শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ৩০ ১৪৩২
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ৩০ ১৪৩২

আজ শ্যামনগরে সর্বকালের সর্ব বৃহত্তম জামায়াতের কর্মী সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৮:৪৩ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আজ শ্যামনগরে সর্বকালের সর্ব বৃহত্তম জামায়াতের কর্মী সমাবেশ

 

হাবিবুল্লাহ বাহার, শ্যামনগর প্রতিনিধ:

সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশাল কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩ শে ফেব্রুয়ারী রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মী সমাবেশে হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত হন। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় মহিলা কর্মী সম্মেলন, যেখানে হাজার হাজার নারী কর্মী অংশ নেন। তারা জামায়াতের আদর্শ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিজেদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দুপুরের পর থেকে বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো নেতা-কর্মীদের ঢল নামে, যা সমাবেশকে এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে পরিণত করে। বিকাল পর্যন্ত চলা এই সমাবেশে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

উপজেলা আমীর মাওলানা আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ তাদের মনের কথা প্রকাশ করতে পারেনি। এমনকি তিন-চারজন একসাথে বসলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হতো। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। শেখ হাসিনা, ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়। সরকার গঠনের পর তাদের প্রধান এজেন্ডা ছিল জামায়াতে ইসলামীর অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করা। শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, শহীদ আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লাসহ ১১ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে বিনা অপরাধে ফাঁসি ও বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও জামায়াত ও শিবিরের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ইসলামী আন্দোলনকে নির্মূল করা সম্ভব নয়। আজকের এই বিশাল সমাবেশ তারই প্রমাণ।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা এই আন্দোলন নির্মূল করতে চেয়েছিলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু আজ তাদের দলই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই, হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরে ঘুমন্ত আলেমদের ওপর নির্মম গুলি চালানো ও হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত, তাদের বিচার করতে হবে। ক্ষমতায় আসার পর পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে ষড়যন্ত্র করে সেনাবাহিনীর চৌকস কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত খুনিরা আজও ধরা পড়েনি। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অনেকেই মুক্তি পেয়ে গেছেন, অথচ আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম এখনও মুক্তি পাননি। তাকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে, অন্যথায় মুক্তির দাবিতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে, ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার করতে হবে। বাংলার জনগণ আর কোনো নব্য ফ্যাসিবাদ মেনে নেবে না। সরকারের উচিত শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্যাহ, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, মাওঃ আজিজুর রহমান, শেখ নুরুল হুদা, মাহবুবুল হক, প্রভাষক ওমর ফারুকসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই জামায়াতের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও কর্মপন্থা তুলে ধরেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।

বক্তারা শ্যামনগর উপজেলার উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন এবং সরকারের কাছে দাবি জানান, “শ্যামনগর উপজেলার অবহেলিত মানুষদের উন্নয়নে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই অঞ্চলকে মডেল উপজেলায় রূপান্তর করার জন্য জামায়াত নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।”

নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে দলের কর্মীরা নতুন উদ্দীপনায় কাজ করতে অনুপ্রাণিত হবেন। হাজার হাজার কর্মীর সরব উপস্থিতি এবং উদ্দীপনা দেখে নেতারা অত্যন্ত আশাবাদী যে, সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের পাশে থেকে তাদের অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

1

নতুন মাদারীপুরে অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর আকতার হাওলাদার গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
নতুন মাদারীপুরে অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর আকতার হাওলাদার গ্রেফতার

 

এস এম সোহাগ কাজী = মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:

মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর আকতার হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলামগীর হাওলাদার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বসতঘরসহ একাধিক বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কয়েকটি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, এর আগে দায়ের হওয়া একটি বিস্ফোরক ও মারামারির মামলায় আকতার হাওলাদার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। সেই মামলায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

1

নবাবগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে মহড়া, র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১:২২ পিএম
নবাবগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে মহড়া, র‍্যালি ও আলোচনা সভা

মোঃ রেজুয়ান বাদশা দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস–২০২৬ উপলক্ষে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়া, র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, নবাবগঞ্জের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের সময় করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক মহড়া প্রদর্শন করা হয় এবং এ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল— “দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব।”
অনুষ্ঠানে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মো. মাহব্বুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. আবু মুসা, তথ্য সেবা কর্মকর্তা আফরিনা খাতুনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের সময় করণীয় বিষয়ে উপস্থিত সবাইকে সচেতন করা হয় এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

1

যশোর বেনাপোল স্থল বন্দরে ঘোষনা বইভুক্ত ও আমদানি নিষিদ্ধ ১৭ মেট্রিক টন পাট বীজের একটি চালান আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১:২০ পিএম
যশোর বেনাপোল স্থল বন্দরে ঘোষনা বইভুক্ত ও আমদানি নিষিদ্ধ ১৭ মেট্রিক টন পাট বীজের একটি চালান আটক

 

মনা যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ

বেনাপোল স্থল বন্দরে ঘোষনা বইভুক্ত ও আমদানি নিষিদ্ধ প্রায় কোটি টাকা মুল্যের ১৭ মেট্রিক টন পাট বীজের একটি চালান আটক হয়েছে।

মঙ্গলবার ১০ মার্চ বেনাপোল বন্দরের ১৫ নং শেডে বেনাপোল স্থলবন্দরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংবাদের  (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব পাট বীজ আটক করে। এ সময় বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারি কমিশনার রাহাত হোসেন উপস্থিতি ছিলেন।

বেনাপোল স্থল বন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আবু তালহা জানান, রোববার বেনাপোল  স্থল বন্দর দিয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টার প্রাইজ ভারত থেকে ৪৫ মেট্রিক টন ঘাস বিজ উল্লেখ করে পাটের বীজ আমদানি করেন। পরে গোপন সংবাদে পণ্য চালানটিতে অভিযান চালিয়ে ১৭ টন পাট বীজ আটক করা হয়। মিথ্যা ঘোষনার অপরাধে অভিযুক্ত আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা  হয়েছে জানান তিনি।

এদিকে সচেতন মানুষেরা পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়াই নিম্নমানের বীজ দেশে প্রবেশ করায় ঝুঁকিতে পড়ছে কৃষি খাত। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। দূনীতিবাজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা  গ্রহনের দাবি জানান তারা।