বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডাঃকানিস ফারহানা অবহেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫, ৩:২৫ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডাঃকানিস ফারহানা অবহেলা

উজ্জ্বল কুমার সরকার নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার ৫০ বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেমন খুশি তেমন চলেন,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতারা।

বদলগাছী উপজেলায় ২ লক্ষ ৬ হাজার ৫ শত ৪৭ জন মানুষের বসবাস। এটি জেলার সবচেয়ে ছোট একটি উপজেলা। জেলা সদর থেকে এই উপজেলার দুরুত্ব ১৭ কিলোমিটার। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সেবার কথা চিন্তা করে ৫০ শর্য্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ করেন সরকার।

কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কানিস ফারহানার অবহেলা আর উদাসীনতায় প্রায় ২ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রবিবার সকাল ৯ টা। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় রোগীদের উপচে পড়া ভীড়। হাতে ও পায়ে ব্যথা নিয়ে কয়েকজন রোগী চিৎকার করলেও পাচ্ছে না সেবা। কষ্টে কাটছে তাদের সময়।

এসব বিষয় দেখভালের জন্য অফিসে তখনো আসেনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কানিজস ফারহানা। তার অনুপস্থিতিতে চিকিৎসা সেবা ও দাপ্তরিক কাজে সৃষ্টি হচ্ছে নানা জটিলতা। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক।

আর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলছেন দাপ্তরিক কাজে বাহিরে থাকতে হয় মাঝে মধ্যে।

সুত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কানিস ফারহানা ১৪ মার্চ ২০২২ সালে এ হাসপাতালের দায়িত্ব নেন। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে তিনি অনুপস্থিত থাকেন।

গত বছরের নভেম্বর মাসে কর্মস্থলে ১০ দিন অনুপস্থিত আর ডিসেম্বর মাসে ১৮ দিন অনুপস্থিত, ৬দিন লেট এবং বাকী দিন গুলোতে সে সকাল দশটার পর আসেন এবং দুপুর দেড়টায় অফিস ত্যাগ করেন। তার দেরীতে আসা যেন নিত্য দিনের রুটিনে পরিনত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ বর্তমানে তিনি আরো দেরীতে আসেন। বেশ কয়েকদিন সরেজমিনে গিয়েও তার সত্যতা পাওয়া যায়। শুধু কর্মস্থলে অনপস্থিত নয়, সে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর সরকারি গাড়ী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে আসছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি কোয়াটারে থাকার নিয়ম থাকলেও সে যোগদানের পর থেকেই নওগাঁ সদর থেকে অফিস করেন।

আর এভাবেই তিনি সেবাগ্রহীতাদের বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দিনের পর দিন, এমন কি মাসের পর মাস ইচ্ছেমতো চাকুরি করে চলেছেন। যেন দেখার কেউ নেই।

স্থানীয়রা বলছেন গত এক বছর থেকে চালক অভাবে এ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত এই উপজেলার অসহায় রোগীরা। ফলে চালক অভাবে নষ্ঠ হচ্ছে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এ্যাম্বুলেন্সটি। এবং গত বছরের ৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে হাসপাতালে চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে।

এবং হাসপাতালের রাজস্ব খাতের ২ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ, ৪ মাসেও করেনি কোন মামলা। চলতি মাসের ৭ এপ্রিল আউটডোরে টিকিট কাউন্টারে রোগীর কাছ থেকে টিকিট বাবদ ৩ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে ৫ টকা।

এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার জানালেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত নেওয়া হয় নি কোন ব্যবস্থা।

সচেতন মহল বলছে সরকারি বিধি অনুসারে একজন কর্মকর্তা তিন বছরের অধিক একই জায়গায় থাকতে পারবেন না। কিন্তু নিজ কাজে এতো উদাসিনতা আর অবহেলার পরও সরকারি নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে স্বপদে বহাল তবিয়তে আছেন ডাঃ কানিস ফারহানা। তার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কানিজ ফারহানার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, চুরির ঘটনায় থানায় জিডি করেছি,পুলিশ তদন্ত করছে। রোগীর কাছ থেকে টিকিট বাবদ ৩ টাকার জায়গায় ৫ টাকা বেশী নেওয়ার বিষয়ে তাকে সাবধান করেছি। আপনি মাসে ১২ দিন অফিস করেন আর অন্য দিনগুলোতে লেট করে অফিসে আসার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাপ্তরিক কাজের জন্য এমনটা মাঝে মাঝে হয়। ব্যক্তিগত কাজে অফিসের গাড়ী ব্যবহারের কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন,গত এক বছর ধরে জ্বালানী বাবদ কোন বিল পাই নি। নিজ খরচে গাড়ী ব্যবহার করছি।

সিভিল সার্জন ডাঃ মো আমিনুল ইসলাম এর কাছে মুঠোফোনে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ কানিজ ফারহানার অবহেলা ও উদাসীনতা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাংলা এডিশন কে বলেন, আমি নতুন এসেছি এই জায়গায়, কোথায় কোথায় সমস্যা আপনি হোয়াটসএ্যাপে লিখে দিন।

আমি দেখছি। আমি বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নওগাঁ #

1

বকশীগঞ্জে আইন – শৃঙ্খলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ পিএম
বকশীগঞ্জে আইন – শৃঙ্খলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

oplus_0

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ:

 

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় আইন – শৃঙ্খলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন )  সকাল ১১ টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় এসময় বক্তব্য রাখেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আসমা- উল – হুসনা

বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন ,উপজেলা প্রণীসম্পদ কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন, উপজেলা কৃষি অফিসার আমিনুল ইসলাম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মানিক সওদাগর, সাধারন সম্পাদক জাহিদুর ইসলাম প্রিন্স , বিজিবির কম্পানি কমান্ডার বিল্লাল হোসেন,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক  বীরমুক্তিযোদ্ধা নওশেদ আলী, মেরুচর ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মন্জু, বগারচর ইউনিয়র পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত)  চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ, বাট্টাজোড় ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান লিটন আকন্দ, বকশীগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের উপজেলা প্রতিনিধি এমদাদুল হক লালন ও  উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আরটিভির প্রতিনিধি জিএম ফাতিউর হাফিজ বাবুসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

সভায়, সীমান্তে পুশইন নিয়ে উত্তেজনা, পৌর শহরে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যানজট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করা, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা , হাসপাতালে দালাল নির্মূল করা, মাদকের  বিরুদ্ধে  অভিযান পরিচালনা করা, চুরি ছিনতাইসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

1

বকশীগঞ্জে জাতীয় ফল মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে।

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪:২৬ পিএম
বকশীগঞ্জে জাতীয় ফল মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে।

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ:

করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের বকশীগঞ্জে দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফল মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ ফল মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আসমা উল হুসনা, প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া আফরিন,  কৃষি অফিসার আমিনুল ইসলাম , উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্সসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ও মৌসুমি ফলের মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী করা হয়। দর্শনার্থীরা ফলের বিভিন্ন জাত, পুষ্টিগুণ ও চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। এ সময় বক্তারা দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ফল চাষে কৃষকদের আরও উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

