শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩১ ১৪৩২
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩১ ১৪৩২

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা,অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫, ৪:০২ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা,অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি

নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাম্প্রতিক একটি সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির রাজনীতি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গত ২২ মে সন্ধ্যার পর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের আব্বাসনগর এলাকায় সংঘটিত এই সংঘর্ষে শফিকুল ইসলাম (৪০) নামে একজন নিহতের ঘটনা ঘটে।

এই সংঘর্ষে আরও অন্তত ছয়জন আহত হন। সংঘর্ষের ঘটনার সময় বাড়িঘরেও হামলা চালানো হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় ২৪ মে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৮০-৯০ জনকে আসামী করে নিহতের ভাই খাইরুল ইসলাম মামলা দায়ের করে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,বিলবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হামিদুর রহমানের পক্ষে তার কর্মী-সমর্থকরা দুর্গাপুর পৌর শহরসহ বিভিন্ন স্থানে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিলবোর্ড লাগাতে যান। পরে সেখানে বিএনপির কিছু লোকজন বাধা দেয়। এর জের ধরে পরবর্তীতে ঘটনা বড় আকার ধারণ করে।

এই ঘটনা বর্তমানে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। এই মামলায় পুলিশ ১৬ নং আসামী তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে৷ ঘটনার সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায় তাজুল ইসলাম ঘটনার সময় দুর্গাপুর উপজেলার বাইরে অবস্থান করছিলেন। তিনি তখন নেত্রকোণা সদরে ছিলেন। সেখানকার বিভিন্ন দোকানে ওইসময়ে তার কেনাকাটার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ফলে এটি জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে তিনি একটি মুদি দোকান ও অপর একটি ফার্মেসিতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও ঔষধ ক্রয় করছিলেন। ফেসবুকে এই ভিডিও শেয়ার করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিকরা বলেন, তাকে ষড়যন্ত্র করে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তারা এই নেক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

সরেজমিন অনুসন্ধানে এমন আরো অনেক তথ্য বেরিয়ে আসে। মামলায় ১২ নং আসামী করা হয় দুর্গাপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আল ইমরান সম্রাট গণিকে। অনুসন্ধানে দেখা যায়,তিনি ঘটনার সময় দুর্গাপুর পৌর শহরে অবস্থান করছিলেন। সেসময় তিনি অন্য নেতাকর্মীদের নিয়ে পৌর বিএনপির সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক কাজ করছিলেন। তার সঙ্গে কাজ করা একাধিক কর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়,সম্রাট গণি দলের সাংগঠনিক কাজে সবসময়ই তৎপর। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি সেদিন রাত পর্যন্ত সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক নানা কাজে খুব ব্যস্ত ছিলেন। মূলত প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে এই মামলার আসামী করা হয়েছে।

মামলার ১৭ নং আসামী,যুবদল নেতা আলমগীর হোসেন গত দেড়মাসেরও বেশি সময় যাবত মানিকগঞ্জে পেশাগত কাজে অবস্থান করছেন। তাকেও এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনার সময় পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক সালমান মুক্তাদির দুর্গাপুর শহরের আত্রাখালী ব্রীজ সংলগ্ন নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রিয়াজ ইলেকট্রনিকসে ছিলেন। ঘটনা সম্পর্কে তিনি রাতে জেনেছেন। তাকেও এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। রিয়াজ ইলেকট্রনিকসের পার্শ্ববর্তী দোকানদার আনোয়ার হোসেন বলেন,সেদিন সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সালমান মুক্তাদির নিজ দোকানেই ছিলেন। দোকানে কাস্টমারদের সাথে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন।

এই মামলার আসামী সেকুল মেম্বার ঘটনার সময় একটি জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। জানাজা পড়ে এসে তিনি ঘটনা সম্পর্কে এলাকাবাসীর কাছ থেকে অবগত হন। তাকেও ফাঁসানো হয়েছে এই হত্যা মামলায়। স্থানীয় বাসিন্দা মো: হারুন মিয়া বলেন,সেকুল মেম্বার বরুইগঞ্জ বাজারে আব্দুল জব্বার মেম্বার এর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন এবং দাফন কাফন শেষ হবার পর তিনি বাজারে এসে সংঘর্ষের ঘটনার ব্যাপারে জানতে পারেন।

বিএনপির দু:সময়ের কর্মীদের বিরুদ্ধে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব মোড়ে ২৬মে দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার নারী সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন এলাকার হাজারো নারী অংশগ্রহণ করেন। এতে তারা এই মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না হলে তারা আরো কঠোর কর্মসূচি দেবার ঘোষণা দেন।

এই মামলাকে ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসামূলক মনে করছেন নারী নেত্রী জাহানারা বেগম। তিনি বলেন,বিএনপির দু:সময়ের নেতাকর্মীদের নামে একটি কুচক্রী মহল হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এই মামলা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের ষড়যন্ত্র। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে তাদের। আমি এই মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা বলেন,বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে রাজপথে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী সোচ্চার ছিল তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এই মিথ্যা মামলা করেছে। জামাল মাস্টার সহ যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তাদের সকলেই সামাজিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তি।
মামলা দিয়ে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করার এই অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই মামলার বাদী খাইরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দুর্গাপুর থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন,এই মামলায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই হত্যা মামলার ব্যাপক তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে৷

1

মাদারীপুরে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ আতশবাজিসহ যুবক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:০৫ পিএম
মাদারীপুরে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ আতশবাজিসহ যুবক গ্রেপ্তার

 

​এস এম সোহাগ কাজী = মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:

​মাদারীপুরে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ও ধর্মীয় পরিবেশে ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগে বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ আতশবাজিসহ ইসরাফিল সর্দার (৪৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার খাগদী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
​​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে মাদারীপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে সন্ধ্যার পর, বিশেষ করে ইফতার ও তারাবি নামাজের সময় বিকট শব্দে আতশবাজি ফোটানো হচ্ছিল। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি মুসল্লিদের ইবাদতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছিল। স্থানীয়দের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদারীপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশ বিশেষ অভিযানে নামে।
​জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল বুধবার সদর থানার খাগদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইসরাফিল সর্দারকে আটক করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ২২ প্যাকেটে মোট ৪৮৪টি আমদানি নিষিদ্ধ আতশবাজি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইসরাফিল সদর উপজেলার ঘটমাঝি এলাকার মৃত সিদ্দিক সর্দারের ছেলে।
​​মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, জনবিরক্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলাজুড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

1

মরণ নেশা ক্রিস্টাল আইস (মেথামফেটামিন) এর বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল সহ ১ নারীকে আটক করেছে যশোর ডিবি পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম
মরণ নেশা ক্রিস্টাল আইস (মেথামফেটামিন) এর বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল সহ ১ নারীকে আটক করেছে যশোর ডিবি পুলিশ

 

মনা = যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ

ইং ১২/০৩/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত আনুমানিক ২১:০০ ঘটিকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), যশোর এসআই(নিঃ)/অলক কুমার দে পিপিএম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয় একটি চৌকস টিম কোতোয়ালি থানাধীন মনিহার সিনেমা হল সংলগ্ন ঈগল কাউন্টারের সামনে অবস্থানরত ঈগল পরিবহনের মধ্যে এক জন মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ভাবে অভিযান পরিচালনা করে শাপলা খাতুন @ সপ্না (২৮) নামক একজন নারী কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে তার কাছে মাদক তৈরীর কাঁচামাল আছে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ঈগল পরিবহনের বক্সে তল্লাশী করে দুটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভিতর এফিড্রিন বা সিউডোএফিড্রিন (২৫ কেজি) ও পিউরিফাইড এসিড (হাইড্রোক্লোরিক এসিড) ৬ লিটার উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। এই কাঁচামালের মাধ্যমে মরণ নেশা ক্রিস্টাল আইস (মেথামফেটামিন) তৈরী করা হয়।

আসামীকে ইং ১৩/০৩/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

আসামীর নাম ও ঠিকানাঃ-
০১। শাপলা খাতুন @ সপ্না (২৮)
পিতাঃ- আক্তারুজ্জামান
সাং- আখড়া খোলা
থানা- সাতক্ষীরা সদর
জেলা- সাতক্ষীরা।

জব্দঃ
০১। এফিড্রিন বা সিউডোএফিড্রিন (২৫ কেজি)
০২। পিউরিফাইড এসিড (হাইড্রোক্লোরিক এসিড) ৬ লিটার।

1

মাদকের বিরুদ্ধে পোস্ট করায় সাংবাদিক নাজিমুল ইসলাম নিরাপত্তাহীনতায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
মাদকের বিরুদ্ধে পোস্ট করায় সাংবাদিক নাজিমুল ইসলাম নিরাপত্তাহীনতায়

 

মোঃ রানা ইসলাম = ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করায় দৈনিক বিজয় নিউজের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ নাজিমুল ইসলাম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গতকাল রাতে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ভূল্লী থানার ৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মাটিগাড়া ও কেয়ারীগাঁও এলাকায় মাদকের বিস্তারের বিষয়ে একটি পোস্ট করেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আজ সকালে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি তার বাবার কাছে গিয়ে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক নাজিমুল ইসলাম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।