ঘিওরে ইজারাকৃত স্থানে বালু উত্তোলন বিরোধী মানববন্ধন

সোলায়মানঃ
মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড শ্রীধামনগর এলাকায় ইজারাকৃত বালু মহল থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকালে শ্রীধামনগর গ্রাম সংলগ্ন নদীর পাড়ে স্থানীয় শতাধিক মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইজারাকৃত স্থানে বালু উত্তোলনের ফলে শ্রীধামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, কবরস্থান, পাকা সড়ক এবং পুরো গ্রাম ভাঙনের মুখে পড়বে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বালু তোলা হলে গ্রাম বিলীন হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও তারা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা মানববন্ধনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি প্রশাসন সরজমিনে তদন্ত না করে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়, তাহলে ইউএনও ও জেলা প্রশাসককে অপসারণের দাবি উঠবে।” তারা আরও জানান, যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী এই এলাকার হতদরিদ্র মানুষদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
মানববন্ধনের খবর পেয়ে ইউএনও এলাকাবাসীর সঙ্গে পয়লা ইউনিয়ন পরিষদে সাক্ষাৎ করেন। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী নদীর সীমানায় ইজারাকৃত বালু মহল থেকে বালু উত্তোলনে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। তবে ইজারাদার যদি সীমানার বাইরে বালু তোলে, তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। এ সময় স্থানীয়রা তার বক্তব্যে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও ইউএনও আইনগত দিক ব্যাখ্যা করে সভা ত্যাগ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ইউএনও ও ইউনিয়ন পরিষদ ত্যাগের পর বক্কর ঠাকুর ও নাহিদ নামের দুই ব্যক্তি বলেন, “কয়েকজন মানববন্ধনকারী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিলে সব ঠান্ডা হয়ে যাবে।” অভিযোগ রয়েছে, তারা অতীতে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ থেকে বালু সিন্ডিকেটে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।













