মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ ১৪৩২

“বৈশাখী মেলা ও উৎসব বাঙালির নিজস্ব সম্পদ”– নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫, ২:৪৪ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
“বৈশাখী মেলা ও উৎসব বাঙালির নিজস্ব সম্পদ”– নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য 

মোছাঃ মাহমুদা আক্তার নাঈমা

জাককানইবি প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষ্য দিনজুড়ে ছিল আনন্দের ঘনঘটা।সারাদিন শিক্ষার্থীদের কলরবে মুখরিত ছিল ক্যাম্পাস।এমনও দিনে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এই বর্ষবরণকে নিজস্ব উৎসব ও সম্পদ হিসেবে বরণ ও ধারণ করার কথা ব্যক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য।

সোমবার ১ বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দের (১৪ এপ্রিল ২০২৫) এক নতুন সকালে ‘নববর্ষের ঐকতান ফ্যাসিবাদের অবসান’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে দেখা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নানা বয়সের দর্শনার্থীরা ভেদাভেদ ভুলে শোভাযাত্রায় স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে ক্যাম্পাস মুখরিত করতে।

নববর্ষের এই আনন্দ শোভাযাত্রাটি যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে,যা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশ-পাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ইতি টানে। বাঙালির চিরাচরিত রূপে নিজেদের সাজিয়ে সকলে এই শোভাযাত্রায় বাদ্যের তালে তালে এগিয়ে চলে, হাতে হাতে ছিল বাহারি মুখোশ। চরকি, টেপা পুতুল আর পাখির শিল্পকাঠামো যা শোভাযাত্রাকে দেয় বাঙালির চিরায়ত আবহ। এরপর গাহি সাম্যের গান মঞ্চে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বক্তব্য শুরু করেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।এসময় তিনি সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। উপাচার্য বলেন, “প্রত্যেক জাতির সাংস্কৃতিক জীবনে নানা ধরণের উৎসব পালিত হয়ে থাকে, আমরাও নানা উৎসব পালন করে থাকি। বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রাণের উৎসব। সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সার্বজনিন উৎসব। আমাদের প্রাণের মিলন মেলা বৈশাখী উৎসব। বৈশাখী মেলা ও উৎসব বাঙালির নিজস্ব সম্পদ।”

নববর্ষের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “বাংলা বর্ষপঞ্জি প্রচলিত হওয়ারপর নববর্ষ পালন শুরু হয়েছে। ৯৬৩ হিজরী ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে বাদশা আকবর সিংহাসনে বসার হিজরী বছরকে গণনায় নিয়ে যে ফসলি হিজরী প্রবর্তন করা হয়, তাই কালক্রমে বাংলার সনে রূপান্তরিত হয়। পহেলা বৈশাখ পুরাতন আবর্জনা দূর করে নতুন জীবনকে আহ্বান করে। নববর্ষ উৎসবে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নতুন করে বন্ধন দৃঢ় হয়। ক্ষুদ্রতা ও সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে আমরা বৃহত্তর জীবন চেতনায় উদ্বুদ্ধ হই। একইসঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে। যে ইতিহাস অনেকটা আমরা নাগরিক জীবনে হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছিলাম। নববর্ষের মাধ্যমে আমাদের প্রাণে নতুন করে তা সঞ্চার হয়। আমরা মনে করি সাংস্কৃতিক জাতি বা জাতি রাষ্ট্র গঠনে আমাদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে শক্তি যোগায়। শুভ ইচ্ছা, শুভ সংকল্প সকল বাধা কাটিয়ে এগিয়ে চলার প্রেরণায় নতুনভাবে উদ্দিপিত করে। নববর্ষের চেতনায় আনন্দলোকে সমবেত হয়ে সকলের আনন্দে আনন্দিত হওয়া। পহেলা বৈশাখ তাই আমাদের জাতীয় জীবনে ও সংস্কৃতিতে এক নির্মল আনন্দঘন শুভ দিন। সকল মানুষের শুভ কামনার মধ্য দিয়ে মানব স্বীকৃতি তার মূল কথা।”পরিশেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় উপাচার্য বলেন, “এলো এলো রে বৈশাখী ঝড় এলো এলো রে, বৈশাখী ঝড় এলো এলো মহীয়ান সুন্দর।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফের ড. এ. এইচ. এম কামাল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার, আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স), চারুকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব নগরবাসী বর্মন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত আনন্দ শোভাযাত্রার সমাপ্তি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাহি সাম্যের গান মঞ্চের পাশে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। মেলায় মোট ২৬টি স্টল বসেছে যা সম্ভব হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের মাধ্যমে । দুপুরে গাহি সাম্যের গান মঞ্চে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে উঠে বিশ্ববদ্যালয় পরিবার। একই মঞ্চে সন্ধ্যারপর শুরু হয় বৈশাখের গান, লোকগান ও লোকনৃত্য। সবশেষে রাতে কিচ্ছাপালার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বাংলা নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠানমালা।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য,বর্ষবরণের পূর্বদিন চৈত্রসংক্রান্তি ১৪৩১ উদযাপন উপলক্ষ্যে রবিবার(১৩ এপ্রিল ২০২৫) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম কর্তৃক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঘুড়ি এবং সন্ধ্যার পর ফানুস উড়ানো হয়।যা পূর্বে থেকেই নববর্ষের শুভ সূচনার আনন্দ আভাস দিয়েছিল এবং বর্ষবরণের আনন্দ দ্বিগুণ করাতে ভূমিকা রেখেছিল।

