বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে জেলেদের সমুদ্রযাত্রা গন্তব্য দুবলার চর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৪, ৮:২১ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে জেলেদের সমুদ্রযাত্রা গন্তব্য দুবলার চর

 

শেখ মহিউদ্দিন, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:

শুরু হয়েছে সুন্দরবনের দুবলার চরের শুঁটকি তৈরির মৌসুম। শুঁটকি পল্লীতে ফের শুরু হবে কর্মব্যস্ততা। জীবনের ঝুঁকি ও ঋণের বোঝা নিয়ে মৎস্য আহরণে সমুদ্রে যাত্রা করছে জেলারা। জেলেরা সমুদ্রে মৎস্য আহরণকে ঘিরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে । ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় জীবনের ঝুকি নিয়ে চলেছে উপকূলের জেলে-মহাজনেরা। সাগরে যেতে যে যার মত প্রস্তুত করেছেন জাল, দড়ি, নৌকা-ট্রলার। কেউ কেউ গড়েছেন নতুন ট্রলার, আবার কেউ পুরাতন নৌকা মেরামত করে নিয়েছেন। প্রস্তুতি অনুযায়ী অনেকেই আগেভাগে রওনা দিচ্ছেন। অনেকেই আবার সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ইতোমধ্যে চলে এসেছে মোংলা পশুর নদীর পাড়ে।

আজ সোমবার (৪ নভেম্বর) রাত ১২টার পরপরই দুবলার চরের উদ্দেশে রওনা হয়ে যাবেন জেলেরা। আগামী ৫ মাস তারা সেখানে থাকবেন। তৈরি করবেন বিভিন্ন জাতের মাছের শুঁটকি।

দুবলার চর বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের দক্ষিণে, কটকার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং হিরণ পয়েন্টের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি দ্বীপ যা চর নামে হিন্দুধর্মের পূণ্যস্নান, রাসমেলা এবং হরিণের জন্য বহুল পরিচিত। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝে এটি একটি বিচ্ছিন্ন চর। এই চরের মোট আয়তন প্রায় ৮১ বর্গমাইল। আলোরকোল, হলদিখালি, কবরখালি, মাঝেরকিল্লা, অফিসকিল্লা, নারকেলবাড়িয়া, ছোট আমবাড়িয় এবং মেহের আলির চর নিয়ে দুবলার চর গঠিত।

দুবলার চরে তৈরি হয় জেলে গ্রাম। মাছ ধরার সঙ্গে চলে শুঁটকি শোকানোর কাজ। বর্ষা মৌসুমের ইলিশ শিকারের পর বহু জেলে পাঁচ/ সাড়ে পাঁচ মাসের জন্য সুদূর কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ, বাগেরহাট, পিরোজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা থেকে ডেরা বেঁধে সাময়িক বসতি গড়ে সেখানে। মেহেরআলীর খাল, আলোরকোল, মাঝেরচর, অফিসকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া, মানিকখালী, ছাফরাখালী ও শ্যালারচর ইত্যাদি এলাকায় জেলে পল্লী স্থাপিত হয়। এই কমাস তারা মাছকে শুঁটকি বানাতে ব্যস্ত থাকেন। এখান থেকে শুঁটকি পাইকারী বাজারে মজুদ ও বিক্রয় করা হয়।

সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগ থেকে মাছ সংগ্রহের অনুমতি সাপেক্ষে বহরদার ও জেলেরা দুবলার চরে প্রবেশ করে থাকেন। দুবলার চর থেকে সরকার নিয়মিত হারে রাজস্ব পেয়ে থাকে। প্রতি বছর বিএলসি বা বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট, ডিএফসি বা ডেইলি ফুয়েল (জ্বালানি কাঠ) কন্যাম্পশন ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় বন বিভাগকে রাজস্ব প্রদান করে মৎস্য ব্যবসায়ীগণ সুন্দরবনে ঢোকার অনুমতি পান, এছাড়া আহরিত শুঁটকি মাছ পরিমাপ করে নিয়ে ফিরে আসার সময় মাছভেদে প্রদান করেন নির্ধারিত রাজস্ব।

শুধুমাত্র সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে ও নানা প্রতিকূলতায় ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেনি জেলে পরিবারগুলো। বরং দিন দিন তাদের অবস্থার অবনতি ঘটেছে। ক্রমবর্ধমান ক্ষতির মুখে ইতোমধ্যে পূঁজি ও জাল-নৌকা হারিয়ে পেশা হারিয়েছেন অনেকে।

জেলেরা বলছেন চড়া সুদে টাকা নিচ্ছেন সুদের কারবারিদের কাছ থেকে। কেউবা টাকা গ্রহণে এনজিও, বিভিন্ন ব্যাংক ও সমিতি থেকে ঋণ করছেন। ঋণ, সুদের বোঝার সঙ্গে এমন দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়েই ৫ মাসের এক অনিশ্চিত জীবন শুরু করতে চলছেন তারা।

বহদ্দার শুভংকর হালদার বলেন, প্রতি বছর আমরা বিভিন্নভাবে ঋণ করে সমুদ্রে যাই। এবছরও পাঁচ লক্ষ টাকা ঋন করেই সাগরে যাচ্ছি। সরকারিভাবে আমরা তেমন কোন সাহায্য সহযোগীতা পাই না।
সুন্দরবনে জলদস্যু-বনদস্যুর উৎপাত ও মুক্তিপণ আদায়সহ আসাধু বনরক্ষীদের দৌরাত্ম্য দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিলো এখন আছে কিনা তা জানিনা। তবে শুনেছি জলদস্যু-বনদস্যুর উৎপাত নাকি আবার বেড়েছে।

জেলে সমর হালদার বলেন, বনবিভাগের পাস নিয়েই আমরা রওনা হই সাগর পাড়ের দুবলার চরে।
ধার দেনা করেই আমাদের যেতে হয় সাগরে। তবে অনেকে এবার সুদে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় স্বর্ণের জিনিস থুইয়ে টাকা আনতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন সাগরে দস্যুদের উৎপাত না থাকলেও এবার নাকি দস্যুদের দেখা যাচ্ছে। ঝড়-জলোচ্ছাসের প্রাণহানী ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি মাথায় নিয়েই দুবলায় যাত্রা শুরু করি আমরা হাজার হাজার জেলে।

জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির মোংলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ মন্ডল বলেন, পাস পারমিট হাতে পাওয়ার পর আজ সোমবার সন্ধ্যায় পর সকল জেলেরা সমুদ্রু দুবলার চরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। জেলেরা এখান থেকে সব ধরনের সরঞ্জাম নিয়েই যাবেন।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, বনবিভাগের কাছ থেকে পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে নিজ নিজ এলাকা থেকে রওনা হয়ে জেলেদেরকে সরাসরি যেতে হবে দুবলার চরে। চরে ঘর বাড়ি বা দোকান পাট তৈরী করার জন্য কোন সুন্দরবনের কোন গাছ কাঠতে পারবে না। গত শুঁটকির মৌসুমে দুবলার চর থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল সাড়ে ৬ কোটির মত। এবারও আমাদের আশা আছে সাড়ে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার মত রাজস্ব আদায়ের।

1

নাগরপুরে শনিবার শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪০ পিএম
নাগরপুরে শনিবার শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) নাগরপুরে শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬।

টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডের উদ্বোধনী ম্যাচে নাগরপুর উপজেলা ফুটবল দল মুখোমুখি হবে দেলদুয়ার উপজেলা ফুটবল দলের। খেলা বিকেল সাড়ে ৩টায় নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, জেলার ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা, তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং উপজেলা পর্যায়ে ফুটবলের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা, নাগরপুরের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ ম্যাচকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আয়োজকরা নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলার ফুটবলপ্রেমীসহ সর্বস্তরের মানুষকে মাঠে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

1

বকশীগঞ্জে সামাজিক সম্প্রীতি অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম
বকশীগঞ্জে সামাজিক সম্প্রীতি অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ।

জামালপুরের বকশীগঞ্জে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা  ও সমাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স,উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোছাঃ কনিকা খাতুন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা নওশেদ আলী, উপজেলা মডের মসজিদের পেশ ইমাম এনায়েত উল্লাহ,উপজেলার হিন্দু কল্যাণ সমিতির সভাপতি রমেশ কর্মকার,   বকশীগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের উপজেলা প্রতিনিধি এমদাদুল হক লালন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আর টিভির প্রতিনিধি জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবুসহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত)চেয়ারম্যান গণরা বক্তব্য রাখেন ।
এসময় বক্তারা বলেন,  গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি নাগরিককে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই একটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

1

বকশীগঞ্জে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্য সহ ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম
বকশীগঞ্জে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্য সহ ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ।

জামালপুরে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্য আশরাফুল সহ ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন জামালপুরের বিজ্ঞ নারী  ও নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১।
একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামীকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বাকি এক আসামীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুরাই) বিকাল ৩ টায় জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুানাল- ১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফজলুল হক  জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে গভীর রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলাখিয়া ইউনিয়নের মাঞ্জালিয়া গ্রামের গৃহবধূকে (২৬) একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে কয়েকজন ব্যক্তি। এঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ পরদিন বকশীগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় ৮ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম, মামলার আসামী নিলখিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, রাশেদুর রহমান পাপ্পু,  বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, মনিরুজ্জামান জুয়েল, আছমত আলী ও জসিম উদ্দিনকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন।
একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামীকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন।
এছাড়াও ইদ্রিস আলী নামে এক আসামীকে খালাস প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।