। এই গুজবকে আবার তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারছেন না ছাত্রদের একটি অংশ। যে কারণে সেইফ এক্সিট হিসেবে রাজনৈতিক দল গঠন করে ঐক্যবদ্ধ থাকার চিন্তাই এখন তাদের অন্যতম টার্গেট। এমনটাই আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। তবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভালো ফলাফল বের করে আনা যেকোনো নতুন দলের পক্ষে কঠিনই শুধু নয়, অসম্ভবই বলা যায়। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়া কিংবা পাওয়া আরও দুষ্কর। সুতরাং রাজনৈতিক দল গঠন করে যে হাসনাত সারর্জিসরা ভালো কিছু করতে পারবেন, এমনটা মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাহলে কী তাদের পরবর্তী প্ল্যান?সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সাধারণ মানুষ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজাউল করিম ।। নির্বাহী সম্পাদকঃ সোলায়মান হোসাইন।। বার্তা সম্পাদকঃ জাকারিয়া আল ফয়সাল।।
যোগাযোগঃ ঠিকানাঃ হাসেম মার্কেট = কুরগাও = নবীনগর = আশুলিয়া = সাভার = ঢাকা ১২১৬। রোড নাম্বারঃ ৭৩৩ = হোল্ডিং নাম্বারঃ ৮০৫ = ফোন: 01606638418 = মেইলঃ dailynewsbangla756@gmail.com = বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদন পত্রের ক্রমিক নং: ৩৫৬-২৪ ||