বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

পর্দার অধিকার নিশ্চিত সহ ১৩ দফা দাবি -ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র জনতার।

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ৭:৫৬ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পর্দার অধিকার নিশ্চিত সহ ১৩ দফা দাবি -ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র জনতার।

গোলাম আলী নাইম, ঢাকা বিশেষ প্রতিনিধি:

শাতিমে রাসূলের মৃত্যুদণ্ড, রাষ্ট্রদ্বীন ইসলামের বিরোধীতাকারীদের মৃত্যুদণ্ড, পর্দার অবমাননাকারীদের মৃত্যুদণ্ড, ইসকন এবং উগ্র হিন্দু সন্ত্রাসীদের মৃত্যুদণ্ড, নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে হিন্দু অপসারণ, হিন্দুত্ববাদ দমন ও কুকুর নিধন, ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিহতকরণ, ধর্মব্যবসায়ী মুনাফিক ওলামায়ে ছ’দের সমাজচ্যুতকরণ, ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা জারী, আমদানী শুল্ক বৃদ্ধি ও ভ্যাট হ্রাসকরণ, চিকিৎসায় কুফরী মেডিটেশন পদ্ধতির বদলে শরয়ী মুরাকাবা পদ্ধতি জারীসহ সমসাময়িক বিভিন্ন

সমস্যা সমাধানে ১৩ দফা দাবীতে প্রতিবাদ সমাবেশ

অনেক কুরবানী। মাধ্যমে অর্জিত মুসলমানদের এই স্বাধীনদেশে দেশী-বিদেশী অপশক্তি দেশের স্বাধীনতা এবং মুসামানদের কাত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নে প্রেক্ষিতে দেশের চলমান সমস্যাসমূহের সমাধানে ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক জনতা ১৩ দফা দাবী উত্থাপন করেছে। বহুদিন ধরেই ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা এই দাবীগুলো জানিয়ে আসছে আজ ৪ জানুয়ারি শনিবার বাদ আছর মালিবাগ মোড়ে ফালইয়াফরাহ চত্ত্বরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে ভারা এই দাবীগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন। দাবীসমূহ হলোঃ

১ম দফা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুনুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমূল সালাম উনাদের মুবারক শানে কোন কুলাঙ্গার মানহানী করলে তার শরঈ শাস্তি মৃত্যুদন্ড বাস্তবায়ন করতে হবে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে ইহানত করার অপরাধে প্রধান উপদেষ্টাকে ফমা চাইতে হবে নয়তো বিচারের আওতায় আনতে হবে। পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে কেউ উনার মুবারক শানে বেয়াদবি করলে তার শরয়ী শাস্তি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের দেশ থেকে বাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। পাঠ্যক্রমে নূরে মুসজাসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র জীবনী মুবারক অন্তভুক্ত করতে হবে এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম নির্ভর শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে আরবী ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে মুসলমানদেরকে জুলুম করা হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তার প্রতিবাদ এবং প্রতিকার করতে হবে।

২য় দফা- অবশ্যই এই দেশের রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম অক্ষুন্ন রাখতে হবে। যারা যাষ্ট্রদ্বীন ইসলামের বিরোধীতা করবে তাদেরকে গ্রেফতার করে মৃত্যুদণ্ড শাস্তি দিতে হবে।

৩য় দফা- পর্দা করা মুসলমানদের দ্বীনী অধিকার। মুসলমান মেয়েদের জন্য সর্বক্ষেত্রে পর্দার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পর্দাকে অবমাননার করার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখতে হবে।

৪র্থ দফা- পরুনা গোস্ত খাওয়া এবং গরু কুরবানী করা ইসলামের শেয়ার বা নিদর্শন। তাই দেশের সকল খাবার হোটেলে গরুর গোস্ত রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে, না রাখলে হোটেল বন্ধ ঘোষণা করতে হবে। পৃথিবীর কোনো দেশে গরুর গোস্ত বা গরু কুরবানী নিষিদ্ধ করতে পারবেনা- এই ব্যাপারে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

