বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ভালোবাসা দিবস: আধুনিকতার মুখোশে আবৃত এক সাংস্কৃতিক বিপর্যয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৪:০৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভালোবাসা দিবস: আধুনিকতার মুখোশে আবৃত এক সাংস্কৃতিক বিপর্যয়

 

 জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান:

লেখক,

ভালোবাসা একটি শব্দ, যার গভীরতা মাপার মতো কোনো মানদণ্ড নেই। মানবজীবনের সূচনালগ্ন থেকে এই অনুভূতি বহমান, নদীর স্রোতের মতো, কখনো শান্ত, কখনো উন্মত্ত। ভালোবাসা নিছক একটি দিন, একটি তারিখ, একটি ফুলের তোড়া বা চকোলেটের মোড়কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি হৃদয়ের নিভৃততম কোণে জেগে থাকা একটি চিরন্তন সুর, যা বাজে প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি সম্পর্কের টানাপোড়েনে। কিন্তু এই বিশুদ্ধ অনুভূতি বর্তমানে যেন একটি বাজারজাত পণ্যে পরিণত হয়েছে। সেই পণ্যের নাম ‘ভালোবাসা দিবস’।
যেখানে একসময় কবিগণ প্রেমের বিশুদ্ধতাকে উদযাপন করতেন মনের আঙিনায়, সেখানে আজ প্রেমের নামেই পালিত হয় কৃত্রিমতা, বাহ্যিক চাকচিক্য, আর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা। শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলোতে রঙিন বেলুন, চকোলেটের দোকান, কাঁচের প্রদর্শনীতে জ্বলজ্বল করা কার্ড সবই যেন এক বিষণ্ন হাসি হেসে বলে, “ভালোবাসা আজ এক নিখুঁত বিপণন কৌশল।” প্রেমের এই উদযাপন কি তবে এক গভীর ব্যঙ্গ নয় সেই অনুভূতির ওপর, যা ছিল হৃদয়ের নিভৃততম সত্য?
রবীন্দ্রনাথের প্রেমে ছিল আত্মার মুক্তি, জীবনানন্দের কবিতায় প্রেম ছিল অপার্থিব এক শূন্যতার সঙ্গী। কিন্তু এখনকার প্রেমের গল্পগুলো যেন ইনস্টাগ্রামের ফিল্টার দিয়ে রঙিন করা, কিছুটা মেকি, কিছুটা ক্লান্ত। প্রেমের স্থায়িত্ব এখন রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসের উপর নির্ভরশীল, “ইন আ রিলেশনশিপ” থেকে “ইট’স কমপ্লিকেটেড” এ পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র কয়েকটি ক্লিক। এই ডিজিটাল প্রেমের জগতে হৃদয়ের ভাষা হয়তো হারিয়ে গেছে ইমোজির ভিড়ে।
এই দিবসের নামে সমাজের এক শ্রেণি যেন উদ্দামতাকে স্বাধীনতা ভেবে বসেছে। পার্কের নির্জনে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা কি সত্যিই প্রেম, নাকি তা শুধুই অদূরদর্শী আবেগের বহিঃপ্রকাশ? সেই প্রেম, যার ভিত্তি ভঙ্গুর, যার শেকড় নেই কোনো গভীরে, তা কি পারে কবিতার মতো অমর হতে? এমন প্রেমের গল্পগুলোই হয়তো শেষ হয় সংবাদ শিরোনামে, যেখানে ভালোবাসা রক্তে ভেজা, যন্ত্রণায় আঁকা।
ভালোবাসার শিক্ষা কি তবে এই? যে প্রেমে নেই আত্মার জ্যোতি, নেই দায়িত্ববোধ, তা কেবলই এক ক্ষণস্থায়ী প্রলোভন। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, পরিবারের টানাপোড়েন, কিশোর-তরুণদের অন্ধ অনুকরণ সবই যেন ভালোবাসা দিবসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতা।
তবে কি প্রেম হারিয়ে গেছে? না, প্রেম হারায় না। প্রেম রয়ে গেছে সেই মায়ের চোখের কোণে, যে ভোরবেলা সন্তানের জন্য প্রার্থনা করে; রয়ে গেছে সেই বৃদ্ধ দম্পতির হাতে-হাত রাখা নীরব বন্ধনে। প্রেমের জন্য কোনো বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না। প্রেম প্রতিদিনের শ্বাস-প্রশ্বাসে, প্রতিটি ছোট্ট খেয়ালে, প্রতিটি নিঃশব্দ ভক্তিতে বেঁচে থাকে।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন,

“ভালোবাসা অবিনশ্বর,
যেখানে হৃদয় নির্ভীকভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেয়।”
ভালোবাসা যদি সত্যিই হয়, তবে তা কেবল এক দিনের প্রদীপ নয়, তা একটি জীবনভর জ্বলে থাকা শিখা। আমাদের প্রয়োজন এই শিখাকে আবার খুঁজে বের করা, আবারও উপলব্ধি করা যে ভালোবাসা কোনো কার্ডের ভেতর আটকে থাকে না—ভালোবাসা বেঁচে থাকে হৃদয়ের গভীরে, নিরবধি, শাশ্বত।

লেখক, শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো মিশর।

1

বকশীগঞ্জ উপজেলায় নুতন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতিমূলক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৩ পিএম
বকশীগঞ্জ উপজেলায় নুতন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতিমূলক সভা

 

 

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ।

 

