মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ১৪৩২

1

হাওর রক্ষা বাঁধে কোনো ছাড় নয়: জামালগঞ্জে ১৩ দফা নির্দেশনা বিভাগীয় কমিশনারের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাওর রক্ষা বাঁধে কোনো ছাড় নয়: জামালগঞ্জে ১৩ দফা নির্দেশনা বিভাগীয় কমিশনারের

মো. শাহীন আলম – সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::

হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম কিংবা দায়সারা কাজ বরদাস্ত করা হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী (অতিরিক্ত সচিব)। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার পিআইসি ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ১৩ দফা নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, মান ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে হবে, কারণ হাওর রক্ষা বাঁধের সঙ্গে কৃষকের ফসল ও জীবন-জীবিকা সরাসরি জড়িত।
নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— প্রকল্প সাইটের খোলা জায়গায় বরাদ্দকৃত অর্থ, মাটির পরিমাণ ও কাজের বিস্তারিত তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন; সাইট রেজিস্টার বুক, ওয়ার্ক অর্ডারের কপি, ফিলিং চার্ট ও ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের ফিতা সার্বক্ষণিক সংরক্ষণ; বাঁধের উপরিভাগের পুরনো মাটি ৬ ইঞ্চি আলগা করে ঘাস-আগাছা পরিষ্কার করে নতুন মাটি দিয়ে দৃঢ় বন্ধন তৈরি করা; সর্বোচ্চ এক ফুট উচ্চতায় লেয়ার বাই লেয়ার মাটি ভরাট করে এক্সাভেটর দিয়ে কম্পেকশন নিশ্চিত করা।
এছাড়া বাঁধের স্লোপে ৭ কেজি ওজনের দুরমুস দিয়ে কম্পেকশন, পর্যাপ্ত দুরমুস মজুদ রাখা, টো লাইন থেকে ন্যূনতম ১০০ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে মাটি সংগ্রহ, ফিলিং চার্ট অনুযায়ী বাঁধের উচ্চতা ও ঢাল নির্ধারণ, ভিজা-কাদা ও বালুমাটি ব্যবহার নিষিদ্ধ, বড় ঢিলা ভেঙে মাটি ছড়িয়ে দেওয়া এবং কাজ শেষে সঠিক ড্রেসিং সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন তিনি।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ঘাস লাগানোর আগে প্রোপে পাম্পের মাধ্যমে পানি দিতে হবে এবং ঘাস সতেজ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সেচ অব্যাহত রাখতে হবে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বাঁধের সব কাজ শেষ করতে হবে। পাশাপাশি হাওরের ধান সম্পূর্ণ কর্তন না হওয়া পর্যন্ত বাঁধের সার্বক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পিআইসি কমিটির সদস্যদের মোবাইল ফোন সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশও দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান খান, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুশফিকীন নূর, জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বন্দে আলী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা।
বাঁধ পরিদর্শন শেষে ১নং বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ‘হ্যাঁ ভোট’ ও ‘না ভোট’ কেন অনুষ্ঠিত হবে, কোন কোন বিষয়ে গণভোট হবে এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে জনসাধারণকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়। গণভোট বিষয়ে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উঠান বৈঠক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, ইউএনও মুশফিকীন নূর, উপ-পরিচালক মো. মতিউর রহমান খান এবং বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী।
এদিন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অতিদরিদ্র, অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়। বিতরণ শেষে বিভাগীয় কমিশনার সাচনা বাজার পরিদর্শন করেন।
দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে তিনি জামালগঞ্জ উপজেলা হলরুমে উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের সমস্যা, সংকট ও উত্তরণের পথ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি ও মামলার নথি পর্যালোচনা করেন।
এ সময় জামালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত শিশু পার্ক ও সংস্কারকৃত জামালগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার। এছাড়া এলজিইডি কর্তৃক নির্মাণাধীন উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজও পরিদর্শন করেন তিনি।

1

বকশিগঞ্জে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন  ভুক্তভোগী পরিবারের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
বকশিগঞ্জে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন  ভুক্তভোগী পরিবারের

 