৫ম দফা- মানুষের কল্যাণের জন্য অবিলম্বে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করতে হবে। পাশাপাশি কুকুর পূজারীদেরকে গ্রেফতার করে শান্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৬ষ্ঠ দফা- নারিকেল দ্বীপ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বিদেশী চক্রান্ত প্রতিহত করতে হবে। নারিকেল জিনজিরা দ্বীপকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। নারিকেল জিনজিরা দ্বীপে পর্যটন প্রবেশে আলাদা সরকারী অনুমতি নেয়ায় নিয়ম বাতিল। করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও রাজ্য প্রথা বাতিল করে সারা দেশের মতই একই আইন চলতে হবে। উপজাতিদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলতে হবে, আদিবাসি বলা যাবেনা। যারা উপজাতিদের আদিবাসী বলে প্রচার করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৭ম দফা- ইসকন, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বিদ্যানন্দ সহ হিন্দুত্ববাদী সকল সংগঠনকে নিসিদ্ধ করতে হবে। রাইিয়োধী অখণ্ড ভারতের প্রচারকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে। ইসকন নেতা সন্ত্রসী চিন্ময় এবং তার সহযোগীসহ সকল ওরাসন্ত্রসী হিন্দু নেতাদের ফাঁসি দিতে হবে। ‘বিদ্যানন্দ’কে কোনো প্রকার সাহায্য বা সহযোগীতা করা যাবেনা।

৮ম দফা- মুসলমানদের পরিচয়ে থাকার পরও যেসন্ত ধর্মব্যবসায়ী ওলামায়ে ছারা হিন্দুদের দালালী করে, মুসলমানদেরকে হিন্দুদের সাথে সম্প্রীতি করতে বলে, মন্দির পাহারা দেয়, মূর্তি বানাতে উৎসাহিত করে, মুসলমানদেরকে পর্দার ব্যাপারে শিথিল হতে বলে তাদেরকে মুনাফিক এবং প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। এদেরকে সমাজচ্যুত করতে হবে। এদের পিছনে নামাজ পড়লে নামাজ হবেনা। এদেরকে মসজিদ-মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৯ম দফা- হরুল ইবাদ রক্ষার্থে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য এবং চিকিৎসা সেবার মূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। দ্রব্যমূল্য এবং চিকিৎসামূল্যের উর্ধগতি রোধ করতে হবে। বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দিতে হবে। দেশের অসহায় মানুষদেরকে চলমান শীতের কষ্ট থেকে রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ করতে হবে। *দেশের অর্থনীতি আমদানি নির্ভর না করে উৎপাদনমুখী করতে হবে। শুল্ক, কর, ভ্যাট ইত্যাদি কমিয়ে দিয়েঃ কাষ্ট্রের তরফ থেকে বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে দেশীয় শিল্পকে উৎপাদনে উৎসাহিত করতে হবে। ইহুদিবাদী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে ৬৫ পণ্য ও সেবার ভ্যাট-সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। দেশের স্বার্থে আমদানী পণ্যের উপরে শুদ্ধ বৃদ্ধি করে দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের উপর ভ্যাট কমাতে হবে। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, এলপি গ্যাস, খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উপর ভ্যাট হার বৃদ্ধি দ্রব্যমূল্য বাড়াবে। তাই দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের উপর ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেশকে গরীব করার জন্য একটি বড় ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রমূলক আত্মঘাতী এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অন্তবর্তী সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে এবং অর্থ উপদেষ্টাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। দেশের খনিজ সম্পদ রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানীকে দিয়ে অনুসন্ধান ও উত্তোলন করতে হবে। শেভরন বা অন্য কোনো বিদেশী কোম্পানীকে দিয়ে তেল-গ্যাস বা খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান এবং উত্তোলন করা যাবেনা। পরিবেশবাদের মিথ্যা অজুহাতে দেশের শিল্পকে এবং দেশের মানুষের রুটি রুজির পথকে বাঁধাগ্রস্থ করার অপরাধে পরিবেশ উপদেষ্টা রেজওয়ানাকেও বহিষ্কার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। *দেশের গৌরবময় শিল্প কৃষিতে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কৃষিব্যয় তথা সার, বীজ, সেচ এর দাম কমাতে হবে। কৃষিখাতে এবং গোবাদি পশু পালন, পাখি পালন, মৎস্যচাষে সরকারীভাবে ভর্তুকি দিতে হবে।

