1
পূর্ব এনায়েত নগরে মাসিক সমন্বয় সভা: গ্রাম আদালত নিয়ে জনসচেতনতার ডাক

এস এম সোহাগ কাজী = মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:
মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদে মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল তৃণমূল পর্যায়ে বিচার ব্যবস্থা সহজীকরণ ও গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা।
পূর্ব এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নেয়ামুল হক আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নারী ও পুরুষ সদস্যবৃন্দ (মেম্বার) এবং হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ আওলাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
গ্রাম আদালত: স্বল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার
সভায় গ্রাম আদালতের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন গ্রাম আদালতের ডাসার ও কালকিনি উপজেলা কো-অর্ডিনেটর নাসির উদ্দিন লিটন। তিনি উপস্থিত সদস্যদের মাঝে প্রকল্প থেকে প্রেরিত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।
আলোচনায় তিনি গ্রাম আদালতের গুরুত্ব তুলে ধরে কয়েকটি মূল পয়েন্ট ব্যাখ্যা করেন:
গ্রাম আদালত কি: এটি স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি আইনি মাধ্যম, যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমেই ছোটখাটো সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়।
কেন গ্রাম আদালতে যাবো: আদালত বা থানায় না গিয়ে নিজ এলাকায় দ্রুত, সস্তায় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে বিচার পাওয়ার জন্য গ্রাম আদালত সেরা বিকল্প।
আর্থিক এখতিয়ার: গ্রাম আদালত অনধিক ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে।
নামমাত্র খরচ: এখানে মামলার আবেদন ফি অত্যন্ত সীমিত। ফৌজদারি মামলার ফি মাত্র ১০ টাকা এবং দেওয়ানি মামলার ফি মাত্র ২০ টাকা। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো খরচ নেই।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা
উপজেলা কো-অর্ডিনেটর নাসির উদ্দিন লিটন বলেন, “ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে সাধারণ মানুষ যেন থানা বা কোর্টে গিয়ে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য আমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গ্রাম আদালত সক্রিয় রাখার অনুরোধ জানাই।” তিনি আরও জানান, গ্রাম আদালত সাধারণত ৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানই এই আদালতের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ
সভার শেষ পর্যায়ে উপস্থিত মেম্বার ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান যে, বিতরণকৃত লিফলেটগুলো যেন শুধু নিজেদের কাছে সীমাবদ্ধ না থাকে। এগুলো বাড়ি নিয়ে গিয়ে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশীকে পড়ে শোনাতে হবে। সাধারণ মানুষ গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জানলে মামলা-হামলার চাপ কমবে এবং গ্রামীন শান্তি বজায় থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান মোঃ নেয়ামুল হক আকন গ্রাম আদালতকে আরও শক্তিশালী করতে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন




