শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

বিএনপির নেতা রনির বিরুদ্ধে জমি দখল ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২ জুন, ২০২৫, ৭:২৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিএনপির নেতা রনির বিরুদ্ধে জমি দখল ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া-নোয়াপাড়া গ্রামে বিএনপি নেতা ওয়াদুদ রনি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জমি দখল, দোকানে হামলা, নারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি, এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যমতে, তারা শুধু বারবার নির্যাতনের শিকারই হননি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে সহযোগিতার পরিবর্তে ঘুরানো হয়েছে এবং ভয় দেখানো হয়েছে ‘মাদকের মামলা’ দিয়ে চালান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ,

অত্যাচারের মাত্রা ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় হতাশ হয়ে অবশেষে ভুক্তভোগী পক্ষ কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পক্ষে দাখিলকৃত অভিযোগপত্র ও এজাহারের সত্যায়িত অনুলিপি আমাদের প্রতিনিধির হাতে এসেছে, যেখানে অভিযুক্ত হিসেবে বিএনপি নেতা ওয়াদুদ রনি, ইউপি সদস্য মামুন মেম্বারসহ আরও কয়েকজনের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শারমিন ও শিরিন আক্তার সহ আরও কয়েকজন নারীর রক্তাক্ত ছবি আমাদের হাতে এসেছে, যেগুলো ঘটনার ভয়াবহতা ও পৈশাচিকতার প্রমাণ বহন করে।ছবিতে দেখা যায়—নারীদের মাথা, মুখ, হাতসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। এছাড়া দোকানের ভাঙচুরেরও ভিডিও ও স্থিরচিত্র রয়েছে।

নারীদের গায়ে হাত তোলা, গালিগালাজ, বাজারে প্রকাশ্যে হামলা হুমকি ,
ভুক্তভোগী শারমিন বলেন—“ওরা এসে বললো, ‘এই জায়গা আমাদের, বের হয়ে যা।’ আমরা বাধা দিলে ওরা আমার আর আমার মেয়ের গায়ে হাত তোলে, কিল-ঘুষি মারে। বাজারের লোকজন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে, কেউ কিছু বলতে সাহস করে না। পরে হুমকি দেয়—‘বিএনপি করি, মামলা করলেও কিছু হবে না।’”

পুলিশ তদন্তে এলেও প্রতিকার মেলেনি, উল্টো হুমকি একপর্যায়ে থানার এসআই জাহাঙ্গীর ফোর্সসহ এসে সিভিল পোশাকে তদন্ত করলেও ফল মেলেনি। বরং তার পরই আবারও হামলা হয়, এবং ভুক্তভোগীদের বলা হয়—‘মাদকের মামলা দিয়ে চালান দিব।’

জমি দখলের অভিযোগে একাধিক পরিবার উচ্ছেদ ,স্থানীয়রা জানান, ওয়াদুদ রনি ও তার অনুসারীরা রাতের আঁধারে জমি দখল করছেন। কেউ চাষাবাদ করলেও ‘ভুয়া কাগজ’ দেখিয়ে উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক নারী বলেন,
“আমার স্বামীর জমিতে কাজ করছিলাম, ওরা এসে বললো এই জমি তাদের। তুলে দিয়ে গালিগালাজ করে বলে, ‘বিএনপি করি, কিছু করতে পারবি না।’”

এ ঘটনায় বাজারের সিসিটিভি ও মোবাইল ফুটেজে দেখা গেছে—ওয়াদুদ রনির অনুসারীরা একাধিক নারীকে গালিগালাজ ও গায়ে হাত দিচ্ছে। এই ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
কেউ কেউ মন্তব্য করেন—“এখনই যদি এমন করে, ক্ষমতায় গেলে তো নারীরা ঘর থেকেও বের হতে পারবে না।”

থানার ওসি বলছেন, অভিযোগ পাননি; ভুক্তভোগীরা বলছেন, তারা ফিরিয়ে দিয়েছেনব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি আবুল হাসান বলেন,“এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।”কিন্তু ভুক্তভোগী শারমিন বলেন “আমরা রক্তাক্ত অবস্থায় গিয়েছিলাম, ওরা বলেছে আগে চিকিৎসা নেন, পরে মামলা নেবো। পরে আর কেউ কথা বলেনি।”

নারী-শিশুর নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রশ্নের মুখে ,একজন মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন,“আমার মেয়েকে বাজারে মারধর করে রক্তাক্ত করলো, আর কেউ কিছু বললো না? দেশে কি আইন নাই? আমরা কি সাধারণ মানুষ হয়ে বাঁচতে পারবো না?”এই ঘটনায় শুধু নারী নির্যাতন নয়, বরং রাষ্ট্রের আইন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

প্রশাসন ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল বলছে,একাধিক ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শী, রক্তাক্ত ছবি, এবং আদালতে দায়ের করা মামলার নথি থাকা সত্ত্বেও যদি এখনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়—তা হলে এ দায় প্রশাসনেরও থাকবে। তারা অবিলম্বে

মামলার দ্রুত তদন্ত,অভিযুক্তদের গ্রেফতার,ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার তদন্ত দাবি করেছেন।

প্রমাণাদি সংক্ষেপে: কুমিল্লা আদালতে দায়েরকৃত মামলার কপি (প্রতিনিধির হাতে) ,রক্তাক্ত ভুক্তভোগীদের ছবি ,ভিডিও ফুটেজ যেখানে নির্যাতনের দৃশ্য স্পষ্ট,স্থানীয়দের সাক্ষ্য, থানায় অভিযোগ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বর্ণনা

1

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি তালিকায় ড. ইসরাফিল শাহীন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি তালিকায় ড. ইসরাফিল শাহীন
মোঃ রানা ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান ড. ইসরাফিল শাহীন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (ভিসি) হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিমনাদের মধ্যে আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ড. ইসরাফিল শাহীন (মোহাম্মদ ইসরাফিল) ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেশের একজন খ্যাতিমান থিয়েটার নির্দেশক, গবেষক ও শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত। ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে ১৯৯১ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৯৯ সালে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের স্ট্রিট থিয়েটার বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে সিনিয়র প্রফেসর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল, ভুটান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মিশর, ফিলিপাইন, ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড, ফ্রান্স ও চেক প্রজাতন্ত্রে কর্মশালা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
পদ্ধতিগত অভিনয়, স্থানীয় নাট্যরীতি, নৃবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং মিতব্যয়ী দৃশ্যরূপে তাঁর কাজ বিশেষভাবে প্রশংসিত। থিয়েটারকে সমাজমুখী ও অংশগ্রহণমূলক ধারায় প্রতিষ্ঠা করতে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় আসায় জেলাবাসীর মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

1

বকশীগঞ্জে অবৈধ জ্বালানি তেল ট্যাঙ্কিতে সংগ্রহের দায়ে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
বকশীগঞ্জে অবৈধ জ্বালানি তেল ট্যাঙ্কিতে সংগ্রহের দায়ে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Oplus_131072

 মোঃ ইমরান আকন্দ, (জামালপুর জেলা) প্রতিনিধিঃ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে অবৈধ পন্থায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ কালে শাকিল মিয়া (২২) নামে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড  করেছেন ভ্রম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনে এই জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনে অবৈধ পন্থায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ সময় শ্রীবরদী উপজেলার কোর্নঝোড়া ইউনিয়নের জাহান আলী ছেলে শাকিল মিয়া কে আটক করা হয়। পরে অবৈধ পন্থায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১০ হাজার জরিমানা করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসমা-উল- হুসনা, ট্যাগ অফিসার কামরুজ্জামান সহ অনেকেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন। দৈনিক ইনকিলাব ও দৈনিক আজকের বসুন্ধরাকে জানান, দেশের জ্বালানি সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত তেল নেয়া, মজুত রাখা, প্রতারণা ও অনিয়ম ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

1

নাগরপুরে ধলেশ্বরী দাপানো সেই অবৈধ ড্রেজার গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৬ পিএম
নাগরপুরে ধলেশ্বরী দাপানো সেই অবৈধ ড্রেজার গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

সোলাইমান হোসাইনঃ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ফসলি জমি ও নদী রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের কলমাইদ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধ ড্রেজারসহ বালু উত্তোলনের বিপুল সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। ​রাজনৈতিক খোলস পাল্টেও শেষ রক্ষা হলো না ড্রেজার মালিক রমজানের। ​অনুসন্ধানে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রমজান আলী এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে ভোল পাল্টাতে পটু এই জনপ্রতিনিধি বিগত আওয়ামী সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে মাটির ব্যবসা চালালেও বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নদী ও কৃষিজমি উজাড় করছিলেন। প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে এবং কথিত কিছু সংবাদকর্মীকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আসছিলেন। তবে সোমবারের অভিযানে তার সেই অবৈধ তৎপরতা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। ​ ​অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায়, নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে কলমাইদ এলাকার ফসলি জমিগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া বর্ষার আগেই নদীতীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল। জনস্বার্থ বিবেচনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীপ ভৌমিকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলেই ড্রেজিং পাইপ ও মেশিনারি সরঞ্জাম বিনষ্ট করে। ​ ​অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীপ ভৌমিক সংবাদ মাধ্যমকে জানান: ​”পরিবেশ বিধ্বংসী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা আপসহীন। প্রভাবশালী যেই হোক না কেন, সরকারি সম্পদ ও জনপদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হবে না।” ​অভিযানকালে নাগরপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও আতঙ্ক কাটেনি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, অভিযান পরবর্তী সময়ে চক্রটি যেন পুনরায় নদী দখল করতে না পারে, সেজন্য স্থায়ী নজরদারি প্রয়োজন।