সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

আজ সলঙ্গা গণহত্যা দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:৫০ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আজ সলঙ্গা গণহত্যা দিবস

সাহেদ আলী,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গাবাসীর জন্য এপ্রিল শোকের মাস। বেদনাবিধুর ২৫ এপ্রিল সলঙ্গা গণহত্যা দিবস।প্রতি বছর এপ্রিল মাস এলেই সলঙ্গবাাসীকে মনে করে দেয় ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল এই দিনের নির্মম হত্যাকান্ড।অস্ত্রে সজ্জিত বর্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে ২ শতাধীক মুক্তিকামী ও নিরীহ মানুষকে হত্যা করে।উল্লাপাড়া উপজেলার বর্তমান সলঙ্গা থানার চড়িয়া মধ্যপাড়া,পাটধারী,কালিবাড়ী,শিকার মগড়াপাড়া,চড়িয়া শিকার দক্ষিনপাড়া, গোলকপুর,কাচিয়ার চরে সংঘটিত হয়েছিল এ গণহত্যাযজ্ঞ।সিরাজগঞ্জের সর্ববৃহৎ এ গণহত্যায় প্রায় ২ শ’ জন শহীদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে রচিত হয় একটি শোকাবহ কালো দিবস।১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল পাবনা জেলার কাশিনাথপুর ডাব বাগান নামক হানাদার পাকিস্তানী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মুখ যুদ্ধে অর্ধ শতাধীক পাক হানাদার নিহত হয়।এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে পাক হানাদার বাহিনী ২৫ এপ্রিল সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট হতে কাশিনাথপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পথিমধ্যে বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল রোড গোল চত্বরের অনতিদুরে চড়িয়া শিকার নামক স্থানে রাস্তায় ব্যারিকেডের সন্মুখীন হয়ে যাত্রা বিরতি করে।তারা সন্ধান পায় চড়িয়া শিকার পুর্ব দক্ষিন পাশে অন্য একটি কাশিনাথপুর গ্রামের।হানাদার বাহিনী এই গ্রামকেই পাবনা জেলার সেই কাশিনাথপুর গ্রাম মনে করে পাক বাহিনী খুঁজতে থাকে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি। তাদের এ দেশীয় দোশর রাজাকার,আলবদরদের সহযোগীতায় পাক বাহিনী সন্ধান লাভ করে চড়িয়া মধ্যপাড়ায় ডা: শাজাহান আলী, ইয়াকুব হোসেন,মোহাম্মদ আলীসহ অন্যদের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ঘাঁটি।এই ঘাঁটি তছনছ করে দিতে শুরু হয় পাক বাহিনীর নির্মম গণহত্যা।তারা চড়িয়া শিকারসহ আশেপাশের ৩/৪ টি গ্রামের প্রায় আড়াই শত জন মুক্তিপাগল মানুষকে আটকের পর আব্দুল মজিদের পুকুরের পাশে,ইয়ার আলীর পুকুরের পাড়ে দুই লাইনে সারিবদ্ধ করে হত্যা করে।এ গণহত্যায় ঘটনাস্থলেই প্রায় শতাধীক লোক শহীদ হন।হায়েনাদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া চড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের আবুল কালাম (কাঙ্গাল মন্ডল) জানায়,তারা সুর্যোদয়ের পুর্ব হতেই নিরীহদের উপর নির্মম গুলি চালাতে থাকে।ভস্মিভুত করে এলাকার ঘরবাড়ি।পশুত্বের হাত থেকে রেহাই পায়নি কোলের শিশুও।এ গণহত্যায় শহীদদের মধ্যে ৬৩ জনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়।তারা হলেন,চড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের ডা: শাজাহান আলী, ইয়াকুব হোসেন, খলিলুর রহমান, হায়দার আলী,বাহাজ আলী,মেছের আলী, আবু বক্কার,মাহাম আলী,আজিজুল হক, আদম আলী,ইউসুফ আলী,গগন মন্ডল, ছলিম উদ্দিন, ছানোয়ার হোসেন, আবেদ আলী,আবু তাহের,আব্দুল মজিদ, দারোগ আলী,আবু তারা,আ: সামাদ মাস্টার,মজিবর রহমান,আসান আলী, শাহজাহান মন্ডল, কাইয়ুম,আব্দুল কাফি,তোমছের আলী,আ: মজিদ,আবু তালেব,কালু মিয়া, ফজলুর রহমান ফজল।কালিবাড়ি চড়িয়া গ্রামের সুজাবত আলী, হাবিবুর রহমান, আব্দুর রহমান,ছোরহাব আলী,আসগর আলী, গুটু সরকার,মুকুল সরকার,গোলকপুর গ্রামের আবু বক্কার সিদ্দিক,আব্বাস আলী মৃধা,কদম আলী,পাটধারি গ্রামের গোলাম হোসেন খন্দকার,আকদুর আলী খন্দকার,আব্দুর রাজ্জাক খন্দকার, আলকাফ হোসেন খন্দকার,জয়নুল আবেদীন খন্দকার, ময়দার ফকির, আমজাদ হোসেন তালুকদার,বাসু প্রামানিক,আব্দুস সামাদ আকন্দ, আব্দুর রশিদ আকন্দ,মোজদার আকন্দ,তাজু আক্ন্দ,মাহাতাব তালুকদার, খয়রুজ্জামান তালুকদার, আ:কাদের তালুকদার,জোনাব মন্ডল,মুকুল চৌধুরী, ফনি মীর, ননী মীর,তোমেজ খন্দকার ও নুরু মিস্ত্রী।এভাবেই আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২’শত নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে তারা হত্যা করে।সেদিনের ঘটনায় নামে ও বেনামে আরও কয়েকশ মানুষ আহত হন।দিনগুলো মনে হলে আজও বুক থর থর করে কেঁপে উঠে।

