শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হারাম সম্পর্ক থেকে মুক্তির পথ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৮:৪৯ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হারাম সম্পর্ক থেকে মুক্তির পথ

 

মুফতী মুহাম্মাদ আস‌আদ:

মানুষের হৃদয় ভালোবাসার জন্যই সৃষ্টি। ভালোবাসা আমাদের অন্তরকে পূর্ণতা দেয়, জীবনে উষ্ণতা নিয়ে আসে। কিন্তু সব ভালোবাসা কল্যাণকর নয়। এমন কিছু ভালোবাসা আছে, যা হৃদয়কে আলোকিত করে, আত্মাকে প্রশান্তি দেয়, আর কিছু ভালোবাসা আছে, যা অন্তরকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে, ঈমানকে দুর্বল করে দেয়।

একটি নিষিদ্ধ সম্পর্ক হয়তো প্রথমে সুখের অনুভূতি দেয়, কিন্তু ধীরে ধীরে তা আত্মাকে বিষাক্ত করে, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। তাই আসো, আজ আমরা সেই পথের সন্ধান করি— যে পথ পবিত্রতার, যে পথ আত্মার মুক্তির, যে পথ জান্নাতের!

হারাম সম্পর্ক: শয়তানের সূক্ষ্ম ফাঁদ

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:

তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ এবং অত্যন্ত মন্দ পথ।(সূরা আল-ইসরা: ৩২)

দেখো, আল্লাহ বলেননি ব্যভিচার কোরো না বরং বলেছেন তার কাছেও যেও না! অর্থাৎ ব্যভিচারের দিকে নিয়ে যাওয়া যাবতীয় মাধ্যম, যেমন হারাম সম্পর্ক, বেহায়াপনা, নিষিদ্ধ বন্ধুত্ব এগুলো থেকেও দূরে থাকতে হবে।

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন:
পাপচক্রের শুরু হয় এক নিষিদ্ধ দৃষ্টি থেকে, তারপর তা কল্পনায় আসে, তারপর আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়, এরপর হৃদয়ে বাসা বাঁধে, অবশেষে শরীর তা বাস্তবায়ন করে!

আজ তুমি যদি কারো প্রতি এক নিষিদ্ধ টান অনুভব করো, মনে রেখো, এটি একদিন তোমার ঈমানকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে!

নিষিদ্ধ সম্পর্কের পরিণতি: অন্তরের ব্যথা ও আল্লাহর দূরত্ব

একটি হারাম সম্পর্ক প্রথমে হয়তো মধুর মনে হয়, কিন্তু তা ধীরে ধীরে অন্তরে গভীর শূন্যতা, হতাশা ও বিষণ্নতা এনে দেয়।

রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন:

যখন একজন বান্দা গুনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। যদি সে তওবা না করে, তবে দাগটি বড় হতে থাকে, যতক্ষণ না তার পুরো হৃদয় অন্ধকার হয়ে যায়! (তিরমিজি: ৩৩৩৪)

তুমি কি এমন একটি সম্পর্ক চাও, যা তোমার ঈমানকে দুর্বল করে, তোমার দোয়া কবুলের পথ বন্ধ করে, এবং তোমার অন্তরকে আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করে?

ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেন:
যখন কোনো পাপ কাজ করো, তখন দেখো তোমার অন্তর শান্ত থাকে নাকি অশান্ত হয়ে যায়! যদি তোমার অন্তর সংকুচিত ও অস্থির হয়ে যায়, তবে বুঝে নাও, তুমি ভুল পথে চলে গেছো!

মুক্তির পথ: নিষিদ্ধ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার উপায়

১️সত্যিকারের অনুশোচনা ও তওবা**
আল্লাহ বলেন:
হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না! নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। (সূরা আজ-জুমার: ৫৩)

তওবার দরজা এখনও খোলা! এখনই আল্লাহর কাছে ফিরে যাও।

২️ সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করো— কোনো দ্বিধা ছাড়াই!
আল্লাহ বলেন: তোমরা শয়তানের পদচিহ্ন অনুসরণ কোরো না।(সূরা আন-নূর: ২১)

একটি পাপ থেকে বের হতে চাও? তাহলে সেই পাপের দিকে নিয়ে যাওয়া সমস্ত মাধ্যম ধ্বংস করো!

