শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ৩০ ১৪৩২
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ৩০ ১৪৩২

নারীর অসচেতনতা: বাস্তবতার রূঢ়তা ও সাহিত্যের প্রতিধ্বনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৪:০৬ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নারীর অসচেতনতা: বাস্তবতার রূঢ়তা ও সাহিত্যের প্রতিধ্বনি

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান:

লেখক

নারী—একটি শব্দ, যার ভেতরে লুকিয়ে থাকে সৃষ্টির অমোঘ সৌন্দর্য, সহনশীলতার নিরবতা, আর অন্তহীন শক্তির প্রতিচ্ছবি। কিন্তু এই নারীর জীবন কি শুধুই সৌন্দর্যের গাথা? সমাজের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যায়, নারীর জীবন এক অব্যক্ত যন্ত্রণার ইতিহাস, যেখানে অসচেতনতা কেবল এক মানসিক বন্ধন নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে একটি প্রজন্মের অবরুদ্ধ সম্ভাবনা।
যেখানে আলো আছে, সেখানেই ছায়া। নারীর জীবনেও তেমনি রয়েছে অন্ধকারের স্তর, যা কুসংস্কার, অজ্ঞতা এবং শিক্ষা-অসচেতনতার জালে জড়িয়ে আছে। একটি গ্রামীণ দৃশ্যপটের কথা ভাবা যাক—কাঁচা রাস্তার ধারে একটি ছোট্ট ঘর, যেখানে বসে আছে এক গৃহবধূ, তার মুখে ক্লান্তির রেখা, চোখে অনাগত ভবিষ্যতের শূন্যতা। সে জানে না নিজের অধিকারের কথা, জানে না স্বাস্থ্য সচেতনতার মৌলিক প্রয়োজনীয়তা। তার জীবন সীমাবদ্ধ রান্নাঘরের চার দেয়ালে, যেখানে সে দিনরাত মুছে যায় পরিবারের দায়বদ্ধতায়।
বেগম রোকেয়ার লেখা “সুলতানার স্বপ্ন” যেন এমন এক প্রতিবাদী উচ্চারণ, যেখানে নারী তার অসচেতনতার শিকল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে। রোকেয়ার স্বপ্নের সেই নারী কোনো গৃহকোণে বন্দি নয়; বরং আকাশের মতো বিস্তৃত, জ্ঞানের আলোকছটায় দীপ্ত। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব তখনই তৈরি হয়, যখন নারী নিজেই নিজের ভেতরের আলোকে জ্বালাতে পারে না।
নারীর অসচেতনতার বিষয়টি কেবল শিক্ষার অভাবেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক জড়তা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে উঠেছে। সমাজ নারীর জন্য যে বাঁধন তৈরি করে, তা নারী নিজেই শিকল হিসেবে গ্রহণ করে ফেলে। যেন নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিকে চিনতে না পারার এক দীর্ঘস্থায়ী অভ্যাস।
জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ‘বনলতা সেন’ এক রহস্যময় নারীচরিত্র, যার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় সান্ত্বনা আর স্থিরতার প্রতীক। কিন্তু এই বনলতার দৃষ্টিতে কি কখনও ছিল কোনো জাগরণের আবেদন? নাকি সে কেবল পুরুষ কবির নিঃসঙ্গতার এক আশ্রয়স্থল? নারী কি কেবলই কারো নিঃসঙ্গতার নিরাময়, নাকি সে নিজেই হতে পারে এক বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি? এই প্রশ্নই জাগে যখন সাহিত্যের পাতায় নারীর অসচেতনতার ছায়া পড়তে দেখি।
নারীর জীবনে অসচেতনতার গ্লানি সবচেয়ে প্রকট হয়ে ওঠে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আটকে থাকা নারীরা জানেই না কিভাবে নিজেদের জন্য লড়াই করতে হয়। একটি কন্যাশিশু যখন জন্ম নেয়, তখন থেকেই তার চারপাশে তৈরি হতে থাকে এক অদৃশ্য প্রাচীর—এই প্রাচীর কখনো পরিবারের কড়াকড়ি, কখনো সমাজের গোঁড়ামি, আবার কখনো নিজের অন্তর্গত ভীতি।
কিন্তু নারী কি শুধুই এই অসচেতনতার প্রতিচ্ছবি? না, নারী হলো সেই অগ্নিশিখা, যা নিভে গেলেও তার উষ্ণতা থেকে যায়। তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে আলোর সেই কণা, যা জাগ্রত হলে সমাজের অন্ধকার দূর হয়ে যায়। সাহিত্য বারবার সেই কথাই বলে। সেলিনা হোসেনের “হাঙর নদী গ্রেনেড”-এর নারী চরিত্রগুলো যেন সময়ের নির্দিষ্ট ফ্রেমে বন্দি থাকলেও, তাদের ভেতরের জাগরণ অদম্য।
নারীর অসচেতনতা কেবল তার ব্যর্থতা নয়, বরং এটি একটি সমাজের ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত। একটি মেয়েকে যখন শেখানো হয় শুধু সংসার সামলানোই তার জীবনের লক্ষ্য, তখনই তার ভেতরের জাগরণের আলো নিভে যায়। কিন্তু সেই আলো আবার জ্বালানো সম্ভব, যদি তার ভেতর থেকে জেগে ওঠে নিজের পরিচয় খোঁজার তীব্র বাসনা।
আজকের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের সমাজে যত প্রগতির ঢেউই আসুক না কেন, নারীর আত্মজাগরণ ছাড়া সেই প্রগতি অপূর্ণই থেকে যায়। সাহিত্য আমাদের শেখায় কিভাবে নিজেকে আবিষ্কার করতে হয়, কিভাবে নিজের ভেতরের অন্ধকারকে আলোর দিকে ঠেলে দিতে হয়। তাই নারীর জাগরণ মানে কেবল একজন নারীর জেগে ওঠা নয়; এটি একটি পরিবার, একটি সমাজ, এমনকি একটি জাতির জেগে ওঠা।
নারী যখন জেগে ওঠে, তখন তার অসচেতনতার গ্লানি মুছে যায়। তখন সে হয়ে ওঠে এক জীবন্ত কবিতা, যেখানে প্রতিটি শব্দই একটি নতুন সম্ভাবনার বার্তা। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে হলে নারীকে প্রথমে নিজের অজানা জগৎটাকে জানতে হবে, বুঝতে হবে তার ভেতরের শক্তিকে।

কারণ নারী কখনও কেবল একটি সম্পর্কের সংজ্ঞা নয়, সে নিজেই একটি পূর্ণ গল্প। একটি জাগ্রত সত্তা।

❝নারীর জাগরণ
যবে নারীর চোখে জ্বলে জ্ঞানের দীপ্তি,অন্ধকার সমাজ পায় নব আলোর সত্ত্বি।
চেতনার স্পর্শে ভাঙে সকল বাঁধন,
আলোকিত হয় পথ, জাগে নতুন প্রাণ।❞

লেখক, শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো মিশর

1

নতুন মাদারীপুরে অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর আকতার হাওলাদার গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
নতুন মাদারীপুরে অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর আকতার হাওলাদার গ্রেফতার

 

এস এম সোহাগ কাজী = মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:

মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর আকতার হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলামগীর হাওলাদার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বসতঘরসহ একাধিক বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কয়েকটি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, এর আগে দায়ের হওয়া একটি বিস্ফোরক ও মারামারির মামলায় আকতার হাওলাদার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। সেই মামলায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

1

নবাবগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে মহড়া, র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১:২২ পিএম
নবাবগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে মহড়া, র‍্যালি ও আলোচনা সভা

মোঃ রেজুয়ান বাদশা দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস–২০২৬ উপলক্ষে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়া, র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, নবাবগঞ্জের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের সময় করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক মহড়া প্রদর্শন করা হয় এবং এ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল— “দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব।”
অনুষ্ঠানে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মো. মাহব্বুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. আবু মুসা, তথ্য সেবা কর্মকর্তা আফরিনা খাতুনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের সময় করণীয় বিষয়ে উপস্থিত সবাইকে সচেতন করা হয় এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

1

যশোর বেনাপোল স্থল বন্দরে ঘোষনা বইভুক্ত ও আমদানি নিষিদ্ধ ১৭ মেট্রিক টন পাট বীজের একটি চালান আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১:২০ পিএম
যশোর বেনাপোল স্থল বন্দরে ঘোষনা বইভুক্ত ও আমদানি নিষিদ্ধ ১৭ মেট্রিক টন পাট বীজের একটি চালান আটক

 

মনা যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ

বেনাপোল স্থল বন্দরে ঘোষনা বইভুক্ত ও আমদানি নিষিদ্ধ প্রায় কোটি টাকা মুল্যের ১৭ মেট্রিক টন পাট বীজের একটি চালান আটক হয়েছে।

মঙ্গলবার ১০ মার্চ বেনাপোল বন্দরের ১৫ নং শেডে বেনাপোল স্থলবন্দরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংবাদের  (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব পাট বীজ আটক করে। এ সময় বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারি কমিশনার রাহাত হোসেন উপস্থিতি ছিলেন।

বেনাপোল স্থল বন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আবু তালহা জানান, রোববার বেনাপোল  স্থল বন্দর দিয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টার প্রাইজ ভারত থেকে ৪৫ মেট্রিক টন ঘাস বিজ উল্লেখ করে পাটের বীজ আমদানি করেন। পরে গোপন সংবাদে পণ্য চালানটিতে অভিযান চালিয়ে ১৭ টন পাট বীজ আটক করা হয়। মিথ্যা ঘোষনার অপরাধে অভিযুক্ত আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা  হয়েছে জানান তিনি।

এদিকে সচেতন মানুষেরা পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়াই নিম্নমানের বীজ দেশে প্রবেশ করায় ঝুঁকিতে পড়ছে কৃষি খাত। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। দূনীতিবাজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা  গ্রহনের দাবি জানান তারা।