সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬, ২৬ ১৪৩২
সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬, ২৬ ১৪৩২

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থেকে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প।

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৪, ৪:৫১ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থেকে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প।

মো: রনি, ধনবাড়ী টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প। বিভিন্ন উপজেলার ন্যায় ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ পৃষ্ঠপোষকতা ও নানা সমস্যার কার

এক সময়ে মাটির জিনিসপত্র তৈরিতে কুমার পাড়ায় মৃৎশিল্পীরা সারাক্ষণ ব্যস্ত সময় কাটাতেন। গ্রাম বাংলায় ধান কাটার মৌসুমে এ শিল্পে জড়িত কুমারদের আনাগোনা বেড়ে যেত। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মাটির হাঁড়ি-পাতিল বোঝাই ভাঁড় নিয়ে বিক্রেতারা দলে দলে ছুটে বেরাতেন গ্রামগঞ্জে। রান্না ও বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন রকমের হাঁড়ি-পাতিল, সরা, থালা, দোনা, ঝাঁজর, মটকি, গরুর খাবার দেওয়ার চাড়ি, কোলকি, কড়াই, কুয়ার পাট, মাটির ব্যাংক, শিশুদের জন্য রকমারি নকশার পুতুল, খেলনা ও মাটির তৈরি পশুপাখি নিয়ে বাড়ি বাড়ি ছুটে যেতেন। কিন্তু এখন কাঁচ,আর অ্যালুমিনিয়াম মেলামাইন ও প্লাস্টিকের তৈরি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে এই শিল্পটি।

ধনবাড়ী উপজেলার  বিভিন্ন এলাকার মৃৎশিল্পীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, একসময় মাটির তৈরি হাঁড়ি,পাতিল, কলসি, রঙিন ফুলদানি, ফুলের টপ, হাতি, রঙিন ঘোড়া, নানা রঙের পুতুল ও বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা সামগ্রী হাটবাজার ও গ্রামে গ্রামে বিক্রি করে অনেক লাভবান হতাম। কিন্তু এখন প্লাস্টিক ও অ্যালুমেনিয়ামের চাপে আমরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছি।

তারা বলেন,বিভিন্ন পূজাপার্বণে প্রতিমা তৈরি করে যা রোজগার করি তা দিয়ে চালাই সংসার। ধনবাড়ী  উপজেলার যদুনাথ পুর  ইউনিয়নের পালপাড়ার হরি পাল বলেন, মৃৎশিল্প আগের মতো না চলায় বাধ্য হয়ে গুটিয়ে নিয়েছি আদি ও পূর্বপুরুষের এই পেশা।

এলাকার মৃৎশিল্পী মিনাল পাল (৪৫) জানান, এমন একসময় ছিল যখন এ এলাকায় অনেকেই মৃৎশিল্পের নির্ভর করে জীবিকা চলত। বর্তমানে  এলাকায় ২৫-৩০টি পরিবার বসবাস করলেও প্রায় ১০-১২টির বেশি পরিবার তাদের বংশীয় পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশা শুরু করেছে। বর্তমানে আমরা যারা এ পেশায় রয়েছে তারা অতিকষ্টে এ পেশা ধরে রেখেছে।

মৃৎশিল্পী পলাশ পাল নেপাল পাল ও সুবাশ পাল  বলেন, পিতা-মাতার কাছ থেকে দেখে দেখে এ মাটির কাজ শিখেছিলাম। যখন এ কাজ শিখেছিলাম, তখন মাটির তৈরী জিনিসের চাহিদা ছিল ব্যাপক। একসময় এখানে ভাত, তরকারির পাতিল, বড় কলস, মটকিসহ বিভিন্ন ধরনের হাঁড়িুপাতিল আর বাচ্চাদের খেলনা মিলিয়ে ৪০-৫০ প্রকার জিনিস তৈরি করা হতো। কিন্তু চাহিদা কম ও খরচ বেশি হওয়ায় এখন আর আগের মতো জিনিসপত্র তৈরি করা হয়না।

ধনবাড়ী  পাল পারার  পরেশ পাল বলেন একসময় তাদের গ্রামের পাশের বিভিন্ন জমি থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা গাড়ি মাটি ক্রয় করতে পারতেন। তবে, এখন দেশে বেড়েছে ইটের ভাটা। যার কারণে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা গাড়ি মাটি ক্রয় করতে হচ্ছে। আগে খড়ি কেনা হতো ৮০ থেকে ১০০ টাকা মণ, যা বর্তমানে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মণ কিনতে হয়। অথচ মাটির তৈরী  জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক বাড়েনি। এ জন্য বেশি দামে মাটি, খড়ি কিনে এসব জিনিসপত্র তৈরি করে আগের মতো লাভ হয় না।

তবে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হারিয়ে যাওয়া এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় এসব মৃৎশিল্পীরা।

1

উল্লাপাড়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম
উল্লাপাড়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

সাহেদ আলী = সিরাজগঞ্জ :

যথাযোগ্য মর্যাদায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষিত নারীদের হস্তশিল্পের কারুকাজ প্রদর্শন করা হয়। আজ রবিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দিবসটির আয়োজন করা হয়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার রিমা’র সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উল্লাপাড়া-সলঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য মাও: রফিকুল ইসলাম খান। এ সময় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি,উপজেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা,নারী সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ এবং সুধীজন।
আলোচনা সভায় বক্তারা নারীর অধিকার,ক্ষমতায়ন এবং সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, নারীর শিক্ষা,কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।
শেষে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

1

সন্ধ্যার আগে সলঙ্গায় ইফতারি বাজারে ব্যস্ততা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
সন্ধ্যার আগে সলঙ্গায় ইফতারি বাজারে ব্যস্ততা

সাহেদ আলী = সিরাজগঞ্জ :

পবিত্র রমজান মাস এলেই সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকার হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে ভিন্ন এক প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। বিকেলের দিকে এসব স্থানে জমে ওঠে জমজমাট ইফতারি বাজার।ঝকঝকে দোকান বা আধুনিক পরিবেশ না থাকলেও কাঠের টেবিলের ওপর পলিথিন বিছিয়ে সাজানো হয় নানা রকম ইফতারি সামগ্রী।স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে এসব ইফতারি বাজার যেন স্বস্তির ঠিকানা।
বাজারগুলোতে ছোলা,বুন্দিয়া,মুড়ি, পিয়াজু,বেগুনি,আলুর চপ,জিলাপি, খেজুর,নিমকিসহ নানা মুখরোচক খাবার সাজিয়ে রাখা হয়।দুপুরের পর থেকেই দোকানিরা ইফতারি প্রস্তুত করে রাখেন,তবে বিকেলের দিকে ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভীড়ে পুরো বাজার প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে ঘোলের দোকানগুলোতে সারিবদ্ধভাবে বোতলে সাজানো থাকে ঠান্ডা ও সুস্বাদু ঘোল।অনেকেই আবার ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে ইফতারের জন্য বিরিয়ানির প্যাকেটও কিনে নিচ্ছেন।অধিকাংশ ইফতারি আইটেমের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে হওয়ায় সাধারণ রোজাদারদের ভীড় বেশি দেখা যায় এসব দোকানে।
বওলাতলা গ্রামের ক্রেতা হোসেন আলী বলেন,“ইফতারের সময় পরিবার নিয়ে বিভিন্ন আইটেম খেতে ভালো লাগে। তাই বাজারে এসে নিজের পছন্দমতো ইফতারি কিনছি।”
সলঙ্গা বাজারের হোটেল মালিক আব্দুল আলিম জানান,রমজানের প্রথম দিন থেকেই ইফতারির ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।তিনি বলেন,“বিকেলের পর থেকে রোজাদারদের ইফতারি দিতে দোকানে প্রচুর চাপ থাকে।আশা করছি পুরো মাসই এমন ভালো বেচাকেনা হবে ইনশাআল্লাহ।”
অন্যদিকে সলঙ্গা বাজারের পাপিয়া হোটেলের মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন,“রমজান মাস এলেই সকাল থেকেই ইফতারি প্রস্তুত করি।বিকেল থেকে বিক্রি শুরু হয়,আর সন্ধ্যা যত ঘনিয়ে আসে মানুষের তাড়াহুড়াও তত বাড়ে।”
দশানী পাড়ার দোকানি শাহাদাত হোসেন জানান,সারা বছর তিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করেন।তবে রমজান এলেই ছোলা ও বুন্দিয়া বিক্রি শুরু করেন।তিনি বলেন, “মাগরিবের আজান পড়তেই মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে যায় ফুটপাতের এসব ইফতারি দোকান।তখন সবাই দ্রুত ইফতার করতে চলে যায়।”
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন,পুরো রমজান জুড়ে যদি এমন ক্রেতার সমাগম থাকে তাহলে তাদের ব্যবসা ভালো হবে।তবে ক্রেতাদের দাবি, ইফতারি পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

1

নবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে র‍্যালিও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:২০ পিএম
নবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে র‍্যালিও আলোচনা সভা

মোঃ রেজুয়ান বাদশা = দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নারী সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় নারীরা অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নারীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে এবং তাদের ক্ষমতায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও উন্নত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
পরে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নারী অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমাজে নারীর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।