বিএনপির প্রতি মনক্ষুণ্ন না হতে ড. ইউনূসের প্রতি সালাহউদ্দিন আহমেদের বিনীত অনুরোধ”

স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা, ৩ জুন ২০২৫:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এক আবেগঘন বক্তব্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ও নোবেলজয়ী গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, আমাদের ওপর আপনি মনঃক্ষুণ্ন হবেন না। আপনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সমর্থন অতীতে যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে। আমাদের চেয়ে বেশি সাপোর্ট আপনাদের আর কেউ দিয়েছে বলে জানি না।”
তিনি আরও বলেন, “আপনাকে আমরা কখনও প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখি না। আপনি হচ্ছেন দেশের সম্পদ, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের গর্বের প্রতীক। আপনি যে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তা দেশের মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে। বিএনপি সবসময় আপনার পাশে ছিল এবং থাকবে।”
সালাহউদ্দিন আহমেদের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে ড. ইউনূসকে ঘিরে যে বিতর্ক চলছে এবং সরকারের বিভিন্ন দমনমূলক পদক্ষেপে তার বিরুদ্ধে যে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষ থেকে এমন বার্তা অনেকটাই তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকদের মত।
বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলটি ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সরকারের ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড’কে বরাবরই সমালোচনা করেছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে। এর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও পৃথকভাবে ড. ইউনূসের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শ্রম আইন লঙ্ঘন, কর ফাঁকি এবং অর্থপাচারের অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও তদন্ত শুরু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার পক্ষ থেকে এসব মামলাকে ‘হেনস্তামূলক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, ড. ইউনূস একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব হলেও সরকার তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযানের মাধ্যমে মুক্তচিন্তা ও বিকল্প নেতৃত্বকে দমন করতে চাইছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির নেতারা ড. ইউনূসের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান বজায় রাখতে চান, যেন তিনি দলটির কার্যক্রম কিংবা অবস্থান নিয়ে ভুল ধারণা না করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে যে, বিএনপি ড. ইউনূসকে দেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অংশ হিসেবে দেখে এবং তাকে নিয়ে দলের মধ্যে কোনো বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমেদের এই বার্তা আসলে একটি বড় কৌশলগত পদক্ষেপ। এতে বিএনপি একদিকে সরকারবিরোধী অবস্থান আরও দৃঢ় করছে, অন্যদিকে দেশের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে নিজেদের উদার, সহিষ্ণু ও সমর্থক দল হিসেবে তুলে ধরছে।
ড. ইউনূসের প্রতি বিএনপির এই বার্তা শুধু রাজনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং তা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমন্বয় ও জোট গঠনের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। সালাহউদ্দিন আহমেদের এই বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে।













