মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ১৪৩২

1

কৃষি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে জামালগঞ্জে গজারিয়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৪ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কৃষি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে জামালগঞ্জে গজারিয়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধন

মো. শাহীন আলম, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::

সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নে কৃষি উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) উদ্যোগে গজারিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ৫১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুর ১২টায় গজারিয়া বাজার এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “কৃষকরা আমাদের দেশের মূল শক্তি। হাওর এলাকার কৃষকদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক। কৃষকের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, গজারিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে হাওর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বিভাগ-১, সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার। তিনি বলেন, “গজারিয়া খাল পুনঃখননের ফলে পাগনার হাওরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।”
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পরিষদের সদস্য নুরুল হক আফিন্দি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যার কথা শুনে আসছেন। বিগত ১৭ বছর এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমস্যাটি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে আজ গজারিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার বলেন, ডালিয়ার খাল খনন করা গেলে জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও ভালো ফল পাওয়া যেত। চলতি অর্থবছরে সম্ভব না হলে আগামী অর্থবছরে ডালিয়ার খাল খননের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (জামালগঞ্জ পানি উন্নয়ন শাখা-১) মো. জাহিদুল ইসলাম জনি, বাপাউবো’র কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওর। বর্ষা মৌসুম শেষে এখানে প্রধানত বোরো ধান চাষ হয়। এক ফসলি এই হাওরের চাষযোগ্য জমির ওপর হাওরসংলগ্ন অন্তত ৪০টি গ্রামের কৃষক ধান উৎপাদনের জন্য নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে হাওরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমিতে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না।
চলতি বছরও জলাবদ্ধতার কারণে অন্তত এক হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গড় উৎপাদন হিসেবে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন কম হতে পারে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রকল্পটির কাজের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও দ্রুত খনন কাজ সম্পন্ন করা গেলে চলতি মৌসুমেই বোরো ধান চাষ সম্ভব হবে। এজন্য তারা প্রকল্পটি দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

 

1

বকশিগঞ্জে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন  ভুক্তভোগী পরিবারের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
বকশিগঞ্জে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন  ভুক্তভোগী পরিবারের

 

(জামালপুর জেলা) প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুরের বকশিগঞ্জে  পৌর এলাকার পাখিমারা গ্রামের ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলীর নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলীর স্ত্রী সখিনা আক্তার ও তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী ইভা।
তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, জায়গা জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে। মতিউর ধলাবাবু ও কাশেম গংগারা তাদের জমি দখলের চেষ্টা করিতেছে ও  প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং উশৃংখল দুর্ব্বহার করে ভুক্তভোগী আরও বলেন, বিবাদীরা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাইতে পারে। এ ঘটনায় ইদ্রিস আলীর ছেলে জুবাইদ হাসান, বাদী হয়ে এই ব্যাপারে ‌বকশীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে ও সুষ্ঠু তদন্ত করে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত  ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ভুক্তভোগীর পরিবার।

1

রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২০ পিএম
রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কমিটি গঠন

সাহেদ আলী = সিরাজগঞ্জ :

ঐতিহ্যবাহী রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে আলী হায়দার আব্বাসী (দৈনিক মানবজমিন) সভাপতি এবং গোলাম মুক্তাদীর (প্রতিদিনের বাংলাদেশ) সাধারণ সম্পাদক ও নাজমুল হোসেন তালুকদার আরাফাত (দৈনিক ইনকিলাব) কে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়।সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আতিক মাহমুদ আকাশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভার প্রথম অধিবেশনে আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।পরে উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অধিবেশনে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন কমিটিতে আতিক মাহমুদ আকাশ (সহ-সভাপতি),নুরুল হক নয়ন (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক),শিহাবুল আলম সায়েম (দপ্তর সম্পাদক),আব্দুল লতিফ (অর্থ সম্পাদক) এবং সাইদুল ইসলাম আবির (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।এ কমিটিতে
কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন কে.এম রফিকুল ইসলাম,এইচএম মোনায়েম খান ও এম.আবু হাসেম মনি।সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন,পারস্পরিক ঐক্য সুদৃঢ়করণ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে নবগঠিত কমিটির কাছে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

1

উল্লাপাড়া-সলঙ্গায় বোরো রোপণে ব্যস্ত কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৬ পিএম
উল্লাপাড়া-সলঙ্গায় বোরো রোপণে ব্যস্ত কৃষক

সাহেদ আলী =সিরাজগঞ্জ :

সলঙ্গায় ইরি-বোরো চাষে দলবেঁধে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।দিনমজুর শ্রমিকরাও বসে না থেকে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় কিছুদিন জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিলেও তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়ায় নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে ইরি-বোরো মৌসুমের কাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,সলঙ্গা থানার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়,বন্যাকবলিত সরিষার আবাদি কিছু নিচু জমি ছাড়া প্রায় সর্বত্র ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ পুরোদমে চলছে।সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি এলাকায় আদিবাসী কৃষাণীরাও মাঠে কাজ করছেন।
উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান,“ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্যমূল্য ও সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হলে বাম্পার ফলনের আশা করছি।”
ধুবিল ইউনিয়নের মালতিনগর গ্রামের কৃষক রমজান হযরত,জসমত ও মোবজেল বলেন,“ঘনঘন লোডশেডিং বন্ধ,সার ও কীটনাশকের সঠিক সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আশানুরূপ উৎপাদন সম্ভব।”
চরবেড়া,জগজীবনপুর ও আঙ্গারু এলাকার কৃষকরাও জানান, কৃষিকাজে বিরতি মানেই পরিবার ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়া।তারা বলেন,“মাঠের পর মাঠ ফসল না লাগালে মানুষ কী খেয়ে বাঁচবে?প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না এলে অল্পদিনের মধ্যেই চারদিকে সবুজ ধানক্ষেতের সমারোহ দেখা যাবে।”
সলঙ্গা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল আরমান জানান, উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দিন-রাত কৃষকদের পাশে রয়েছেন।তিনি বলেন,“ল্যাক পদ্ধতি, লাইনে চারা রোপণ,সুষম সার ব্যবহার, সঠিক বয়সে চারা রোপণ, ভিজানো-শুকানো পদ্ধতি,মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব আধুনিক চাষাবাদে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফলন পাওয়া সম্ভব।”
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্না ইয়াসমিন সুমি জানান,চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩০ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে জমিতে ইরি-বোরোর চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন,আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বিদ্যুৎ,সার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে চলতি মৌসুমে সলঙ্গায় ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা।