কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: কারিগরী শিক্ষার নতুন দিগন্ত।

সজীব আহমেদ :
প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি
কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে অবস্থিত একটি সরকারি বহুমুখী কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়। এখানে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পড়ানো হয়, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করে।
অবস্থান ও অবকাঠামো
প্রতিষ্ঠানটি কিশোরগঞ্জ জেলা শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে, কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ মহাসড়কের পাশে জাফরাবাদ এলাকায় ১২ একর জমির উপর অবস্থিত। প্রধান ক্যাম্পাসে রয়েছে একটি ৫ তলা ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন, একটি একাডেমিক ভবন, ৫০০ আসন বিশিষ্ট মিলনায়তন, একটি আধুনিক আইটি সেন্টার এবং গ্রন্থাগার। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে দুটি ৪ তলা ছাত্রাবাস এবং একটি মসজিদ। এছাড়াও, অধ্যক্ষের জন্য একটি বাংলো রয়েছে।
বিভাগ ও প্রযুক্তি
এই প্রতিষ্ঠানে নিম্নলিখিত বিভাগগুলোতে শিক্ষা প্রদান করা হয়:
– কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি
– ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি
– রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং টেকনোলজি
– ফুড টেকনোলজি
শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনা
এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৩২ জন দক্ষ ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টর এবং বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ চিফ ইনস্ট্রাক্টর রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হলেন:
– জনাব মোহা. রুহুল আমিন (উপাধ্যক্ষ)
– জনাব এ.কে.এম. খাদেমুল বাশার (চিফ ইনস্ট্রাক্টর, ফুড টেকনোলজি)
– জনাব এ.এইচ.এম. আইয়ুব আলী (চিফ ইনস্ট্রাক্টর, ইলেকট্রনিকস)
– জনাব মো. শহিদুল ইসলাম (চিফ ইনস্ট্রাক্টর, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং)
– জনাব মো. আতিকুল ইসলাম (চিফ ইনস্ট্রাক্টর, কম্পিউটার)
শিক্ষা কার্যক্রম:
প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়। প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ব্যবস্থাপনা, সমাজবিজ্ঞান এবং শারীরিক শিক্ষা শেখানো হয়। এতে শিক্ষার্থীরা যুগোপযোগী ও কর্মক্ষম হয়ে উঠতে পারে।
উপসংহার
কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট দেশের কারিগরি শিক্ষার বিকাশে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান। এর আধুনিক অবকাঠামো এবং মানসম্মত শিক্ষা শিক্ষার্থীদের দক্ষ পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।