বকশীগঞ্জে নুতন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতি মূলক  সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত শিশু কিশোরদের নিয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতি মূলক সভায় সভাপতিত্ব করেন  উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষীবিদ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা যু্ব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা খায়রুল বাশার রাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার শাকিল,বকশীগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক লালন, সাধারণ সম্পাদক আল মোজাহিদ বাবু, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু, সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম রনি, মতিন রহমান সহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত)  চেয়ারম্যান, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, নতুন কঁড়ি স্পোর্টস এ ৮ টি প্রতিযোগিতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন।

একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুইটি খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

1

বকশীগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, দ্রুত মেরামতের দাবি এলাকাবাসীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম
বকশীগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, দ্রুত মেরামতের দাবি এলাকাবাসীর

Oplus_131072

 

 

(জামালপুর জেলা) প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ:

জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি খালের ওপর নির্মিত সেতুর দীর্ঘ দিন থেকে  দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে। জরাজীর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভাঙা এই সেতু দিয়ে সাতটি গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তভেগি এলাকাবাসী’রা।

বকশীগঞ্জ পৌরসভার পুরাতন গো- হাটি থেকে  মেষেরচর  যাওয়ার সড়কে খালের ওপর প্রায় ২৮ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সেতুটি নির্মাণ করে। তবে নির্মাণের ১৫ বছর পর এর দুই পাশের রেলিং ভেঙে যায়। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন যায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে । এ ছাড়াও সেতুটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কম হওয়ায় পাশাপাশি দুটি অটোভ্যান চলাচল করতে পারে না।

এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সাতটি গ্রামের সাধারণ পথচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ চলাচল করেন।

গতকাল রোববার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশের রেলিং ভেঙে পড়ায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে । এই সেতুর ওপর দিয়ে সাতটি  গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। সেতুর ওপর দিয়ে যে কোন যানবাহন চলাচল কষ্টদায়ক ব্যাপার হয়ে উঠেছে। মেষেরচর পূর্বপাড়া, মেষেরচর পশ্চিম পাড়া, বড়ইতারি, সর্দারপাড়া,ঝালরচর গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ।

স্থানীয়রা জানান , দীর্ঘ দিন থেকে রেলিং ভেঙে পড়ায় এই সেতুর ওপর দিয়ে দিনের বেলা কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও রাতের বেলা অন্ধকারে চলাচল খুব কষ্ট দায়ক হয়। এ কারণে ওই সেতুর ওপর দিয়ে সাত গ্রামের  প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মেষেরচর পূর্ব পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবিরুজ্জামান জনি জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে সেতুর দুই পাশের রেলিং ভেঙে যায় এতে করে প্রায় সময় সেখানে দূর্ঘটনা ঘটে এর আগেও ২০২৪ সালে ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যান উল্টে এক মহিলার ঘটনার স্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য দাবি জানাচ্ছি।

মেষের চর পূর্ব পাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া বলেন, সেতুর দুই পাশের রেলিং না থাকায় গত সপ্তাহে দেড় লক্ষ টাকা দামের একটি ষাঁড় গরু সেতু থেকে পড়ে মারা গেছে। এর আগের এই সেতু থেকে পরে দুটি গরু মারা যায়। স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়ার পথে সেতুটির রেলিং না থাকায়  আতঙ্কে  সেতু পারাপার হতে হয় তাদের ।  বৃদ্ধ ও শিশুরা সেতু দিয়ে চলাফেরা করতে পারছে না। মাঝখানে ঢালাই ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়রা কাঠ ফেলে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।

মেষের চর পূর্বপাড়া গ্রামের পান ব্যবসায়ী আসলাম হোসেন বলেন, রেলিং ভাঙা এই সেতুর ওপর দিয়ে দিনের বেলা কোনো রকমে চলাচল করলেও রাতে ঝুঁকি নিয়ে  চলাচল করতে হয় । এরপরও দাবি জানাই যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি সংস্কারের জন্য।

বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শামছুল হক জাতীয় দৈনিক আজকের বসুন্ধরা কে, বলেন সেতুটি নির্মাণের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী জামালপুর বরাবর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা হবে সেতুর কাজ।

1

বকশীগঞ্জে পুকুরের পানিতে পড়ে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৬ পিএম
বকশীগঞ্জে পুকুরের পানিতে পড়ে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু

Oplus_131072

 

 

(জামালপুর জেলা) প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ:

জামালপুরের বকশীগঞ্জে পুকুরের পানিতে ডুবে  রোহান (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার  ( ২০  এপ্রিল) সকাল ১১ টায় উপজেলার বাট্টাজোর  ইউনিয়নের পূর্ব দত্তেরচর  গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু রোহান ওই গ্রামের  মাহমুদুল হাসান রুবেলের ছেলে।

স্থানীয় ও পরিবার  সূত্রে জানা গেছে, সোমবার  সকালে  পরিবারের সবার অজান্তে রোহান বাড়ির সামনে একটি পুকুর পাড়ে খেলা করছিল । খেলার একপর্যায়ে সে পুকুরে পানিতে পড়ে ডুবে যায়। রোহানকে  বাড়িতে দেখতে না পেয়ে বাবা-মাসহ স্বজনরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খৌঁজাখঁজির একপর্যায়ে শিশুটির দাদা আমজাদ হোসেন  বাড়ীর পাশে  পুকুরের পানিতে শিশুটির  মরদেহ  ভাসতে দেখে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে  যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বকশীগঞ্জ  থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন  জানান, খবর পেয়েই ঘটনার  স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এবিষয়ে আইনি পদক্ষেপ  চলমান আছে।‌