1

পাসপোর্ট অফিসে গোপন সংকেতের খেলা: দালাল ধরলেই মিলছে দ্রুত সেবা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
পাসপোর্ট অফিসে গোপন সংকেতের খেলা: দালাল ধরলেই মিলছে দ্রুত সেবা
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে নিয়ম মেনে পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিলে ত্রুটি দেখিয়ে বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। তবে দালল ধরে ফরম জমা দিলে সেটি সহজেই জমা দেওয়া যাচ্ছে। এর জন্য দালালদের মাধ্যমে পাসপোর্ট অফিসকে দিতে হচ্ছে ঘুষ। অনিয়ম-দুর্নীতি যেন এখানে নিয়ম ও নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
হাসমত আলীর বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে। নিজের পাসপোর্টের আবেদন ফরম জমা দিতে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস। তাঁর কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, আবেদনপত্রের একটি বিশেষ পাতা। ওই পাতায় লেখা একটি বিশেষ ‘সংকেত’। সেই সংকেতটি ইংরেজিতে লেখা দুইটি বর্ণ। বর্ণের পাশে হাইফেন দিয়ে লেখা দুইটি ইংরেজি সংখ্যা। এ কোড দেখে পাসপোর্ট অফিসের ফরম জমা নেওয়া কর্মচারী কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই আবেদনটি জমা নিয়ে নিলেন। গত ১০ জুন বেলা পৌনে বারোটার দিকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে এমন ঘটনা ঘটে।
এর কিছুক্ষণ আগে আবেদন জমা দিতে না পেরে হতাশ হয়ে বের হন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আজমতপুর এলাকার তরুণ রাব্বি আহমেদ। তাঁর আবেদনটি ‘ত্রুটি’ থাকায় জমা নেওয়া হয়নি। এরপর রাব্বি আহমেদ তাঁর দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে অফিসের বাইরে একটি দোকানে যান দালাল ধরতে। রাব্বি আহমেদ বলেন, ‘আমার সব কাগজ ঠিকই ছিল। তবে জমা না নিয়ে পরের দিন যেতে বলল।’
এক শ্রেনীর দালাল চ্যানেল ফাইল করে দেয় বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে ২ হাজার ৫ শত টাকা করে বেশি নেওয়া হয়। এ টাকার মধ্যে ১ হাজার ১০০ টাকা দেওয়া হয় পাসপোর্ট অফিসকে। বাকি টাকা দালালদের পকেটে।
সরেজমিনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সামনে দেখা যায়, সকাল থেকেই সেখানে অনেক দালাল ঘুরতে থাকে। পাসপের্ট আবেদন করার জন্য লোক আসামাত্রই দালালরা সেবা গ্রহীতাদের ইশারায় এবং কখনো সরাসরি তাদের মাধ্যমে পাসপোর্ট করতে বলে। দালালদের মাধ্যমে জমা দেওয়া পাসপোর্টের আবেদন ফরমকে বলা হয় ‘চ্যানেল ফাইল’। চ্যানেল ফাইলের বিষয়ে কথা হয় তিনজন দালালের সঙ্গে। শুরুতে তাঁরা এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানান, পাসপোর্ট অফিসের এ ধরনের দালালির বিষয়টি মোটামুটি ‘ওপেন সিক্রেট’। প্রতিটি দোকান থেকে চ্যানেল ফাইল করে দেওয়া হয়। বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয়। এ টাকার মধ্যে ১ হাজার ১০০ টাকা দেওয়া হয় পাসপোর্ট অফিসে। বাকি টাকা দালালদের পকেটে। এভাবে ময়মনসিংহ পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।
চ্যানেল ফাইলটি করা হয় অত্যন্ত কৌশলে। আবেদপত্রটি জমা দেওয়ার সময় যেকোন একটি কাগজের দুটি কপি করা হয়। অতিরিক্ত ওই কপিতে লেখা হয় গোপন সংকেতটি। পরে অফিসে জমার নেওয়ার পর সংকেত লেখা অতিরিক্ত কাগজটি খুলে ফেলা হয়। খুলে ফেলা কাগজটি গোপনে সংরক্ষণ করেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মী। পরে গোপনে জমা রাখা ওইসব কাগজ দেখে হিসাব করে দালালদের কাছে থেকে সপ্তাহের প্রতি বুধবার ‘পাওয়া’ টাকা আদায় করে পাসপোর্ট অফিস। এভাবেই দিনের পর দিন চলছে ঘুষ বাণিজ্য।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালকে আশিষ কুমার দাসের                                                                                                                                                                                                                                                                                                  মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি এই বিষয়ে আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে, লিখিত ভাবে আমার কাছে দেন, আমি দেখবো। আমার জানামতে এখানে কোন ঘুষ বানজ্য হয় না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘুষে আদায়কৃত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পান সহকারী-পরিচালক আশিষ কুমার দাস  ও উপ-সহকারী পরিচালক । বাকি টাকা দারোয়ান থেকে শুরু করে অফিস স্টাফদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়। এছাড়া ঘুষের ভাগ পান কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অসাধু সদস্য এবং অখ্যাত পত্রিকার নামধারী সাংবাদিক। তবে এসব বিষয়ে সরাসরি কেউ মুখ খুলতে রাজি হয়নি।
দুদক অফিস পাশে, তবুও নীরবতা!
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় এই পাসপোর্ট অফিসের পাশের ভবনেই অবস্থিত। ৫ আগস্টের পর দুদক ময়মনসিংহের বিভিন্ন সরকারি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করলেও পাসপোর্ট অফিসে কখনো কোন অভিযান পরিচালনা করেনি। এ বিষয়ে দুদকের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মককার মুঠোফোনে বলেন, আমি তিন মাস আগে ময়মনসিংহের দায়িত্ব পেয়েছি এরমধ্যে পাসপোর্ট অফিসে অভিযান পরিচালনা হয়নি। আমার জানামতে ৫ আগস্টের পর কোন অভিযান পরিচালিত হয়নি।