শ্রীবরদীতে বন্য হাতির তাণ্ডবে কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

শাওন আহাম্মেদ -শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা মালাকোচা, সোনাঝরি, বাবেলাকোনা, বালিজুড়ি গ্রামে আবারও বন্য হাতির তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা একটি বন্য হাতির পাল স্থানীয় কৃষকের ফসলী জমিতে ঢুকে ধানসহ নানা ফসল খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এবং তারা এখন প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।
মালাকোচা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি হাতির একটি দল মালাকোচা গ্রামের বিভিন্ন ফসলের জমিতে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। এতে রাতভর আতঙ্কে ঘুমাতে পারেন না এলাকার মানুষ। কেউ কেউ টিন, ড্রাম ও মশাল জ্বালিয়ে হাতিগুলো তাড়ানোর চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হয় না।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মো. হাবলুসের প্রায় ১ একর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। রুমান মিয়ার ১০ কাঠা, মোতালেবের ১২ কাঠা, নুর মোহাম্মদের ৫ কাঠা, সাকলাইনের ১০ কাঠা, জাহিদুলের ১০ কাঠা, ফুরাইদের ১২ কাঠা এবং রাকিবের ১০ কাঠা জমির ধান বন্য হাতির তাণ্ডবে নষ্ট হয়েছে। কৃষকরা বলেন, কয়েক মাসের পরিশ্রম এক রাতে শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা জানেন না কীভাবে পরিবার চালাবেন।
স্থানীয় কৃষক হাবলুস বলেন, সারাবছর পরিশ্রম করে যে ধান ফলালাম, এক রাতেই সব শেষ। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আমাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম মিয়া জানান, প্রতি বছরই এ অঞ্চলে বন্য হাতির পাল এসে ফসলের ক্ষতি করে। আমরা প্রশাসনের কাছে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাই।
বালিজুড়ি অফিসের রেঞ্জ কর্মকর্তা সুমন মিয়া জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড় থেকে হাতি নেমে আসা প্রায় নিয়মিত ঘটনা। কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদুল হাসান আকন্দ বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা এলে আমরা তা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাসিব-উল-আহসান বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।










