শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ ১৪৩২
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ ১৪৩২

হাওরে কান্দা কাটায় গোখাদ্য ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৫, ৯:০৪ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাওরে কান্দা কাটায় গোখাদ্য ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস

 

বিশেষ প্রতিনিধি::

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলাসহ জেলার সবকটি হাওরে অপরিকল্পিত ভাবে পতিত কান্দা কাটার (গর্তের) মহোৎসব যেন থামছে না । ফসল রক্ষা বাঁধের নাম করে কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েও চলছে হাওরের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড। কান্দা কাটার মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে সাময়িক ফসল রক্ষা হলেও এই প্রক্রিয়ায় গোটা হাওরাঞ্চলকে বিপন্নের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, বলছেন
হাওরপাড়ের কৃষক ও সচেতন মানুষেরা।
সরকার কর্তৃক অপরিকল্পিত মাটির প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ব্যক্তি স্বার্থেও তছনছ করা হচ্ছে হাওরের বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসে ডাকা কান্দাগুলো। এতে অস্তিত্ব সঙ্কট দেখা দিয়েছে হাওরের। অবাধে কান্দা কাটার এই প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে না পারলে বহুবিধ সমস্যার সম্মুখীন হবে হাওর। এ নিয়ে কারও মাথা ব্যথা নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কৃষকেরা ।

উপজেলার যে সব হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নেই সেখানে ও মাটি কাটার ধ্বংসস্তুপ থেকে রেহাই পাচ্ছে না কান্দাগুলো। হাওরাঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব কান্দা কেটে অবাধে মাটি বিক্রি করছে ট্রলি চালকেরা। মাটি কাটতে কেউ বাঁধা দিলে তার উপর চড়াও হয় ট্রলি ও চালক চক্র। এদের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালীরাও জড়িত। ব্যক্তি স্বার্থ এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হাওরের প্রাণ-প্রকৃতি বিলীন হলেও দেখার যেন কেউ নেই। প্রতি বছর কান্দা কাটার ফলে হিজল-করচ, নলখাগড়া ও ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ উর্বর কান্দা যেন ডোবা-নালায় রূপ নিয়েছে। অতীতের বিস্তীর্ণ গোচারণ ভূমি, এখন যেন গর্তে পরিপূর্ণ। হাওর বিধ্বংসী ভেকু মেশিনের দিয়ে ছিন্নভিন্ন করা হচ্ছে কৃষকের ধান মাড়াই, খড় শুকানো ও গবাদি পশু চড়ানোর শেষ ভরসাটুকু। ভাটির উপজেলা শাল্লার নদীবেষ্টিত হাওরের যেসব স্থানে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে সেইসব জায়গার অধিকাংশই প্রায় কান্দাশূন্য হয়ে পড়েছে।

ভান্ডাবিল হাওরের বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, শিবপুর গ্রামের পূর্বদিকের বিশাল কান্দা শ্রীহীন হয়ে গেছে অপরিকল্পিত গর্তে।
অপরদিকে, বড় হাওর ছায়ার অংশের কর্তিকপুর থেকে শ্রীহাইল গ্রাম
পর্যন্ত হাওরের অনেক কান্দাই আর কান্দা নেই । হাওরের গোপে-গেফে অল্পবিস্তর যা আছে তাও প্রায় ধ্বংসের পথে। বাঁধ মেরামতের নামে প্রতি বছর হিজল-করচের গোড়ার অংশ ও ঝোপঝাড় কেটে যেভাবে মাটি নেওয়া হচ্ছে, তাতে অবশিষ্ট কান্দাও বিলীন হওয়ার পথে। এতে হাওরের নানা প্রজাতির উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকিতে রয়েছে ।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাওর বুকে পতিত উঁচু সমতল ভূমিকে কান্দা বলা হয়। প্রকৃতিগতভাবেই এগুলোর সৃষ্টি হয়েছে। ধানি জমির পাহারাদার হিসেবে জেগে থাকে শত বছরের পুরোনো ওই কান্দা। কৃষকের জীবন-জীবিকার সাথে ওতোপ্রোতভাবে মিশে আছে হাওর পারের পতিত এ গোচারণ ভূমি। যেখানে অযত্নে বেড়ে ওঠে হিজল, করচ, বরুণ, নলখাগড়া, ঢোলকলমি, চাইল্লাবন, বল্লুয়া, বেত, বনতুলসী, বন গোলাপের ঝোপঝাড়সহ গুল্মজাতীয় হরেক প্রজাতির উদ্ভিদ। হাওরের ওই গাছ-গাছড়ায় দেশীয় পাখি, সাপ, গিরগিটি, মেছোবাঘ, শিয়াল, বেজি, বন বিড়ালসহ নানা জাতের বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। বর্ষা মৌসুমে এসব তলিয়ে গেলে দেশীয় প্রজাতির মাছের অভয়ারণ্যে হিসাবে পরিচিত।

উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামের সবজি চাষী বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, কান্দার দিকে থাকালে খুব কষ্টলাগে। যে কান্দায় ছোট বেলায় গরু চড়াতাম এখন এসব বিলিন হচ্ছে চোখের সামনে। বাঁধের নাম করে এসব কান্দায় গর্ত তৈরি করে গোখাদ্যের বারোটা বাজিয়ে দিল।

আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদ নগর গ্রামের বড় কৃষক হাবিবুর রহমান হবিব বলেন, হাওরে অপরিকল্পিত কান্দা কাটার ফলে পরিবেশ বিপর্যয় সহ গোখাদ্য ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। বছর বছর কান্দা কাটার কারণে গরু-বাছুরের ঘাস খাওয়ার জায়গা বিলীন হচ্ছে। ফসল তোলার মৌসুমে ধান-খড় মাড়াই ও শুকানোর জায়গাও ফুরিয়ে যাচ্ছে। কান্দা কাটায় হাওরের গাছ-গাছালি ও জীবজন্তুর উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি আরও বলেন, হাওরের এই ক্ষতি কোন কিছুর বিনিময়ে পোষানো সম্ভব নয়। যদিও ফসল রক্ষায় বাঁধের প্রয়োজন। তবে যে করেই হোক ফসল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সুপরিকল্পিতভাবে হাওরের উন্নয়ন করা জরুরি ।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, বাঁধ রক্ষায় যে কান্দাগুলো কাটা হচ্ছে সেগুলো হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে থাকে। এভাবে কান্দা কেটে বাঁধ নির্মাণ মানে হাওরের অপমৃত্যু ঘটানোর সামিল। এর মাধ্যমে হাওরে দীর্ঘ ক্ষতের সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাই কান্দা ধ্বংস না করে বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বললেন, হাওরের প্রকৃতি ও পরিবেশ ঠিক রেখে বাঁধের ব্যাপারে ইতিমধ্যে কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ ঢেকে আরমানিং করে স্থায়ী বাঁধ করা হচ্ছে। বন্যা পুনর্বাসন জরুরী সহায়তা প্রকল্পের আওতায় এই কাজ চলমান আছে। ধীরে ধীরে এর প্রসার আরও বাড়ানো হবে। ####

1

মারা গেছেন সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী ও এমপি রমেশ চন্দ্র সেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৩ এম
মারা গেছেন সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী ও এমপি রমেশ চন্দ্র সেন

 

মোঃ রানা ইসলাম = ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:

দিনাজপুর কারাগারে বন্দী অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন (৮৫) মারা গেছেন। শনিবার(৭ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
কারাগার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রমেশ চন্দ্র সেন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। আজ সকালে কারাগারে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া এলাকার নিজ বাসভবন থেকে রমেশ চন্দ্র সেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দিনাজপুর কারাগারে বন্দী ছিলেন।

রমেশ চন্দ্র সেন ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি দলটির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সদস্য ছিলেন।

1

শিবচরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৯ পিএম
শিবচরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

শিবচর মাদারীপুরের শিবচরে পুকুরের পানিতে ডুবে আদনান নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবচর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের খানকান্দি এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
​নিহত শিশু আদনান ওই এলাকার সৈয়দ জনির ছেলে।
​ঘটনার বিবরণ: পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে সবার অলক্ষ্যে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় আদনান। দীর্ঘক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে শিশুটিকে ভাসতে দেখা যায়।
​দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আদনানকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
​পুলিশের বক্তব্য: শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
​ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরণের দুর্ঘটনা রোধে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

1

ক্ষমতায় গেলে ‘স্বর্ণের বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি পীর সাহেবের চরমোনাইয়ের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৬ পিএম
ক্ষমতায় গেলে ‘স্বর্ণের বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি পীর সাহেবের চরমোনাইয়ের

 

​ এস এম সোহাগ কাজী =মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:

​ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সবুজ বাংলা বা ডিজিটাল বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে এ দেশে প্রকৃত ‘স্বর্ণের বাংলা’ নির্মাণ করবে।
​বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর শহরের স্বাধীনতা অঙ্গনে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
​বক্তব্যের মূল বিষয়সমূহ:
​জনসভায় মুফতি রেজাউল করিম বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ইসলামের সুশাসন নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন:
​একমাত্র বিকল্প: তিনি দাবি করেন, দেশের একমাত্র দল হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামের পক্ষে নির্বাচন করছে এবং ভোটারদের ‘হাতপাখা’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
​ তার মতে, সুনির্দিষ্ট নীতি ও যোগ্য নেতা ছাড়া দেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়।
​ইসলামের মানবিক রূপ: পীর সাহেব বলেন, “ইসলাম শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, বরং সব মানুষ এমনকি একটি পিঁপড়িকার স্বাধীনতার গ্যারান্টিও ইসলাম দেয়।”
​ তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে অনেক নেতার নীতি দেখা গেলেও বাস্তবে মানুষ যা চায়, তার প্রতিফলন ঘটেনি।
​​মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আমিনুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন:
​মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম: সিনিয়র নায়েবে আমির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
​মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী: কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক।
​মাওলানা আকবার হোসাইন: প্রার্থী, মাদারীপুর-১ আসন।
​মাওলানা আলী আহমাদ চৌধুরী: প্রার্থী, মাদারীপুর-২ আসন।
​মাওলানা আজিজুল হক: প্রার্থী, মাদারীপুর-৩ আসন।
​বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র কায়েমের জন্য কর্মীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।