1

ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪০ পিএম
ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ

সাহেদ আলী,সিরাজগঞ্জ :

ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ ২৭ জানুয়ারি। ১৯২২ সালের এ দিনে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে সলঙ্গার হাটে বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনের কর্মীসহ সাড়ে ৪ হাজার সাধারণ হাটুরে জনতা শহীদ হন।ব্রিটিশ শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনে জনতা উদ্বেলিত হয়ে বিলেতি পণ্য বর্জন করে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের সংগ্রাম শুরু করেছিলেন।এমনি একটি আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সলঙ্গায়।সে সময় তৎকালীন পাবনা জেলার এবং বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গায় একটি ব্যবসায়ীক জনপদ হিসেবে সপ্তাহে ২দিন হাট বসতো।
১৯২২ সালের ২৭ শে জানুয়ারি শুক্রবার ছিল বড় হাট বার।মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা হাটে নামেন বিলেতি পণ্য কেনা-বেচা বন্ধ করতে।আর এ স্বদেশি আন্দোলনের কর্মীদের রুখতে ছুটে আসে পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর.এন দাস জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রসাশক এসকে সিনহাসহ ৪০ জন সশস্ত্র লাল পাগড়ীওয়ালা পুলিশ।
সলঙ্গার গো হাটায় ছিল বিপ্লবী স্বদেশি কর্মীদের অফিস।পুলিশ কংগ্রেস অফিস ঘেরাও পূর্বক গ্রেফতার করে মাওলানা আব্দুর রশিদকে।সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্ত করতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিদ্রোহে ফেটে পড়ে সলঙ্গার সংগ্রামী জনতা।জনতার ঢল ও আক্রোশ দেখে ম্যাজিস্ট্রেট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি চালাতে নির্দেশ দেয়।শুরু হয়ে যায় বুলেট বৃষ্টি।৪০টি রাইফেলের মধ্যে মাত্র ১টি রাইফেল থেকে কোনো গুলি বের হয়নি।এ রাইফেলটি ছিল একজন ব্রাহ্মণ পুলিশের।
হত্যাকাণ্ডে হতাহতের সরকারি সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার দেখানো হলেও বেসরকারি বিভিন্ন মতে এর সংখ্যা ১০ হাজারেরও অধিক বলে জানা যায়। মাওলানা আব্দুর রশিদ সলঙ্গা বিদ্রোহ উপনিবেশিক শাসনের ভিত লড়িয়ে দিয়েছিলেন।সলঙ্গার রক্তসিক্ত বিদ্রোহ শুধু বাংলার মাটিকে সিক্ত করেনি,সিক্ত করেছে সমগ্র উপমহাদেশ।যে রক্তে ভেজা পিচ্ছিল পথে অহিংস,অসহযোগ আন্দোলনে যা কিছু অর্জিত হয়েছে তা সলঙ্গা বিদ্রোহেরই ফসল।
দিবসটি পালন উপলক্ষে সলঙ্গায় মাওলানা আব্দুর তর্কবাগীশ পাঠাগার, বেগম নূরুন্নাহার তর্কবাগীশ ডিগ্রী কলেজ,সলঙ্গা সমাজ কল্যাণ সমিতি, তর্কবাগীশ মহিলা মাদরাসা,তর্কবাগীশ উচ্চ বিদ্যালয়,মাওলানা তর্কবাগীশ গবেষণা কেন্দ্র ও সলঙ্গা ফোরাম পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা সভা,ক্রীড়া প্রতিযোগিতা,রেলী ও পুরস্কার বিতরণসহ নানা কর্মসুচীর আয়োজন করেছে।

1

ফ্যামিলি কার্ডের আড়ালে সহিংসতা চলবে না’- ডা. শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম
ফ্যামিলি কার্ডের আড়ালে সহিংসতা চলবে না’- ডা. শফিকুর রহমান

মোঃ ইস্রাফিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, “একদিকে গায়ে হাত, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ড—এই দুই বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না। যাদের হাতে মা-বোনেরা এখনও নিরাপদ নয়, তারা ভবিষ্যতে কী করবে তা সহজেই বোঝা যায়।”

মঙ্গলবার যশোর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দাঁড়িপাল্লার মাপে কোনো কম-বেশি হবে না। যার যা প্রাপ্য, তা ন্যায্যভাবে সবাইকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।” তিনি যশোরের সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের মানোন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং উন্নত ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলা জামায়াতে ইসলামীর নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয় উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “এই নির্বাচন হলো জনগণের রায়ের মাধ্যমে রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।” পরিবারতন্ত্র ও গোষ্ঠীগত রাজনীতির পরিবর্তে জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়াকে গণভোটের সঙ্গে তুলনা করেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটকে মুক্তির পথ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নারীদের প্রতি সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেসব দল প্রকাশ্যে নারীদের অধিকার ও কল্যাণের কথা বলে, তাদেরই কর্মীদের হাতে নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন—যা সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক। “মায়েদের অসম্মান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি। একই সঙ্গে যুবসমাজকে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

জনসভা চলাকালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ঈদগাহ ময়দান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণার মূল লক্ষ্য। তিনি যশোরবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ আসনের প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর-৫ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলীসহ জেলা ও অঞ্চল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

1

ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি কর্পোরেশন করার প্রতিশ্রুতি জনসভায় জামায়াত আমিরের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি কর্পোরেশন করার প্রতিশ্রুতি জনসভায় জামায়াত আমিরের

মনা যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিযোগিতা নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক গণভোট। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ চাইলে দীর্ঘদিনের ব্যর্থ, পরিবারতান্ত্রিক ও গোষ্ঠীগত রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতির নতুন ধারা সূচনা করতে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর শহরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভাস্থলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই পরিবর্তনের পথে অগ্রযাত্রা

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সরাসরি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া মানে কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করা নয়; এটি নিজের অধিকার, মর্যাদা এবং দেশের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার একটি সাহসী সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, এই ভোট হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান। জনগণের রায়ই যে রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তনের মূল শক্তি সে কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।

যশোরের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও যশোর দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। অবহেলা ও বৈষম্যের কারণে এ অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

তিনি যশোরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা, মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের আধুনিকায়ন, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আধুনিক ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জামায়াত আমির বলেন, জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে যশোরের এসব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করবে। উন্নয়ন হবে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহি মূলক এমন আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এটি কেবল সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়; বরং ন্যায়বিচার, সুশাসন, মানবিক মূল্যবোধ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।

নারীর মর্যাদা, আইনশৃঙ্খলা ও যুবসমাজের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা নারীদের প্রতি আচরণের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল মুখে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেও বাস্তবে তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের প্রতি সহিংস ও অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটছে, যা পুরো সমাজের জন্য লজ্জাজনক।

তিনি বলেন, মায়েদের অসম্মান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে যুবসমাজকে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতনভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেও সংঘাত ও সহিংসতা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন জামায়াত আমির।

নতুন বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী এই নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে।

তিনি যশোরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ান, সাহসের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিন এবং একটি নতুন, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।