শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

“ক্ষমতার অপব্যবহারই অধিকাংশ অযাচিত আচরণের মূল উৎস: নৈতিক অবক্ষয় থেকে রাষ্ট্রিক শৃঙ্খলার বিপর্যয

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ মে, ২০২৫, ৭:০৪ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
“ক্ষমতার অপব্যবহারই অধিকাংশ অযাচিত আচরণের মূল উৎস: নৈতিক অবক্ষয় থেকে রাষ্ট্রিক শৃঙ্খলার বিপর্যয

 

মোঃ শাহজাহান বাশার:

বর্তমান সমাজব্যবস্থায় যেকোনো অযাচিত আচরণের পেছনে যে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে, সেটি হলো ক্ষমতার অপব্যবহার। ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রতিষ্ঠান—প্রত্যেক ক্ষেত্রেই যখন নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটে, তখন তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে সমাজে জন্ম নেয় অনিয়ম, অনাচার ও বিশৃঙ্খলা। একটি সুসংগঠিত ও নৈতিক সমাজ গঠনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ক্ষমতার অবৈধ প্রয়োগ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষমতাসীন নেতাকর্মী কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যখন ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেন, তখন সমাজে একধরনের ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়। এতে সাধারণ মানুষ দুর্বিষহ অবস্থার মুখোমুখি হয় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হয়। ক্ষমতার অপব্যবহারে অনেক সময় দেখা যায়—নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হন, দুর্নীতিবাজেরা পুরস্কৃত হন, এবং অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যান।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ক্ষমতার অপব্যবহার শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও এর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ছে। শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের উপর মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন, পুলিশ সদস্যদের দ্বারা সাধারণ মানুষকে বিনা অপরাধে আটক ও নির্যাতন, কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা জমি দখল বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের ঘটনাগুলো সবই এই অপব্যবহারের বাস্তব উদাহরণ।

অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনো রাষ্ট্রের উন্নতির জন্য ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা অপরিহার্য। কিন্তু যেখানে ক্ষমতাকে জবাবদিহিতার বাইরে রাখা হয়, সেখানেই গড়ে ওঠে ‘দায়িত্বহীন শাসনব্যবস্থা’। এতে করে প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জনগণের আস্থা ভেঙে যায়।

অভিজ্ঞজনেরা আরও বলছেন, অযাচিত আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। যখন কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয় না, তখন সে অনায়াসে নিজ ইচ্ছামতো আইন ও নীতিমালা ভঙ্গ করে। এতে করে গড়ে ওঠে একপ্রকার অনৈতিক সংস্কৃতি—যেখানে ভালো কাজ নয়, বরং ক্ষমতার জোরই হয়ে ওঠে সাফল্যের প্রধান হাতিয়ার।

এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন শক্তিশালী জবাবদিহির কাঠামো তৈরির ওপর। প্রতিটি ক্ষমতার অবস্থানেই যেন একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ, এবং সর্বোপরি, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমেই সম্ভব একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন।

সর্বোপরি বলা যায়, ক্ষমতা তখনই সমাজের কল্যাণে আসে, যখন তা ব্যবহার হয় স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার সঙ্গে। কিন্তু যখন তা অপব্যবহৃত হয়, তখনই জন্ম নেয় অন্যায়, দুর্নীতি ও দমন-পীড়ন। ফলে রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এবং সাধারণ জনগণ অসহায় বোধ করে।

1

নাগরপুরে শনিবার শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪০ পিএম
নাগরপুরে শনিবার শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) নাগরপুরে শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬।

টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডের উদ্বোধনী ম্যাচে নাগরপুর উপজেলা ফুটবল দল মুখোমুখি হবে দেলদুয়ার উপজেলা ফুটবল দলের। খেলা বিকেল সাড়ে ৩টায় নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, জেলার ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা, তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং উপজেলা পর্যায়ে ফুটবলের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা, নাগরপুরের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ ম্যাচকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আয়োজকরা নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলার ফুটবলপ্রেমীসহ সর্বস্তরের মানুষকে মাঠে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

1

বকশীগঞ্জে সামাজিক সম্প্রীতি অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম
বকশীগঞ্জে সামাজিক সম্প্রীতি অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ।

জামালপুরের বকশীগঞ্জে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা  ও সমাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স,উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোছাঃ কনিকা খাতুন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা নওশেদ আলী, উপজেলা মডের মসজিদের পেশ ইমাম এনায়েত উল্লাহ,উপজেলার হিন্দু কল্যাণ সমিতির সভাপতি রমেশ কর্মকার,   বকশীগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের উপজেলা প্রতিনিধি এমদাদুল হক লালন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আর টিভির প্রতিনিধি জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবুসহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত)চেয়ারম্যান গণরা বক্তব্য রাখেন ।
এসময় বক্তারা বলেন,  গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি নাগরিককে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই একটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

1

বকশীগঞ্জে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্য সহ ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম
বকশীগঞ্জে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্য সহ ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দ।

জামালপুরে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্য আশরাফুল সহ ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন জামালপুরের বিজ্ঞ নারী  ও নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১।
একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামীকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বাকি এক আসামীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুরাই) বিকাল ৩ টায় জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুানাল- ১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফজলুল হক  জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে গভীর রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলাখিয়া ইউনিয়নের মাঞ্জালিয়া গ্রামের গৃহবধূকে (২৬) একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে কয়েকজন ব্যক্তি। এঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ পরদিন বকশীগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় ৮ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম, মামলার আসামী নিলখিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, রাশেদুর রহমান পাপ্পু,  বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, মনিরুজ্জামান জুয়েল, আছমত আলী ও জসিম উদ্দিনকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন।
একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামীকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন।
এছাড়াও ইদ্রিস আলী নামে এক আসামীকে খালাস প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।