1
বকশীগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, দ্রুত মেরামতের দাবি এলাকাবাসীর
Oplus_131072

(জামালপুর জেলা) প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ:
জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি খালের ওপর নির্মিত সেতুর দীর্ঘ দিন থেকে দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে। জরাজীর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভাঙা এই সেতু দিয়ে সাতটি গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তভেগি এলাকাবাসী’রা।
বকশীগঞ্জ পৌরসভার পুরাতন গো- হাটি থেকে মেষেরচর যাওয়ার সড়কে খালের ওপর প্রায় ২৮ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সেতুটি নির্মাণ করে। তবে নির্মাণের ১৫ বছর পর এর দুই পাশের রেলিং ভেঙে যায়। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন যায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে । এ ছাড়াও সেতুটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কম হওয়ায় পাশাপাশি দুটি অটোভ্যান চলাচল করতে পারে না।
এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সাতটি গ্রামের সাধারণ পথচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ চলাচল করেন।
গতকাল রোববার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশের রেলিং ভেঙে পড়ায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে । এই সেতুর ওপর দিয়ে সাতটি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। সেতুর ওপর দিয়ে যে কোন যানবাহন চলাচল কষ্টদায়ক ব্যাপার হয়ে উঠেছে। মেষেরচর পূর্বপাড়া, মেষেরচর পশ্চিম পাড়া, বড়ইতারি, সর্দারপাড়া,ঝালরচর গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ।
স্থানীয়রা জানান , দীর্ঘ দিন থেকে রেলিং ভেঙে পড়ায় এই সেতুর ওপর দিয়ে দিনের বেলা কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও রাতের বেলা অন্ধকারে চলাচল খুব কষ্ট দায়ক হয়। এ কারণে ওই সেতুর ওপর দিয়ে সাত গ্রামের প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মেষেরচর পূর্ব পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবিরুজ্জামান জনি জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে সেতুর দুই পাশের রেলিং ভেঙে যায় এতে করে প্রায় সময় সেখানে দূর্ঘটনা ঘটে এর আগেও ২০২৪ সালে ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যান উল্টে এক মহিলার ঘটনার স্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য দাবি জানাচ্ছি।
মেষের চর পূর্ব পাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া বলেন, সেতুর দুই পাশের রেলিং না থাকায় গত সপ্তাহে দেড় লক্ষ টাকা দামের একটি ষাঁড় গরু সেতু থেকে পড়ে মারা গেছে। এর আগের এই সেতু থেকে পরে দুটি গরু মারা যায়। স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়ার পথে সেতুটির রেলিং না থাকায় আতঙ্কে সেতু পারাপার হতে হয় তাদের । বৃদ্ধ ও শিশুরা সেতু দিয়ে চলাফেরা করতে পারছে না। মাঝখানে ঢালাই ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়রা কাঠ ফেলে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।
মেষের চর পূর্বপাড়া গ্রামের পান ব্যবসায়ী আসলাম হোসেন বলেন, রেলিং ভাঙা এই সেতুর ওপর দিয়ে দিনের বেলা কোনো রকমে চলাচল করলেও রাতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় । এরপরও দাবি জানাই যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি সংস্কারের জন্য।
বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শামছুল হক জাতীয় দৈনিক আজকের বসুন্ধরা কে, বলেন সেতুটি নির্মাণের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী জামালপুর বরাবর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা হবে সেতুর কাজ।










