বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

আবেগের কফিনে গাঁথা এক জীবনের কবরগাথা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ মে, ২০২৫, ৭:৩০ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আবেগের কফিনে গাঁথা এক জীবনের কবরগাথা

 

লেখক জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান:

সে ছিল স্বপ্নবতী এক তরুণী—চেহারায় মাধুর্য, মননে দীপ্তি। চোখে ছিল স্বপ্ন, হৃদয়ে ছিল নির্মল আকাঙ্ক্ষা। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়ার সময় একদিন স্বাভাবিকভাবেই বাবার কাছে বিয়ের কথা তুলেছিল সে। নারীত্বে পা রাখা কিশোরীর হৃদয়ে যে স্বপ্ন জন্ম নেয়, সেটিই শুধু একটু প্রকাশ পেয়েছিল।

কিন্তু বাবার কণ্ঠে বজ্রধ্বনি,
“আগে পড়াশোনা শেষ করো। অন্য কথা পরে ভাবা যাবে।”

বাবার আদেশ অমান্য করার মতো দুঃসাহস কিংবা ইচ্ছা—কোনোটিই ছিল না তার। তিনি ছিলেন বাবার একনিষ্ঠ, অনুগত কন্যা। তাই আবেগের পাপড়ি মুড়িয়ে গুটিয়ে নিলেন স্বপ্নগুলোকে, মুঠো করে ধরলেন শিক্ষা আর আত্মউন্নয়নের দিশা।

সময় গড়ালো। পোস্টগ্র্যাজুয়েট শেষ করলেন, তারপর পিএইচডি। জ্ঞানের সিঁড়ি বেয়ে উঠে এলেন সম্মানিত উচ্চতায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হলেন, শিক্ষকতা পেলেন গৌরবের আসনে। কিন্তু হৃদয়ের গহীনে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস প্রতিদিন একটু করে ভারি হতে থাকল।

সেই সময় তাঁর জন্য একাধিক বিয়ের প্রস্তাব এল। সহকর্মী কিংবা শুভানুধ্যায়ীরা প্রস্তাব রাখলে, বাবার সাড়া একটাই,
“না।”

ছেলেটির চেহারা ভালো না, কারও আয় কম, কারও আবার পারিবারিক পটভূমি পছন্দ নয়। মেয়ের জন্য তিনি খুঁজছিলেন ‘নিখুঁত’ কাউকে—যিনি বাস্তবে কখনোই ছিলেন না। বাবা ভুলে গিয়েছিলেন, এই দুনিয়ায় কেউই নিখুঁত নয়। এমনকি তাঁর মেয়েও না।

বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। যে মেয়েটি এক সময় প্রাণবন্ত ছিল, সেই আজ নিঃসঙ্গতার নিঃশব্দ ঘরে বন্দি। হৃদয়ে জন্ম নিয়েছে বিষণ্নতা, বিষাদ। ডিপ্রেশন হয়ে দাঁড়ায় তার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী।

একদিন সামান্য অসুস্থতা তাকে হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকেই তার জীবনের শেষ অধ্যায় শুরু হয়। শেষ মুহূর্তে বাবাকে ডেকে বললেন—

“বাবা, বলুন আমিন।”
“আমিন।”
“আবার বলুন আমিন।”
“আমিন।”
“আরও একবার বলুন আমিন।”
“আমিন।”

তারপর কণ্ঠে বিষণ্ন দাহ নিয়ে বললেন:
“ওয়াল্লাহি! আল্লাহর কসম! আল্লাহ যেন আপনাকে আখিরাতে জান্নাতের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করেন, যেভাবে আপনি আমার যৌবনে আমাকে বিয়ের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করেছেন।”

আকাশ যেন থমকে দাঁড়াল। বাতাস থেমে গেল এক মুহূর্ত। একজন কন্যার বুকভাঙা অভিশাপ—যে তার বাবার কাছেই স্বপ্ন জমা রেখেছিল, ভালোবাসা খুঁজেছিল।

এই গল্পটি কেবল একজন নারীর নয়।
এ আমাদের সমাজের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া একটি বাস্তবতা। এখনো বহু মেয়ের জীবন এমনভাবে ঝরে যায়, যারা ‘উচ্চমানের পাত্র’ পাওয়ার প্রতীক্ষায় তাদের যৌবনের সর্বোত্তম সময়টুকু বিসর্জন দেন। তারা রাজপ্রাসাদ চায় না, চায় না ধনরত্নে ভরা রাজপুত্র—শুধু চায় একটু সহানুভূতি, ভালোবাসা আর নিরাপত্তার আশ্রয়।

সময়ের প্রতি উদাসীনতা, বাবা-মায়ের অতিরিক্ত প্রত্যাশা আর ভুল সিদ্ধান্ত— সব মিলিয়ে মেয়েটির জীবনে রয়ে যায় নিঃসঙ্গতার দীর্ঘশ্বাস।

মা-বাবাদের প্রতি বিনীত আহ্বান,

সময়মতো বিয়ে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি জীবনের ভারসাম্য রক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
অন্যথায়, সেই অভিশাপের ভার হয়তো শুধু এ দুনিয়ায় নয়—আখিরাতেও বইতে হবে।

লেখক ও কলামিস্ট, শিক্ষার্থী, ফ্যাকাল্টি অব থিওলজি, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর
যোগাযোগ
✆ +201503184718

1

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে স্কুলের টিউবওয়েলের বিষাক্ত পানি পান করে অসুস্থ ৩০ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি — পরিদর্শনে এমপি লাভলু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে স্কুলের টিউবওয়েলের বিষাক্ত পানি পান করে অসুস্থ ৩০ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি — পরিদর্শনে এমপি লাভলু

 

নিজস্ব প্রতিবেদন :

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানি পান করে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা দুইজন শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে বিষাক্ত কোনো রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে দেয়। ফলে পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ে এবং সেই পানি পান করেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার ( গত, ২৩ জুন) রাতে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের বর্তমান অবস্থা জানতে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন টাঙ্গাইল-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ রবিউল আওয়াল লাভলু।
এ সময় তাঁর সহধর্মিনী, নাগরপুর মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মনোয়ারা বেগম মুকুল উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে এমপি লাভলু চিকিৎসকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন এবং এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নাগরপুর উপজেলা শাখা ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ, আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

1

বকশীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:০৬ পিএম
বকশীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন

oplus_0

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ:

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে চন্দ্রবাজ রশিদা বেগম স্কুল এন্ড কলেজের হলরুমে বীরমুক্তিযোদ্ধা আফসার আলীর উদ্যোগে কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সাদিয়া আফরিন ।

বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আফসার আলীর সভাপতিত্বে কুইজ প্রতিযোগিতায় এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ আমিনুল ইসলাম,  চন্দ্রবাজ রশিদা বেগম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, সমাজ সেবক দেলুয়ার হুসেনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞান ভিত্তিক এই কুইজ প্রতিযোগিতায় উপজেলার ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহন করেন। পরে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন অতিথি’রা।

1

বকশীগঞ্জে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘পার্টনার’ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম
বকশীগঞ্জে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘পার্টনার’ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে

Oplus_131072

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ।

জামালপুরের বকশীগঞ্জে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতায়‘পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা সরকারি গণগন্থাগার  হল রুমে এই পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  জামালপুর জেলার খামার বাড়ীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলম শরিফ খান ।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি জামালপুরের  প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা পিনক কুমার সাহা ,  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা নওশেদ আলী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার শাকিল প্রমুখ।

দিনব্যাপী এই কংগ্রেসে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক টেকসই কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক রূপান্তর নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় পর্যায়ের কৃষি উদ্যোক্তা, সফল চাষী এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।