বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

কুয়েত প্রবাসী সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন কেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:১৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুয়েত প্রবাসী সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন কেন

 

আবু নাসের মহিউদ্দিন – কুয়েত প্রতিনিধি:

কুয়েতে বসবাসরত তিন লক্ষের অধিক প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতনপূর্বক প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান কল্পে ও শ্রমবাজার, ভীসার উচ্চমূলের লাগাম টেনে ধরা, ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সরকারের নজরে প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্যে আশির দশক থেকে কুয়েতে সৌখিন সাংবাদিকতার কাজ শুরু হলেও,
২০০০ সাল থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনের বিষয়টি লক্ষণীয় পর্যায়ে আসে। তবে বর্তমানে তা জটিল সমস্যার রূপ ধারণ করেছে। প্রবাসীদের মিডিয়া কর্মীদের বিভাজন নিরসনে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি এবং বাংলাদেশ দূতাবাস এই বিষয়ে জরুরী সংবাদকর্মীদের নিয়ে সমধানের পথ দেখিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।

সাংবাদিকদের বিভাজনের কারণ কি বা কেন?
সংগঠন নিয়ে কোন্দল–কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিকদের মধ্যে একাধিক সংগঠন রয়েছে। যেমন – বাংলা প্রেস ক্লাব কুয়েত, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েত, বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়ন কুয়েত, প্রবাস বাংলা মিডিয়া, কুয়েত। এসব সংগঠনের মধ্যে নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা প্রায়শই বিভেদ সৃষ্টি করে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, পূর্ববর্তী সংগঠন বিলুপ্ত করে নতুন সংগঠন গঠন করা হয়েছে, যা পুরনো সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।

ব্যক্তিগত স্বার্থ ও লোভ: অনেক সময় পেশাগত আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা বা অর্থনৈতিক লাভকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।কিছু অর্থের জন্য নিজের নীতিকে বিক্রী করা এতে সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য, অর্থাৎ প্রবাসীদের কল্যাণ সাধন, ব্যাহত হয় এবং নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়। কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ভিসা দালাল বা অন্যান্য অসাধু চক্রের পক্ষ নিয়ে কথা বলার অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল রয়েছে, তেমনি ভিসা ও ওসাধু চক্রের সঙ্গে সাংবাদিকদের ওঠাবসা, আর্থিক সুবিধা ও উপটৌকন গ্রহণ করে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের সোসাল মিডিয়ায়।
পেশাদারিত্বের অভাব- কিছু ক্ষেত্রে কিছু সাংবাদিকের মধ্যে পেশাদারিত্বের অভাব দেখা যায়, যার ফলে সংবাদে আকর্ষণ বাড়ানো ও ভাইরাল করার নেশায় বিকৃত তথ্য বা পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশন করা হয়। তাতে প্রবাসে বাংলাদেশীদের সম্মান ক্ষুন্ন হয়, যা পক্ষান্তরে প্রবাসের শ্রমবাজার জটিলতায় ও সংকোচনে বিবর্জিত । এই ধরনের কর্মকাণ্ড অন্যান্য সৎ এবং পেশাদার সাংবাদিকদের থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দেয় এবং আস্থা নষ্ট করে।

কমিউনিটি ও রাজনৈতিক কোন্দল-প্রবাসী সাংবাদিকরা অনেক সময় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক বা গোষ্ঠীগত কোন্দলের শিকার হন। তারা কোনো নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ করলে অন্যান্য দলের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়, যা সামগ্রিকভাবে সাংবাদিক সমাজকে বিভক্ত করে।এমন দলীয়করণের সাথে সংযুক্ত হয়ে রাষ্ট্রের জন্য ভাল কিছু করা সম্ভব নয় তাই।

বিভাজন নিরসনে কিছু সম্ভাব্য উপস্থাপনা –

সাংবাদিকদের উদ্যোগে ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরি- সকল ধরনের মিডিয়ার সাংবাদিক সংগঠনকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার জন্য একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার ব্যবস্থা নিতে হবে। একাধিক নয় একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ সংগঠন থাকলে কোন্দল কমবে।