(জামালপুর জেলা) প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুরের বকশিগঞ্জে  পৌর এলাকার পাখিমারা গ্রামের ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলীর নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলীর স্ত্রী সখিনা আক্তার ও তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী ইভা।
তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, জায়গা জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে। মতিউর ধলাবাবু ও কাশেম গংগারা তাদের জমি দখলের চেষ্টা করিতেছে ও  প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং উশৃংখল দুর্ব্বহার করে ভুক্তভোগী আরও বলেন, বিবাদীরা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাইতে পারে। এ ঘটনায় ইদ্রিস আলীর ছেলে জুবাইদ হাসান, বাদী হয়ে এই ব্যাপারে ‌বকশীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে ও সুষ্ঠু তদন্ত করে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত  ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ভুক্তভোগীর পরিবার।

1

রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২০ পিএম
রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কমিটি গঠন

সাহেদ আলী = সিরাজগঞ্জ :

ঐতিহ্যবাহী রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে আলী হায়দার আব্বাসী (দৈনিক মানবজমিন) সভাপতি এবং গোলাম মুক্তাদীর (প্রতিদিনের বাংলাদেশ) সাধারণ সম্পাদক ও নাজমুল হোসেন তালুকদার আরাফাত (দৈনিক ইনকিলাব) কে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়।সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আতিক মাহমুদ আকাশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভার প্রথম অধিবেশনে আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।পরে উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অধিবেশনে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন কমিটিতে আতিক মাহমুদ আকাশ (সহ-সভাপতি),নুরুল হক নয়ন (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক),শিহাবুল আলম সায়েম (দপ্তর সম্পাদক),আব্দুল লতিফ (অর্থ সম্পাদক) এবং সাইদুল ইসলাম আবির (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।এ কমিটিতে
কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন কে.এম রফিকুল ইসলাম,এইচএম মোনায়েম খান ও এম.আবু হাসেম মনি।সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন,পারস্পরিক ঐক্য সুদৃঢ়করণ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে নবগঠিত কমিটির কাছে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

1

উল্লাপাড়া-সলঙ্গায় বোরো রোপণে ব্যস্ত কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৬ পিএম
উল্লাপাড়া-সলঙ্গায় বোরো রোপণে ব্যস্ত কৃষক

সাহেদ আলী =সিরাজগঞ্জ :

সলঙ্গায় ইরি-বোরো চাষে দলবেঁধে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।দিনমজুর শ্রমিকরাও বসে না থেকে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় কিছুদিন জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিলেও তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়ায় নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে ইরি-বোরো মৌসুমের কাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,সলঙ্গা থানার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়,বন্যাকবলিত সরিষার আবাদি কিছু নিচু জমি ছাড়া প্রায় সর্বত্র ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ পুরোদমে চলছে।সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি এলাকায় আদিবাসী কৃষাণীরাও মাঠে কাজ করছেন।
উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান,“ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্যমূল্য ও সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হলে বাম্পার ফলনের আশা করছি।”
ধুবিল ইউনিয়নের মালতিনগর গ্রামের কৃষক রমজান হযরত,জসমত ও মোবজেল বলেন,“ঘনঘন লোডশেডিং বন্ধ,সার ও কীটনাশকের সঠিক সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আশানুরূপ উৎপাদন সম্ভব।”
চরবেড়া,জগজীবনপুর ও আঙ্গারু এলাকার কৃষকরাও জানান, কৃষিকাজে বিরতি মানেই পরিবার ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়া।তারা বলেন,“মাঠের পর মাঠ ফসল না লাগালে মানুষ কী খেয়ে বাঁচবে?প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না এলে অল্পদিনের মধ্যেই চারদিকে সবুজ ধানক্ষেতের সমারোহ দেখা যাবে।”
সলঙ্গা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল আরমান জানান, উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দিন-রাত কৃষকদের পাশে রয়েছেন।তিনি বলেন,“ল্যাক পদ্ধতি, লাইনে চারা রোপণ,সুষম সার ব্যবহার, সঠিক বয়সে চারা রোপণ, ভিজানো-শুকানো পদ্ধতি,মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব আধুনিক চাষাবাদে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফলন পাওয়া সম্ভব।”
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্না ইয়াসমিন সুমি জানান,চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩০ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে জমিতে ইরি-বোরোর চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন,আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বিদ্যুৎ,সার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে চলতি মৌসুমে সলঙ্গায় ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা।