বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

ঝালকাঠির খুলনা গ্রামে সড়কে কচুগাছ রোপণ করে প্রতিবাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৫৫ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঝালকাঠির খুলনা গ্রামে সড়কে কচুগাছ রোপণ করে প্রতিবাদ

 

কে.এম. ইসলাম,ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের নাচনমহল ইউনিয়নের খুলনা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সড়কের দুরবস্থার প্রতিবাদে সড়কে কচুগাছ রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় হারধল ছাদেম মোল্লার বাড়ি থেকে টেকেরহাট আক্কাস হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কচুগাছ রোপণ করেন গ্রামবাসী। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি বর্তমানে নালাখালায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে সড়কটি থাকে পানি ও কাদায় একাকার। আর এখন শুকনো মৌসুম চললেও সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হয়নি। তারা বলেন, এখনই যদি রাস্তা সংস্কার না করা হয়, তাহলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের কোনো সীমা থাকবে না।

প্রায় শতাধিক পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র এই সড়কটি এতটাই বেহাল যে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জুতা হাতে হেঁটে যেতে হয়। রাতের বেলা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিতে হয় মসজিদের লাশ বহনের খাটিয়ায় করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝপথেই অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যু ঘটে।

খুলনা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আলামীন হাওলাদার বলেন, “সড়কের এমন অবস্থার কারণেই আমরা আজ কচুগাছ রোপণ করেছি। বর্ষার সময়ে পানি ও কাদা, এখন শুকনো মৌসুমেও চলাচল করা যায় না। এখন যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, সামনে বর্ষায় আমাদের কষ্টের সীমা থাকবে না।”

আরেক বাসিন্দা মোঃ ছাদেম মোল্লা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার নিয়ে শহরে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। বাড়ি নির্মাণ করলেও রাস্তার কারণে মালামাল পরিবহনে কয়েকগুণ বেশি খরচ পড়ছে।

এ বিষয়ে নাচনমহল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম (খোকন) বলেন, “খুলনা গ্রামের রাস্তার করুণ অবস্থার বিষয়টি আমি জানি। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, শুকনো মৌসুম থাকতেই কাজ শুরু না হলে আগামী বর্ষায় খুলনা গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

1

পাসপোর্ট অফিসে গোপন সংকেতের খেলা: দালাল ধরলেই মিলছে দ্রুত সেবা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
পাসপোর্ট অফিসে গোপন সংকেতের খেলা: দালাল ধরলেই মিলছে দ্রুত সেবা
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে নিয়ম মেনে পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিলে ত্রুটি দেখিয়ে বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। তবে দালল ধরে ফরম জমা দিলে সেটি সহজেই জমা দেওয়া যাচ্ছে। এর জন্য দালালদের মাধ্যমে পাসপোর্ট অফিসকে দিতে হচ্ছে ঘুষ। অনিয়ম-দুর্নীতি যেন এখানে নিয়ম ও নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
হাসমত আলীর বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে। নিজের পাসপোর্টের আবেদন ফরম জমা দিতে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস। তাঁর কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, আবেদনপত্রের একটি বিশেষ পাতা। ওই পাতায় লেখা একটি বিশেষ ‘সংকেত’। সেই সংকেতটি ইংরেজিতে লেখা দুইটি বর্ণ। বর্ণের পাশে হাইফেন দিয়ে লেখা দুইটি ইংরেজি সংখ্যা। এ কোড দেখে পাসপোর্ট অফিসের ফরম জমা নেওয়া কর্মচারী কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই আবেদনটি জমা নিয়ে নিলেন। গত ১০ জুন বেলা পৌনে বারোটার দিকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে এমন ঘটনা ঘটে।
এর কিছুক্ষণ আগে আবেদন জমা দিতে না পেরে হতাশ হয়ে বের হন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আজমতপুর এলাকার তরুণ রাব্বি আহমেদ। তাঁর আবেদনটি ‘ত্রুটি’ থাকায় জমা নেওয়া হয়নি। এরপর রাব্বি আহমেদ তাঁর দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে অফিসের বাইরে একটি দোকানে যান দালাল ধরতে। রাব্বি আহমেদ বলেন, ‘আমার সব কাগজ ঠিকই ছিল। তবে জমা না নিয়ে পরের দিন যেতে বলল।’
এক শ্রেনীর দালাল চ্যানেল ফাইল করে দেয় বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে ২ হাজার ৫ শত টাকা করে বেশি নেওয়া হয়। এ টাকার মধ্যে ১ হাজার ১০০ টাকা দেওয়া হয় পাসপোর্ট অফিসকে। বাকি টাকা দালালদের পকেটে।
সরেজমিনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সামনে দেখা যায়, সকাল থেকেই সেখানে অনেক দালাল ঘুরতে থাকে। পাসপের্ট আবেদন করার জন্য লোক আসামাত্রই দালালরা সেবা গ্রহীতাদের ইশারায় এবং কখনো সরাসরি তাদের মাধ্যমে পাসপোর্ট করতে বলে। দালালদের মাধ্যমে জমা দেওয়া পাসপোর্টের আবেদন ফরমকে বলা হয় ‘চ্যানেল ফাইল’। চ্যানেল ফাইলের বিষয়ে কথা হয় তিনজন দালালের সঙ্গে। শুরুতে তাঁরা এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানান, পাসপোর্ট অফিসের এ ধরনের দালালির বিষয়টি মোটামুটি ‘ওপেন সিক্রেট’। প্রতিটি দোকান থেকে চ্যানেল ফাইল করে দেওয়া হয়। বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয়। এ টাকার মধ্যে ১ হাজার ১০০ টাকা দেওয়া হয় পাসপোর্ট অফিসে। বাকি টাকা দালালদের পকেটে। এভাবে ময়মনসিংহ পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।
চ্যানেল ফাইলটি করা হয় অত্যন্ত কৌশলে। আবেদপত্রটি জমা দেওয়ার সময় যেকোন একটি কাগজের দুটি কপি করা হয়। অতিরিক্ত ওই কপিতে লেখা হয় গোপন সংকেতটি। পরে অফিসে জমার নেওয়ার পর সংকেত লেখা অতিরিক্ত কাগজটি খুলে ফেলা হয়। খুলে ফেলা কাগজটি গোপনে সংরক্ষণ করেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মী। পরে গোপনে জমা রাখা ওইসব কাগজ দেখে হিসাব করে দালালদের কাছে থেকে সপ্তাহের প্রতি বুধবার ‘পাওয়া’ টাকা আদায় করে পাসপোর্ট অফিস। এভাবেই দিনের পর দিন চলছে ঘুষ বাণিজ্য।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালকে আশিষ কুমার দাসের                                                                                                                                                                                                                                                                                                  মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি এই বিষয়ে আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে, লিখিত ভাবে আমার কাছে দেন, আমি দেখবো। আমার জানামতে এখানে কোন ঘুষ বানজ্য হয় না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘুষে আদায়কৃত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পান সহকারী-পরিচালক আশিষ কুমার দাস  ও উপ-সহকারী পরিচালক । বাকি টাকা দারোয়ান থেকে শুরু করে অফিস স্টাফদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়। এছাড়া ঘুষের ভাগ পান কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অসাধু সদস্য এবং অখ্যাত পত্রিকার নামধারী সাংবাদিক। তবে এসব বিষয়ে সরাসরি কেউ মুখ খুলতে রাজি হয়নি।
দুদক অফিস পাশে, তবুও নীরবতা!
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় এই পাসপোর্ট অফিসের পাশের ভবনেই অবস্থিত। ৫ আগস্টের পর দুদক ময়মনসিংহের বিভিন্ন সরকারি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করলেও পাসপোর্ট অফিসে কখনো কোন অভিযান পরিচালনা করেনি। এ বিষয়ে দুদকের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মককার মুঠোফোনে বলেন, আমি তিন মাস আগে ময়মনসিংহের দায়িত্ব পেয়েছি এরমধ্যে পাসপোর্ট অফিসে অভিযান পরিচালনা হয়নি। আমার জানামতে ৫ আগস্টের পর কোন অভিযান পরিচালিত হয়নি।

1

নানা অনিয়মের অভিযোগে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জরিমানা করা হয়।

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
নানা অনিয়মের অভিযোগে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জরিমানা করা হয়।

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ:

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার  (১৭ জুন) দুপুরে  বকশীগঞ্জ  পৌরসভার  এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে  এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা- উল- হুসনা । এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রেজাউল ইসলাম ।

অভিযানে সহযোগিতা করেন বকশীগঞ্জ থানার  (এএসআই) ইব্রাহিমসহ সঙ্গীয় ফোর্স।

অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবেশের ছাড়পত্র, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা পরিচালনা করায়, অনুমোদন বিহীন ব্লাড ট্রান্সমিশন করায়  উক্ত জরিমানা করা হয়।

জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য হলো নিউ পপুলার  ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ২০হাজার টাকা, শেখ ফরিদ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে  ১৫হাজার টাকা,হেলথর্ কেয়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে  ৫ হাজার।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা- উল- হুসনা বলেন জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত

থাকবে।

1

বকশীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৪:৪০ পিএম
বকশীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা

 

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে খয়ের উদ্দিন ফাজিল মাদরাসার হলরুমে বীরমুক্তিযোদ্ধা আফসার আলীর উদ্যোগে কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন।

বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আফসার আলীর সভাপতিত্বে ও খয়ের উদ্দিন ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মোসাদ্দেকুর রহমান মানিকের সঞ্চালনায় কুইজ প্রতিযোগিতায় এসময় উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রবাজ রশিদা বেগম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, খয়ের উদ্দিন ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম,পূবালী ব্যাংক বকশীগঞ্জ শাখার ম্যানেজার ফারহানা রহমান সীমুন, ডাঃ আব্দুল আল মুত্তাকী জীবনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞান ভিত্তিক এই কুইজ প্রতিযোগিতায় উপজেলার ৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহন করেন। পরে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন অতিথি’রা।