পেশাগত মান উন্নয়ন- সিনিয়র সাংবাদিক নিজ দায়িত্বে নবীন সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা জরুরি। যাতে তারা সাংবাদিকতার নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদারিত্ব সম্পর্কে সচেতন হবে। তাছাড়াও নবীনগণ আনুগত্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ শিখবে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা-সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনতে হবে। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি নীতিমালা থাকা দরকার।

বাংলাদেশ দূতাবাস এর ভূমিকা-
নিরপেক্ষতা বজায় রাখা-দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেকে সকল সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতি নিরপেক্ষ থাকতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বাড়তি গুরুত্ব না দিয়ে সবার সঙ্গে সমান দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।

ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক ফোরাম গঠনে উৎসাহিত করা- দূতাবাস একটি ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক ফোরাম বা অ্যাসোসিয়েশন গঠনের জন্য উভয় পক্ষকে উৎসাহিত করতে পারে। এই ফোরামের লক্ষ্য হবে, কুয়েতে বাংলাদেশি সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করা। দূতাবাস এই ফোরাম গঠনের প্রক্রিয়া এবং প্রাথমিক কার্যক্রমে সহায়তা দিবে।
দূতাবাস সাংবাদিকদের আচরণবিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন করে দিয়ে তা বাস্তবায়নে সজাগ দৃষ্টি রাখলে, ভুয়া ও ভিত্তিহীন রাষ্ট্রের সম্মানহানিকর সংবাদ প্রচারের প্রবণতা কমবে।

বাংলাদেশ সরকার ও মূলধারার গণমাধ্যম-এর ভূমিকা:-
নীতিমালা তৈরি- প্রবাসে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন। এতে কারা সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতে পারবে, তাদের যোগ্যতা কী হবে এবং কোনো অনিয়মের জন্য কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা থাকবে।

মূল গণমাধ্যমের তদারকি-প্রবাসে কর্মরত সাংবাদিকরা যে মূল গণমাধ্যমগুলোতে প্রতিবেদন পাঠান, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোরও উচিত তাদের প্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা। কোনো প্রতিনিধি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

প্রবাসী কমিউনিটির ভূমিকা: প্রবাসীদের উচিত সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রশংসা করা এবং অসৎ সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলা। এতে ভালো সাংবাদিকরা উৎসাহিত হবেন এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য একটি সামাজিক চাপ তৈরি হবে। গঠনমূলক সমালোচনা- কোনো সাংবাদিকের কাজে ভুল দেখলে বা কোনো অভিযোগ থাকলে তা ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে গঠনমূলকভাবে তুলে ধরা উচিত। মিডিয়াকর্মীদের শ্রোতা ও পাঠকের মতামতের প্রতি আরো শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল হতে হবে।

ইনশাআল্লাহ, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে প্রবাসে বাংলাদেশী সাংবাদিকরা নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে প্রবাসীদের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। বিভাজন নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নয় কোন সহিংসতা নয় কোন দলীয়করণ সংবাদকর্মীরা হবে রাষ্ট্রের জন্য একটি দর্পন, নিজের স্বার্থে নয় রাষ্ট ও জনগণের জন্য বিলিয়ে দিয়ে রয়ে যাবে আজীবন।

1

বকশীগঞ্জে লক্ষাধিক টাকার জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৯:২২ পিএম
বকশীগঞ্জে লক্ষাধিক টাকার জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে

জামালপুর জেলা প্রতিনিধি, মোঃ ইমরান আকন্দ:

জামালপুরের ববকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টজোড় ইউনিয়নে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মৎস্য ও জলজ প্রাণী ধ্বংসের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (২২জুলাই) বিকালে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস অফিসের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের কুড়ি বিল ও দত্তের  বিল থেকে ২৭টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল এবং ১০টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।পরে জব্দকৃত জালগুলো উপজেলা পরিষদ চত্বরে এনে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ।

জাল পুড়িয়ে ধ্বংসের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা  নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন, উপজেলা মৎস কর্মকর্তা  হোসনে আরা খাতুন, বকশীগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক এসআই আনিছুর রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হোসনে আরা খাতুন বলেন।

চায়না দুয়ারী জাল মাছের পোনা ধ্বংস করে দেশের মৎস্যসম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। তাই মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা  নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদ হোসেন জানান. অবৈধ জাল বিক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে ন।

1

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভনে ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, মানবপাচার মামলায় দম্পতি গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভনে ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, মানবপাচার মামলায় দম্পতি গ্রেফতার



‎সোহাগ কাজী = মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

‎ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং মানবপাচারের অভিযোগে মাদারীপুর সদর উপজেলার কুমারটেক এলাকার বাসিন্দা দবির আকন ও তার স্ত্রী লাকি বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলার অন্য আসামি হিসেবে দোলা আক্তার ও আজবির আকনের নামও রয়েছে।
‎মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীকে ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন অভিযুক্তরা। এ জন্য বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট প্রায় ৩৬ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু ইতালিতে পাঠানোর পরিবর্তে প্রতারণার মাধ্যমে তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়।
‎অভিযোগে বলা হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীকে প্রায় ১১ মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের কাছ থেকে আরও অর্থ আদায়েরও চেষ্টা করা হয়।
‎পরে কোনোভাবে দেশে ফিরে এসে ভুক্তভোগী অভিযুক্তদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা টাকা না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। এ অবস্থায় তিনি মাদারীপুরের বিশেষ মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন।
‎আদালতের নির্দেশে মামলার আইনি কার্যক্রম শুরু হলে পুলিশ প্রধান দুই আসামি দবির আকন ও লাকি বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। আদালত তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

1

নাগরপুরের দুই সাংবাদিক বিএমএসএসের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
নাগরপুরের দুই সাংবাদিক বিএমএসএসের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত

 

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

নাগরপুরের সাংবাদিক অঙ্গনের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। দীর্ঘদিনের পেশাদারিত্ব, সততা, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ নাগরপুরের দুই কৃতী সাংবাদিক মো. আমজাদ হোসেন রতন ও ডা. এম. এ. মান্নান বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি (বিএমএসএস)-এর ২০২৬-২০২৭ সেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের এ অর্জনে নাগরপুরের সাংবাদিক, সুশীল সমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘোষিত কমিটিতে মো. আমজাদ হোসেন রতন গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ডা. এম. এ. মান্নান উপ-স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গত সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান খন্দকার আছিফুর রহমান-এর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সাংবাদিকতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, দক্ষতা, সততা এবং অসামান্য অবদানের মূল্যায়ন হিসেবে তাদের স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান খন্দকার আছিফুর রহমান বলেন, মো. আমজাদ হোসেন রতন ও ডা. এম. এ. মান্নান দু’জনই সংগঠনের অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ, সৎ ও দক্ষ সংগঠক। তারা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের কর্মদক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত অভিজ্ঞতা সংগঠনকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তাদের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।
মো. আমজাদ হোসেন রতন নাগরপুর উপজেলার ঘিওরকোল গ্রামের কৃতী সন্তান। প্রায় তিন দশক ধরে সাংবাদিকতা পেশায় নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে তিনি জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে একজন অভিজ্ঞ, নির্ভীক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর পেশাগত অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে আন্তর্জাতিক সম্মাননা, গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
অপরদিকে ডা. এম. এ. মান্নান উপজেলার দুয়াজানী কলেজপাড়ার সন্তান। ইংরেজি সাহিত্য ও আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ অর্জন করেছেন। ২০০৯ সালে সাংবাদিকতা পেশা শুরু করেন। সাংবাদিকতা ও সংগঠক হিসেবে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. রফিকুল ইসলাম রনি বলেন, “আমজাদ হোসেন রতন ও ডা. এম. এ. মান্নান দু’জনই সাংবাদিকতার নৈতিকতা, পেশাগত সততা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের পুনর্নির্বাচন শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি নাগরপুরের সাংবাদিক সমাজের জন্যও একটি গর্বের বিষয়। তাদের এ অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করবে।”
নাগরপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনিসুর রহমান বলেন, “যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন সব সময়ই নতুন প্রেরণার জন্ম দেয়। নাগরপুরের দুই কৃতী সাংবাদিকের জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ আমাদের সবার জন্য গর্ব ও আনন্দের। তাদের এ সাফল্য নাগরপুরের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে এবং তরুণ সাংবাদিকদের সামনে সৎ, আদর্শিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”

নাগরপুর, টাঙ্গাইল।