1
শিমুলিয়া ভূমি অফিসে ‘স্বপন’ রহস্য, বহিরাগত হয়েও দাপ্তরিক কাজে প্রভাব!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার আশুলিয়ায় শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ‘স্বপন’ নামে এক বহিরাগত ব্যক্তির কথিত প্রভাব ও দাপট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী না হয়েও নিয়মিত অফিসে অবস্থান করেন এবং দাপ্তরিক বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর প্রভাব রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও দাপ্তরিক কার্যক্রমেও তাঁর কথিত সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে একজন বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে সরকারি ভূমি অফিসের অভ্যন্তরে নিয়মিত অবস্থান করছেন এবং দাপ্তরিক কাজে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছেন এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে অফিসের কার্যক্রমে যুক্ত?
সরকারি ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ নামজারি, খাজনা, খতিয়ান, জমির রেকর্ডসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসেন। এসব সেবা সরাসরি সরকারি নিয়মে পাওয়ার কথা। সেখানে কোনো বহিরাগত ব্যক্তি যদি নিয়মিত অফিসে অবস্থান করেন এবং সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে দাপ্তরিক বিষয়ে যোগাযোগ করেন, তাহলে তাঁর পরিচয়, দায়িত্ব ও সেখানে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
স্থানীয়দের প্রশ্ন স্বপন যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী না হন, তাহলে তিনি কার অনুমতিতে ভূমি অফিসে নিয়মিত অবস্থান করেন? তাঁর কোনো নির্ধারিত দায়িত্ব রয়েছে কি না, থাকলে সেই দায়িত্ব কে দিয়েছেন?
সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বক্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন
অভিযোগের বিষয়ে শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ নাছির উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ‘স্বপনকে চেনেন না’ বলে জানান।
তবে প্রতিবেদকের সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় স্বপনকে তাঁর পাশের টেবিলেই বসে দাপ্তরিক কাজ করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একজন সরকারি কর্মকর্তার পাশের টেবিলে নিয়মিত অবস্থান করা ব্যক্তি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ‘চেনেন না’ বলার বিষয়টি নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। তিনি যদি সরকারি কর্মচারী না হন, তাহলে কী দায়িত্বে তিনি সেখানে বসে কাজ করছেন? আর যদি কোনো অনুমোদিত দায়িত্বে থাকেন, তাহলে তাঁর পরিচয় ও দায়িত্বের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা কেন থাকবে না?
সরকারি নথিপত্র নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে সরকারি নথিপত্র ও দাপ্তরিক কাগজপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে। কোনো বহিরাগত ব্যক্তি যদি সরকারি নথিপত্রে প্রবেশাধিকার পান বা দাপ্তরিক কাজে সম্পৃক্ত হন, তাহলে তাঁর অনুমোদন, দায়িত্ব এবং প্রবেশাধিকারের বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন
স্বপন সরকারি কোনো পদে কর্মরত কি না;
তিনি কোন পরিচয়ে ভূমি অফিসে অবস্থান করেন;
তাঁকে অফিসে কাজ করার অনুমতি কে দিয়েছেন;
সরকারি নথিপত্রে তাঁর কোনো ধরনের প্রবেশাধিকার আছে কি না;
কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী তাঁকে দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করছেন কি না;
ভূমি সংক্রান্ত কোনো সেবা বা কাজের বিনিময়ে তাঁর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন হয় কি না;
তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অভিযোগ উঠেছিল কি না।
কার ছত্রছায়ায় এই প্রভাব?
স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, ভূমি অফিসের কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে স্বপনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে তাঁর পেছনে কারা রয়েছেন এবং কীভাবে তিনি সরকারি অফিসের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছেন তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা জরুরি।
অন্যদিকে অভিযোগের কোনো ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি পরিষ্কার করে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করা।
সরকারি ভূমি অফিস কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা নয়। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।
তাই শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা ভূমি প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন একটাই “কে এই স্বপন? তিনি যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী না হন, তাহলে ভূমি অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর এত প্রভাব কীভাবে?”
এই প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসনকেই দিতে হবে।