তার নম্বর, মেসেজ, ছবি— সবকিছু মুছে ফেলো!
এমন বন্ধুদের এড়িয়ে চলো, যারা তোমাকে আবারও এই পথের দিকে টেনে আনবে।

৩️:-একাকীত্ব ও অলসতা এড়িয়ে চলো

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন:
যে ব্যক্তি অলসতা ও ফাঁকা সময়কে গুরুত্ব দেয় না, শয়তান তার মনকে গুনাহের দিকে নিয়ে যায়!

তাই, নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখো। যদি তুমি ব্যস্ত না থাকো, তবে পাপ তোমাকে ব্যস্ত করে ফেলবে!
৪️- প্রকৃত ভালোবাসার সন্ধান করো— যা জান্নাতে নিয়ে যাবে!
রাসূল সা.বলেছেন:
যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্য কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে পূর্ণ ঈমানের অধিকারী!(আবু দাউদ: ৪৬৮১)
সত্যিকারের ভালোবাসা সেই, যা আল্লাহর পথে টেনে নেয়, না যে পাপের পথে নিয়ে যায়।  যারা পবিত্রতা রক্ষা করে, তাদের পুরস্কার কী?
আল্লাহ বলেন:
যারা নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের নেয়ামত।(সূরা আল-মুমিনুন: ৫-১১)
রাসূল সা. বলেছেন:যে ব্যক্তি তার দুই ঠোঁট ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের দায়িত্ব নেয়, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।(বুখারি: ৬৪৭৪)
আল্লাহ তোমার জন্য উত্তম কিছু সংরক্ষণ করে রেখেছেন!
তুমি যদি আজ হারাম সম্পর্কের মোহ ছেড়ে দিতে পারো, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার জন্য তার চেয়েও ভালো কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন!
রাসূল সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।(আহমাদ: ২০৭২৪)

মানুষ কখনো চাই না, সাময়িক মোহে পড়ে হৃদয়কে ধ্বংস করে দিতে।
চাই চিরস্থায়ী সুখ, যা জান্নাতের পথে নিয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখুন এবং পবিত্র ভালোবাসার পথে পরিচালিত করুন! আমীন!

আরবি প্রভাষক, দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা

1

বকশীগঞ্জের সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর।

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
বকশীগঞ্জের সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর।

মোঃ ইমরান আকন্দ, জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে ২৪ ঘন্টা শুন্য রেখায় আটকে থাকার পর উদ্ধারকৃত ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মনের নিকট ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে হস্তান্তর করে বিজিবি ও বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ।

এসময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন, জামালপুর ৩৫ বিজিবির ধানুয়া কামালপুর কোম্পানি কমান্ডার বিল্লাল হোসেন সহ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের শুন্য রেখা থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয় ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে।

ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের ভাই ভবানী বর্মন জানান, ২ মাস আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চান্দলাই গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন ষষ্ঠী বর্মন (৬৮)। তাকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায় নি।

গতকাল বুধবার সকালে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ পিলারের কাছ দিয়ে জোর করে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ সদস্যরা। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয়এলাকাবাসীর বাধার কারণে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এনিয়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। দিনভর উত্তেজনার পর বৃহস্পতিবার শুন্য রেখা থেকে উদ্ধারের পর থানায় সোপর্দ করে বিজিবি। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলো ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে।

1

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বকশীগঞ্জে গাছের চারা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৯:০৫ পিএম
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বকশীগঞ্জে গাছের চারা বিতরণ

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ।

প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণায়’ জলবায়ুর জন্য ‘আমাদের ভবিষ্যতের জন্য “এই পতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯জুন) সকালে উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে দিগলা কোনা মিশন স্কুলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আলোক কোরে -২ প্রকল্পের আয়োজনে ৫ শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
গাছের চারা বিতরণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।
এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ আমিনুল ইসলাম, আলোক কোরে -২ প্রকল্পের সভাপতি এল, এম,সি অনন্ত ম্রং, ফাদার ইলিয়াস হেমব্রম পাল পুরোহিতী ধর্ম পল্লী, আলোক কোরে -২ প্রকল্প মাঠ কর্মকর্তা অতুল ম্রং, বকশীগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের উপজেলা প্রতিনিধি এমদাদুল হক লালনসহ আরো অনেকেই।
অনুষ্ঠানে আম, লেবু, মেহগনি, লিচু,অর্জুনসহ বিভিন্ন প্রজাতি ৫ শতাধিক গাছ বিতরণ করা হয়।

1

বকশীগঞ্জে মাদক সেবী আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ জনের সাজা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম