বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ছয় সাত মাস ধরে বিএনপির প্রতি অবিচার হচ্ছে তারাকান্দা সম্মেলনে দাবি: বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১:১৫ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ছয় সাত মাস ধরে বিএনপির প্রতি অবিচার হচ্ছে তারাকান্দা সম্মেলনে দাবি: বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানের

 

মোঃ কামরুল হাসান (লিটন):

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান। শনিবার বিকেলে তারাকান্দায় ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির জনসভায় বক্তব্য রাখছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান। শনিবার বিকেলে তারাকান্দায়
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘বাবারা, যদি নতুন দল করো, তাহলে মাঠে আইসা করো। সিংহাসনে থাইক্যা কিংস পার্টি করলে দেশের মানুষ মেনে নেবে না। যারা তোমাদের পেছনে মদদ দিচ্ছে, আফগানিস্তান, সিরিয়ার মতো যারা দেশকে পদদলিত করে রাখতে চায়, দেশের মাটিতে তা কখনো সম্ভব হবে না।’

আজ শনিবার ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফজলুর রহমান এসব কথা বলেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে তারাকান্দা উপজেলার নতুন বাজার এলাকার একটি মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
৬-৭ মাস ধরে বিএনপির প্রতি অবিচার হচ্ছে দাবি করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘এখন নির্বাচন হলে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিএনপি জয়ী হবে। কিন্তু সেই বিএনপিকে ঠেকাতে ষড়যন্ত্র চলছে। আর যারা এ কাজটি করছে, গত ২০ বছর তারা আমাদের নেত্রীর আঁচলতলে ছিল। মুক্তিযুদ্ধ হলো দেশের মা। সেই যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়া। সেই মুক্তিযুদ্ধকে যারা পদদলিত করতে চায়, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, আমরা জিতেছিলাম, আপনারা পরাজিত হয়েছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে ফজলুর রহমান আরও বলেন, ‘বেইমান, মিরজাফর ও ষড়যন্ত্রকারীরা হেরে যাবে। ইসলামের নামে ব্যবসা করে দেশের মানুষকে ভোলাতে পারবেন না। ইসলামকে বিক্রি করে রাজনীতি করতে আইসেন না। বেডাগিরি করতে চাইলে নিজের মার্কা নিয়ে আসেন। ১০ শতাংশ ভোট পাইলে স্যালুট দিব। ইসলাম নিয়ে যারা ব্যবসা করে, দেশের মানুষ তাদের ভোট দিবে না।’

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ইউনূস সাহেবকে বলে দিতে চাই, কার পক্ষে দেশের জনগণ আছে, তার জন্য নির্বাচন দরকার। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য কী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন আছে? তাহলে আপনারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন করতে চাইছেন? শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। হাসিনাকে তাড়াইছি, এখন প্রথমে হবে জাতীয় নির্বাচন, এটি কি ইউনূস সাহেব বোঝেন না।’
ফজলুর রহমান বলেন, ‘আজ থেকে ১০ বছর আগে তারাকান্দায় অমানুষের রাজত্ব ছিল। নির্বাচনী সভায় এসে রক্তাক্ত হয়েছিলাম। ২০১৪ সালে শেখ হাসিনা ওয়াদা ভঙ্গ করে দিনের ভোট রাতে করল। নিশিরাতের ভোটে এমপি-মন্ত্রী হলো। হাসিনা দেশকে শেষ করল। ২০২৪ সালে হাসিনা আমি-ডামি ইলেকশন করছে। উনি এত ক্ষমতাশালী মনে করতেন যেন চৌঠা আসমানে উঠে গেছে। ১৫ বছরের শাসনে দেশের মানুষকে অত্যাচার করেছেন। দিনের পর পর দিন মানুষ জেল-জুলুম খেটেছেন। শত শত মামলা মাথায় নিয়ে বিএনপি নেতারা ঘুরে বেড়িয়েছেন। ঢাকা শহরে গিয়ে রিকশা ঠেলেছেন। তারপরও দল ছাড়েননি। যেখানেই বিএনপির মিছিল দেখেছেন, সেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। জেলে থাকায় মা মরেছেন, বাবা মরেছেন, দেখতে পারেননি। বিএনপি নেতা-কর্মীর মতো জেল আর কখনো কেউ খাটেননি। তারপরও বিএনপির একজন কর্মীও কমেনি।’
বেলা চারটায় সমাবেশ শুরুর আগে জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, ফুলপুর, তারাকান্দা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম এনায়েতউল্লাহ কালাম। উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কোনো টালবাহানা ছাড়া দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। দল বড় করার জন্য আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করা হবে না। যারা এটি করতে চাইবে, তাদের প্রতিহত করা হবে।

1

বকশীগঞ্জে আইন – শৃঙ্খলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ পিএম
বকশীগঞ্জে আইন – শৃঙ্খলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

oplus_0

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ:

 

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় আইন – শৃঙ্খলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন )  সকাল ১১ টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় এসময় বক্তব্য রাখেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আসমা- উল – হুসনা

বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন ,উপজেলা প্রণীসম্পদ কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন, উপজেলা কৃষি অফিসার আমিনুল ইসলাম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মানিক সওদাগর, সাধারন সম্পাদক জাহিদুর ইসলাম প্রিন্স , বিজিবির কম্পানি কমান্ডার বিল্লাল হোসেন,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক  বীরমুক্তিযোদ্ধা নওশেদ আলী, মেরুচর ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মন্জু, বগারচর ইউনিয়র পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত)  চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ, বাট্টাজোড় ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান লিটন আকন্দ, বকশীগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের উপজেলা প্রতিনিধি এমদাদুল হক লালন ও  উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আরটিভির প্রতিনিধি জিএম ফাতিউর হাফিজ বাবুসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

সভায়, সীমান্তে পুশইন নিয়ে উত্তেজনা, পৌর শহরে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যানজট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করা, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা , হাসপাতালে দালাল নির্মূল করা, মাদকের  বিরুদ্ধে  অভিযান পরিচালনা করা, চুরি ছিনতাইসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

1

বকশীগঞ্জে জাতীয় ফল মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে।

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪:২৬ পিএম
বকশীগঞ্জে জাতীয় ফল মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে।

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ:

করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের বকশীগঞ্জে দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফল মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ ফল মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আসমা উল হুসনা, প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া আফরিন,  কৃষি অফিসার আমিনুল ইসলাম , উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্সসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ও মৌসুমি ফলের মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী করা হয়। দর্শনার্থীরা ফলের বিভিন্ন জাত, পুষ্টিগুণ ও চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। এ সময় বক্তারা দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ফল চাষে কৃষকদের আরও উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

1

পাসপোর্ট অফিসে গোপন সংকেতের খেলা: দালাল ধরলেই মিলছে দ্রুত সেবা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
পাসপোর্ট অফিসে গোপন সংকেতের খেলা: দালাল ধরলেই মিলছে দ্রুত সেবা
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে নিয়ম মেনে পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিলে ত্রুটি দেখিয়ে বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। তবে দালল ধরে ফরম জমা দিলে সেটি সহজেই জমা দেওয়া যাচ্ছে। এর জন্য দালালদের মাধ্যমে পাসপোর্ট অফিসকে দিতে হচ্ছে ঘুষ। অনিয়ম-দুর্নীতি যেন এখানে নিয়ম ও নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
হাসমত আলীর বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে। নিজের পাসপোর্টের আবেদন ফরম জমা দিতে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস। তাঁর কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, আবেদনপত্রের একটি বিশেষ পাতা। ওই পাতায় লেখা একটি বিশেষ ‘সংকেত’। সেই সংকেতটি ইংরেজিতে লেখা দুইটি বর্ণ। বর্ণের পাশে হাইফেন দিয়ে লেখা দুইটি ইংরেজি সংখ্যা। এ কোড দেখে পাসপোর্ট অফিসের ফরম জমা নেওয়া কর্মচারী কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই আবেদনটি জমা নিয়ে নিলেন। গত ১০ জুন বেলা পৌনে বারোটার দিকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে এমন ঘটনা ঘটে।
এর কিছুক্ষণ আগে আবেদন জমা দিতে না পেরে হতাশ হয়ে বের হন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আজমতপুর এলাকার তরুণ রাব্বি আহমেদ। তাঁর আবেদনটি ‘ত্রুটি’ থাকায় জমা নেওয়া হয়নি। এরপর রাব্বি আহমেদ তাঁর দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে অফিসের বাইরে একটি দোকানে যান দালাল ধরতে। রাব্বি আহমেদ বলেন, ‘আমার সব কাগজ ঠিকই ছিল। তবে জমা না নিয়ে পরের দিন যেতে বলল।’
এক শ্রেনীর দালাল চ্যানেল ফাইল করে দেয় বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে ২ হাজার ৫ শত টাকা করে বেশি নেওয়া হয়। এ টাকার মধ্যে ১ হাজার ১০০ টাকা দেওয়া হয় পাসপোর্ট অফিসকে। বাকি টাকা দালালদের পকেটে।
সরেজমিনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সামনে দেখা যায়, সকাল থেকেই সেখানে অনেক দালাল ঘুরতে থাকে। পাসপের্ট আবেদন করার জন্য লোক আসামাত্রই দালালরা সেবা গ্রহীতাদের ইশারায় এবং কখনো সরাসরি তাদের মাধ্যমে পাসপোর্ট করতে বলে। দালালদের মাধ্যমে জমা দেওয়া পাসপোর্টের আবেদন ফরমকে বলা হয় ‘চ্যানেল ফাইল’। চ্যানেল ফাইলের বিষয়ে কথা হয় তিনজন দালালের সঙ্গে। শুরুতে তাঁরা এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানান, পাসপোর্ট অফিসের এ ধরনের দালালির বিষয়টি মোটামুটি ‘ওপেন সিক্রেট’। প্রতিটি দোকান থেকে চ্যানেল ফাইল করে দেওয়া হয়। বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয়। এ টাকার মধ্যে ১ হাজার ১০০ টাকা দেওয়া হয় পাসপোর্ট অফিসে। বাকি টাকা দালালদের পকেটে। এভাবে ময়মনসিংহ পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।
চ্যানেল ফাইলটি করা হয় অত্যন্ত কৌশলে। আবেদপত্রটি জমা দেওয়ার সময় যেকোন একটি কাগজের দুটি কপি করা হয়। অতিরিক্ত ওই কপিতে লেখা হয় গোপন সংকেতটি। পরে অফিসে জমার নেওয়ার পর সংকেত লেখা অতিরিক্ত কাগজটি খুলে ফেলা হয়। খুলে ফেলা কাগজটি গোপনে সংরক্ষণ করেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মী। পরে গোপনে জমা রাখা ওইসব কাগজ দেখে হিসাব করে দালালদের কাছে থেকে সপ্তাহের প্রতি বুধবার ‘পাওয়া’ টাকা আদায় করে পাসপোর্ট অফিস। এভাবেই দিনের পর দিন চলছে ঘুষ বাণিজ্য।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালকে আশিষ কুমার দাসের                                                                                                                                                                                                                                                                                                  মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি এই বিষয়ে আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে, লিখিত ভাবে আমার কাছে দেন, আমি দেখবো। আমার জানামতে এখানে কোন ঘুষ বানজ্য হয় না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘুষে আদায়কৃত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পান সহকারী-পরিচালক আশিষ কুমার দাস  ও উপ-সহকারী পরিচালক । বাকি টাকা দারোয়ান থেকে শুরু করে অফিস স্টাফদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়। এছাড়া ঘুষের ভাগ পান কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অসাধু সদস্য এবং অখ্যাত পত্রিকার নামধারী সাংবাদিক। তবে এসব বিষয়ে সরাসরি কেউ মুখ খুলতে রাজি হয়নি।
দুদক অফিস পাশে, তবুও নীরবতা!
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় এই পাসপোর্ট অফিসের পাশের ভবনেই অবস্থিত। ৫ আগস্টের পর দুদক ময়মনসিংহের বিভিন্ন সরকারি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করলেও পাসপোর্ট অফিসে কখনো কোন অভিযান পরিচালনা করেনি। এ বিষয়ে দুদকের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মককার মুঠোফোনে বলেন, আমি তিন মাস আগে ময়মনসিংহের দায়িত্ব পেয়েছি এরমধ্যে পাসপোর্ট অফিসে অভিযান পরিচালনা হয়নি। আমার জানামতে ৫ আগস্টের পর কোন অভিযান পরিচালিত হয়নি।