১০ম দফা- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, হতাশা, বিষণ্ণতা, অনিদ্রা, বাতব্যথা, অ্যালার্জি, আইবিএস, গ্যাস্ট্রিক, আলসারসহ নানা সাইকোসোমাটিক রোগের নিরসনে চিকিৎসার সহায়ক হিসেবে কাফির মুশরিকদের পদ্ধতি ‘মেডিটেশন’, ‘ইয়োগা’ বা ‘যোগ ব্যায়ম’ বাদ দিতে হবে। বেদ্বীন-বদদ্বীনদের এইসব নিয়মের পরিবর্তে শরীয়তসম্মত পদ্ধতি ‘মোরাকাবা’ এবং দমচর্চার পরিবর্তে শরীয়তসম্মত পদ্ধতি ‘পাছ আনপাছ যিকির’ চালু করতে হবে। পবিত্র দ্বীন ইসলামে অন্তর বা মনের চিকিৎসা এবং মন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ‘কলবী যিকির’ করার তরতীব রয়েছে। এই সম্পর্কিত জ্ঞানকে ইলমে তাসাউফ বলা হয়। এই জ্ঞান অর্জনকে ইসলামে ফরজ করা হয়েছে।

১১তম দফা- দেশের এবং ইসলামের রক্ষার্থে সরকারী-বেসরকারী চাকুরী থেকে, নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খরলাবাহিনী থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ উপজাতিসহ সমস্ত বিধর্মীদের বহিষ্কার করতে হবে এবং নতুন ফগো কোনো বিধর্মীদের নিয়োগ দেয়া যাবেনা। অর্পিত সম্পত্তির কালো আইন এবং দেবোত্তর সম্পত্তির কালো আইন বাতিল করতে হবে। ভারতের গোলামী আর হিন্দু তোষণ নীতি বাদ দিতে হবে। সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার জন্য ভারতের কাছে জবাব চাইতে হবে, ধিক্কার জানাতে হবে এবং এর বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ভারতীয় এবং বিদেশী সব ধরণের আগ্রাসন প্রতিহত করতে হবে। বিধর্মীদের কোনো ধর্মীয় দিবসের ছুটিকে বাধ্যতামূলক করা যাবেনা, ঐচ্ছিক করতে হবে।

১২তম দফা দেশের শিক্ষা এবং সংস্কৃতি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আলোকেই হতে হবে। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১০ হাজার চারুকলা, দান-বাজনার শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং ইতোমধ্যে চারুকলার শিক্ষক নিয়োগও ঢক করে দিয়েছে। পবিত্র দ্বীন ইসলামে গান-বাজনা করা হারাম। সংস্কারের নামে গান-বাজনার প্রচার প্রসার করা, চার-কলার নামে হারাম হিন্দুয়ানি ও অনৈসলামিক শিক্ষার প্রচার করা যাবেনা। এই দেশে হিন্দুয়ানি শিক্ষা প্রচারের অপরাধে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা কাট্টা মুশরিক বিধান পোদ্দারকে বহিষ্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আবার কোনো দিবস উদযাপন নামে বেহায়াপনা, গানবাজনা, অশ্লীল কনসার্ট, মদপানসহ সকল হারাম কাজকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এর বিপরীতে সামা ও দোয়ার মাহফিল করতে হবে। সংস্কারের অজুহাতে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ফারুকি ‘সংস্কৃতি কমিশন গঠনের মাধ্যমে বহু সংস্কৃতি, বহু ধর্মের বিকাশের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্কৃতির নামে এলজিবিটিকিট সংস্কৃতি ছড়ানো যাবেনা। বহু ধর্মের বিকাশের নামে পবিত্র দ্বীন ইসলাম বাদ দিয়ে অন্যান্য কুফরী ধর্ম প্রচার করা যাবেনা। দেশের মানুষের বিশ্বাসের সাথে প্রতারণা করে অপসংস্কৃতি প্রসারের অপরাধে তারা চতিও সংস্কৃতি উপদেষ্টা ফারুকীকেও বহিষ্কার করে বিচার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

১৩ তম দফা- বাংলাদেশে সমস্ত অপকর্মের হোতা হচ্ছে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার। তাই অতি দ্রুত প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের প্রকাশনা বাতিল করে এর সাথে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করে ফাঁসি দিতে হবে। মিডিয়া সন্ত্রাস বন্ধ করার পাশাপাশি সমাজের অবক্ষয় রোধকল্পে রাষ্ট্রীয়ভঅবে অতিদ্রুত ইন্টারনেটে অশ্লীলতা বন্ধ করতে হবে। ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো সমাজে অপসংস্কৃতি ছড়ায়। ভারতীয় সল্প চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় অপ্রচার, মিডিয়া সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। বিদেশী অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে দেশকে রক্ষা করা সবকারের দায়িত্ব।

1

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি তালিকায় ড. ইসরাফিল শাহীন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি তালিকায় ড. ইসরাফিল শাহীন
মোঃ রানা ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান ড. ইসরাফিল শাহীন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (ভিসি) হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিমনাদের মধ্যে আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ড. ইসরাফিল শাহীন (মোহাম্মদ ইসরাফিল) ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেশের একজন খ্যাতিমান থিয়েটার নির্দেশক, গবেষক ও শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত। ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে ১৯৯১ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৯৯ সালে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের স্ট্রিট থিয়েটার বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে সিনিয়র প্রফেসর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল, ভুটান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মিশর, ফিলিপাইন, ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড, ফ্রান্স ও চেক প্রজাতন্ত্রে কর্মশালা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
পদ্ধতিগত অভিনয়, স্থানীয় নাট্যরীতি, নৃবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং মিতব্যয়ী দৃশ্যরূপে তাঁর কাজ বিশেষভাবে প্রশংসিত। থিয়েটারকে সমাজমুখী ও অংশগ্রহণমূলক ধারায় প্রতিষ্ঠা করতে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় আসায় জেলাবাসীর মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

1

বকশীগঞ্জে অবৈধ জ্বালানি তেল ট্যাঙ্কিতে সংগ্রহের দায়ে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
বকশীগঞ্জে অবৈধ জ্বালানি তেল ট্যাঙ্কিতে সংগ্রহের দায়ে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Oplus_131072

 মোঃ ইমরান আকন্দ, (জামালপুর জেলা) প্রতিনিধিঃ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে অবৈধ পন্থায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ কালে শাকিল মিয়া (২২) নামে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড  করেছেন ভ্রম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনে এই জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনে অবৈধ পন্থায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ সময় শ্রীবরদী উপজেলার কোর্নঝোড়া ইউনিয়নের জাহান আলী ছেলে শাকিল মিয়া কে আটক করা হয়। পরে অবৈধ পন্থায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১০ হাজার জরিমানা করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসমা-উল- হুসনা, ট্যাগ অফিসার কামরুজ্জামান সহ অনেকেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন। দৈনিক ইনকিলাব ও দৈনিক আজকের বসুন্ধরাকে জানান, দেশের জ্বালানি সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত তেল নেয়া, মজুত রাখা, প্রতারণা ও অনিয়ম ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

1

নাগরপুরে ধলেশ্বরী দাপানো সেই অবৈধ ড্রেজার গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৬ পিএম
নাগরপুরে ধলেশ্বরী দাপানো সেই অবৈধ ড্রেজার গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

সোলাইমান হোসাইনঃ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ফসলি জমি ও নদী রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের কলমাইদ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধ ড্রেজারসহ বালু উত্তোলনের বিপুল সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। ​রাজনৈতিক খোলস পাল্টেও শেষ রক্ষা হলো না ড্রেজার মালিক রমজানের। ​অনুসন্ধানে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রমজান আলী এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে ভোল পাল্টাতে পটু এই জনপ্রতিনিধি বিগত আওয়ামী সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে মাটির ব্যবসা চালালেও বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নদী ও কৃষিজমি উজাড় করছিলেন। প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে এবং কথিত কিছু সংবাদকর্মীকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আসছিলেন। তবে সোমবারের অভিযানে তার সেই অবৈধ তৎপরতা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। ​ ​অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায়, নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে কলমাইদ এলাকার ফসলি জমিগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া বর্ষার আগেই নদীতীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল। জনস্বার্থ বিবেচনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীপ ভৌমিকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলেই ড্রেজিং পাইপ ও মেশিনারি সরঞ্জাম বিনষ্ট করে। ​ ​অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীপ ভৌমিক সংবাদ মাধ্যমকে জানান: ​”পরিবেশ বিধ্বংসী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা আপসহীন। প্রভাবশালী যেই হোক না কেন, সরকারি সম্পদ ও জনপদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হবে না।” ​অভিযানকালে নাগরপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও আতঙ্ক কাটেনি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, অভিযান পরবর্তী সময়ে চক্রটি যেন পুনরায় নদী দখল করতে না পারে, সেজন্য স্থায়ী নজরদারি প্রয়োজন।