বুড়িচং সীমান্তে পৃথক অভিযানে প্রায় ৯৮ লক্ষ টাকার ভারতীয় অবৈধ মালামাল জব্দ

মোঃ শাহজাহান বাশার:
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল বিওপির দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী খঞ্জনী এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় ৯৮ লক্ষ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব মালামালের মধ্যে রয়েছে মোবাইল ডিসপ্লে, বাজি, বাসমতি চাল ও বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী।
বুধবার (৭ মে) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, এএসসি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৬০ বিজিবি’র সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুড়িচং উপজেলার খঞ্জনী সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় মালিকবিহীনভাবে থাকা ভারতীয় তৈরি Golden Crown Superior High Brightness Mobile Display এর বিপুল একটি চালান জব্দ করা হয় যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।
অধিনায়ক আরও জানান, একই স্থানে পৃথক আরেকটি অভিযানে ২২ লক্ষ ৪১ হাজার ৮৪৮ টাকা মূল্যের ভারতীয় বাজি, বাসমতি চাল এবং অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে দুটি অভিযানে মোট জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৯৭ লক্ষ ৯৭ হাজার ৮৪৮ টাকা।
তিনি বলেন“সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধে ৬০ বিজিবি সবসময় সজাগ ও সচেষ্ট রয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত এ ধরনের অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আমরা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী খঞ্জনী এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চোরাচালানের একটি গোপন রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে ভারতীয় পণ্য বিশেষ করে ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য নিয়মিত অনুপ্রবেশ করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবি’র তৎপরতার কারণে এসব চোরাচালান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে আরও জানানো হয়, জব্দকৃত মালামালগুলোর ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযানে এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে চোরাকারবারীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বন্ধে বিজিবির এ ধরণের সফল অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। স্থানীয় জনগণ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।