সিরাজগঞ্জ জেলার ১৮/২০ কি:মি পশ্চিমে উল্লাপাড়া উপজেলারই একটি মণোমুদ্ধকর গ্রাম চড়িয়ায় ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল ঘটেছিল নির্মম সেই ঘটনা।মনে পড়ে সেই বুক ফাড়া আর্তনাদ, চিৎকার বাঁচাও- বাঁচাও,আবার কখনও শোনা যেত একটু পানি দাও।প্রতিটি পরিবারে উপার্জনোক্ষম ব্যক্তি বাবা,ভাই অথবা স্বামী,কেউ না কেউ তখন এই গনহত্যার নির্মম শিকার হন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে চড়িয়া গ্রাম বিধবা গ্রাম হিসেবে বলতেও শোনা যেত।আজও সেই ভয়াল ২৫ এপ্রিল সলঙ্গা গণহত্যা দিবস পালিত হয়।যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে শহীদ স্মৃতি পরিষদ ও চড়িয়া জনকল্যাণ সমিতি বিভিন্ন কর্মসুচী গ্রহন করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

1

যশোরের শার্শা উপজেলার উলশি “জিয়া খাল” পরিদর্শনে আসেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম
যশোরের শার্শা উপজেলার উলশি “জিয়া খাল” পরিদর্শনে আসেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
মনা যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ
জিয়ার খাল পরিদর্শনে আসেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।বাংলাদেশ সরকারের মাননীয়  পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশীর জিয়া খাল পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে তিনি খালটি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং এর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে খালটির উন্নয়ন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সৌন্দর্যবর্ধন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে এলাকার অবকাঠামোগত প্রস্তুতি যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই এই পরিদর্শন করা হয় বলে জানা গেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আশেক হাসান, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবিরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শহীদ আলী এবং শার্শা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিমসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, জিয়ার খাল এলাকার উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সাথে খালটির পরিবেশ ও সৌন্দর্য বজায় রেখে এলাকাকে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আগত অতিথিদের সামনে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি উপস্থাপন করা যায়।

1

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৯ পিএম
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

মো. শাহীন আলম, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চানপুর গজারিয়া হাঁটি গ্রামের তিন যুবক ধান কাটতে হাওরে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. নুর জামাল (২৬), জালাল (২২) ও তোফাজ্জল হোসেন (২২) নিজ বসতঘর থেকে বের হয়ে পাগনা হাওরের নিলক্যা হাওরে তাদের জমিতে ধান কাটছিলেন। দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রাঘাতে নুর জামাল ও তোফাজ্জল হোসেন গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুর জামালকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তোফাজ্জল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে জামালগঞ্জ থানার এসআই সুপ্রাংশু দে দিলুকে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বন্দে আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে একই দিনে উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের চান্দবাড়ি গ্রামে বজ্রপাতে দুটি গাভীর মৃত্যু হয়েছে। চান্দবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গাভী দুটি স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া (৫০) ও রুকুল মিয়া (৪৭)-এর মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।

1

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার উপর হামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার উপর হামলা

oplus_0

 মোঃ ইমরান আকন্দ, জামালপুর জেলা প্রতিনিধঃ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে সেচ্ছাসেবক দল নেতার উপর হামলাকারী আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল আলম বাবুর বিরুদ্ধে থানা পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ  করেছে বিএনপির নেতারা।

শনিবার ১৮ই এপ্রিল  দুপুরে  হাইস্কুল মোড় এলাকায়, ইউনিয়ন বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা

ভুক্তভোগী বিএনপি নেতারা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ এপ্রিল রাতে উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালেরবাত্তি এলাকায় উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের উপর হামলা করে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু এবং তার লোকজন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার ৮ দিন অতিবাহিত হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক খোরশেদ আলম,

সাধুরপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনার আলী ও নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আল আমিন সহ আরো অনেকেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দরা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবুকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন জানান,

বিষয়টি সমাধানে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত মাহমুদুল আলম বাবু সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্তকৃত সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি।