রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

কুরবানী: নৈকট্য ও আত্মিক পবিত্রতার রাজপথ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ জুন, ২০২৫, ৬:১৩ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুরবানী: নৈকট্য ও আত্মিক পবিত্রতার রাজপথ

 

আম্মার হোসাইন:

কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি ইসলামের নিদর্শন ও তাওহিদের বহিঃপ্রকাশ। কুরবানী—শুধু একটি ধর্মীয় বিধান বা পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি এক গভীর আত্মিক সাধনার প্রতীক, এক অনন্য ত্যাগ ও নিবেদনের ইবাদত। এটি এমন এক প্রার্থনা, যেখানে অস্তিত্বের অন্তরতম প্রিয় বস্তুটিকেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করতে হয়। আর এই আত্মোৎসর্গের মাধ্যমেই মুমিন হৃদয় আল্লাহর সান্নিধ্যের সোনালি আলোয় উদ্ভাসিত হয়।

ইসলামে কুরবানির শাব্দিক অর্থই হলো “নিকটবর্তী হওয়া”। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই এর চূড়ান্ত লক্ষ্য। একজন প্রকৃত মুমিন যখন তার কষ্টার্জিত সম্পদ থেকে একটি নির্দিষ্ট পশু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে, তখন সেটি শুধু রক্ত ও গোশতের বিনিময় হয় না—বরং আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায় তার নিয়ত, তাকওয়া ও নিষ্ঠা।

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন:
“তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর।” (সূরা কাওসার: ২)

আল্লাহ তায়ালা অন্য আয়াতে বলেন,
“এগুলোর (কুরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা হজ: ৩৭)

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন:
“আর উট ও গরুকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি, এতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে।” (সূরা হজ্জ: ৩৬)

হাদিসভিত্তিক দলিলসমূহ:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“কিয়ামতের দিন কুরবানির পশু তার শিং, চামড়া ও খুরসহ নিয়ে হাজির হবে। আর রক্ত জমিনে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়। সুতরাং তা খুশি মনে করো।” (সুনান ইবনু মাজাহ: ৩১২৭, সহীহ)

“কুরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকি লেখা হয়।” (সুনান তিরমিযী: ১৪৯২)

“ঈদুল আযহার দিনে মানুষের যে কাজটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়, তা হচ্ছে কুরবানির পশুর রক্ত প্রবাহিত করা।” (সুনান তিরমিযী: ১৪৯৩)

সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এই কুরবানী কী?’ তিনি বললেন, ‘এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিম (আঃ)-এর সুন্নত।’ (সুনান ইবনু মাজাহ: ৩১২৬)

ইতিহাসগত প্রেক্ষাপট:

ইব্রাহিম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ)-এর কুরবানী।
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) যখন স্বপ্নে তার প্রিয় সন্তান ইসমাঈল (আঃ)-কে কুরবানী করার নির্দেশ পান, তখন তিনি তা পালন করতে প্রস্তুত হন। আল্লাহ তাদের এই আত্মত্যাগের মনোভাবের কদর করেন এবং একটি পশু দ্বারা ইসমাঈল (আঃ)-কে মুক্ত করে দেন। ইব্রাহিম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ)-এর কুরবানির ঘটনার শেষে আল্লাহ বলেন:
“আর আমি তাঁর পরিবর্তে একটি মহান কুরবানী দিলাম।” (সূরা সাফফাত)

এই ঘটনাই কুরবানীর প্রকৃত তাৎপর্য: আল্লাহর জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা। আল্লাহর পথে কোনো ত্যাগই বড় নয়, বরং ত্যাগের মানসিকতাই একমাত্র পথ যা আমাদের আল্লাহর দরজায় পৌঁছে দেয়। কুরবানির মাধ্যমে মানুষ আত্মতুষ্টি ও পার্থিব মোহকে ছিন্ন করে, লোভ-অহংকার ত্যাগ করে এক পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণের দিকে এগিয়ে যায়। এটি কেবল আল্লাহর পথে পশু জবাই নয়; বরং নিজের কামনা, অহংকার ও স্বার্থপরতাকেও জবাই করার অনন্য অনুশীলন।

এই ভাবগম্ভীর ও মহিমান্বিত ইবাদতের মাধ্যমে মুমিন হৃদয়ে জাগে এক গভীর সংযোগ—প্রভুর সঙ্গে আত্মার কথোপকথন। তখন আর কুরবানি কেবল ঈদের দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা হয়ে ওঠে হৃদয়ের গভীর আরাধনা, জীবনের একটি রূপান্তরময় বাঁক।

কুরবানির উপকারিতা:
আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম এটি। কুরবানী মানুষকে শিক্ষা দেয় ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের। এর মাধ্যমে সমাজে গড়ে ওঠে সহমর্মিতা ও দানশীলতার চর্চা। কুরবানীর গোশত ধনী-গরিব সবার মাঝে বন্টন হয়, যা সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে শক্তিশালী করে।

রাসূল (সা.) বলেন:
“তোমরা খাও, সংরক্ষণ করো এবং গরিবদের খাওয়াও।” (তিরমিযী)

এটি সুন্দর চরিত্র গঠনে সহায়ক। ত্যাগ, নিয়ত বিশুদ্ধতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কুরবানী ব্যক্তি চরিত্রে নৈতিক দৃঢ়তা আনে। মানুষ লোভ, কার্পণ্য ও অহংকার থেকে মুক্ত হয়।

এছাড়া কুরবানী ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও শীয়ার। এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও তাওহিদের দৃষ্টান্ত। এটি ইসলামের একটি পরিচয়—যা মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও ইবাদতে দৃঢ় রাখে।

তাই আসুন, আমরা এই কুরবানির মৌসুমে শুধুমাত্র পশু জবাই করে না, বরং আমাদের অন্তরের গ্লানি, অহংকার, হিংসা ও গর্বকেও আল্লাহর রাহে উৎসর্গ করি—যাতে করে তাঁর রহমত, নৈকট্য ও ভালোবাসা আমাদের জীবনে নেমে আসে অফুরন্ত বরকতের বৃষ্টি হয়ে।

শিক্ষার্থী, ইসলামি আইন বিভাগ, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

1

যশোরের শার্শা উপজেলার উলশি “জিয়া খাল” পরিদর্শনে আসেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম
যশোরের শার্শা উপজেলার উলশি “জিয়া খাল” পরিদর্শনে আসেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
মনা যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ
জিয়ার খাল পরিদর্শনে আসেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।বাংলাদেশ সরকারের মাননীয়  পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশীর জিয়া খাল পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে তিনি খালটি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং এর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে খালটির উন্নয়ন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সৌন্দর্যবর্ধন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে এলাকার অবকাঠামোগত প্রস্তুতি যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই এই পরিদর্শন করা হয় বলে জানা গেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আশেক হাসান, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবিরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শহীদ আলী এবং শার্শা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিমসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, জিয়ার খাল এলাকার উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সাথে খালটির পরিবেশ ও সৌন্দর্য বজায় রেখে এলাকাকে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আগত অতিথিদের সামনে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি উপস্থাপন করা যায়।

1

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৯ পিএম
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

মো. শাহীন আলম, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চানপুর গজারিয়া হাঁটি গ্রামের তিন যুবক ধান কাটতে হাওরে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. নুর জামাল (২৬), জালাল (২২) ও তোফাজ্জল হোসেন (২২) নিজ বসতঘর থেকে বের হয়ে পাগনা হাওরের নিলক্যা হাওরে তাদের জমিতে ধান কাটছিলেন। দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রাঘাতে নুর জামাল ও তোফাজ্জল হোসেন গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুর জামালকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তোফাজ্জল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে জামালগঞ্জ থানার এসআই সুপ্রাংশু দে দিলুকে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বন্দে আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে একই দিনে উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের চান্দবাড়ি গ্রামে বজ্রপাতে দুটি গাভীর মৃত্যু হয়েছে। চান্দবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গাভী দুটি স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া (৫০) ও রুকুল মিয়া (৪৭)-এর মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।

1

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার উপর হামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার উপর হামলা

oplus_0

 মোঃ ইমরান আকন্দ, জামালপুর জেলা প্রতিনিধঃ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে সেচ্ছাসেবক দল নেতার উপর হামলাকারী আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল আলম বাবুর বিরুদ্ধে থানা পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ  করেছে বিএনপির নেতারা।

শনিবার ১৮ই এপ্রিল  দুপুরে  হাইস্কুল মোড় এলাকায়, ইউনিয়ন বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা

ভুক্তভোগী বিএনপি নেতারা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ এপ্রিল রাতে উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালেরবাত্তি এলাকায় উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের উপর হামলা করে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু এবং তার লোকজন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার ৮ দিন অতিবাহিত হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক খোরশেদ আলম,

সাধুরপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনার আলী ও নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আল আমিন সহ আরো অনেকেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দরা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবুকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন জানান,

বিষয়টি সমাধানে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত মাহমুদুল আলম বাবু সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্তকৃত সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি।