1
মাদারীপুরে তুহিন হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহত পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

এস এম সোহাগ কাজী -মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:
মাদারীপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার সৈয়দ তুহিন হাসান হত্যা মামলার আসামিদের দীর্ঘদিনেও গ্রেপ্তার না করায় সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় মাদারীপুর সদর থানাধীন কুকরাইল এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল হোসেনের নিজ বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন টেলিভিশন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত তুহিন হাসানের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, তার ছেলে সৈয়দ তুহিন হাসান শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার ছিলেন। গত ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই তিনি মাদারীপুর সদর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দৈনন্দিন কাজ তদারকির জন্য গেলে সেখানে কতিপয় সন্ত্রাসী তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা তাকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করে।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিবারের কাছে তুহিনের মৃত্যুকে ‘হার্ট অ্যাটাক’ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। তবে পরে পরিবারের সন্দেহ হলে তার মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে নিহতের বেতনভুক্ত নাইটগার্ড মো. মোশারফ মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানান। মোশারফ জানান, চাঁদা দাবি ও টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তুহিনকে হত্যা করে।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে গত ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিহত তুহিনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর পাঁচ মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখনো হত্যাকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও রহস্যজনক। বরং আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নিহতের পরিবারকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “পরিস্থিতির কারণে আসামিদের নাম আজকের সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করছি না। তবে আমি আশা করি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।”










