বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ ১৪৩২
বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ ১৪৩২

কুয়েত ছয় থেকে দশ লক্ষ টাকার বিনিময়ের স্বপ্ন, বাস্তবতা ভিন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫, ২:২৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুয়েত ছয় থেকে দশ লক্ষ টাকার বিনিময়ের স্বপ্ন, বাস্তবতা ভিন্ন

আবু নাসের মহিউদ্দিন,কুয়েত প্রতিনিধি:

মধ্য প্রাচের মরুর উত্তপ্ত রোদে স্বপ্নের সমাপ্তি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ তরুনের, হবে না কেন ১০ লক্ষ টাকার ভীসার পারিশ্রমিক ৩০ হাজার টাকা। যা প্রতিনিয়ত নিজের ওপরিবারের খরচ মেটাতে গিয়েই হিমশিম খেতে হয় প্রবাসী তরুণদের।
তার উপর বছরে একবার আকামা নবায়ন করতে গিয়ে বাড়তি চাপ যা যেন কাঁধে চাপা এক পাহাড়! অথচ এই কষ্টকর জীবনের সূচনা হয়েছে দেশ থেকে যুবকের ৬-১০- লাখ টাকা ধার করে প্রবাসের পারি দিয়ে, বয়স ১৮ হলেও পাসপোর্টে ২১ বছর লেখা কালিতে মিথ্যার ছাপ এখানে শুরু হল জীবনে। অভিভাবকেরা স্বপ্ন দেখেন ছেলে বিদেশে যাবে, ঘুরে দাঁড়াবে, ঘর ঠিক করবে,আমাদের না পাওয়া সকল চাহিদা পূর্ণতা পাবে! কিন্তু সেই ছেলে হয়তো প্রতিদিন রাত বিষণ্নতায় ডুবে থাকবে, একথা মা-বাবা কখনো ভাবতে পারেনি।
কারণ দেশে রেখে আসা ঋণ তার বুক চেপে ধরে, কুয়েতে কাজ না থাকলে তিন বেলা খাওয়া জোটে না। তরুণ বয়সের স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে রূপ নেয় হতাশার গভীর গহ্বরে। কিছু প্রিয় মুখের আশা বাঁচিয়ে রাখলেও, একটা সময় সে বোঝবে সে নিজেই হারিয়ে যাচ্ছে। আর তখনই কেউ কেউ চিরতরে বিদায় নেয় এই নির্মম পৃথিবী থেকে নীরবে, নিঃশব্দে আশার জাল বুনতে বুনতে।
এই অব্যক্ত যন্ত্রণা বুঝে না অনেকে,তারা দেখে শুধু পাসপোর্ট হাতে এক তরুণের ছবি জন্মভূমি ছেড়ে যে নেমেছিল জীবনের লড়াইয়ে। কেউ বোঝে না, তার চোখে প্রতিদিন জলের ঢেউ নামে, বুকের ভেতর জমে থাকে শত শত না বলা কথা রাতের নির্ঘুম অশ্রুসিক্ত চোখের কোনে ঝড়ছে জল যে।
এখন সময় এসেছে এই বৃত্ত ভাঙার প্রবাসে আসার আগে যথাযথ প্রস্তুতি, সত্যিকারের বয়স ও দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং দেশে স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার দাবি তোলা খুবই জরুরি। যেন কোনো সন্তান আর হারিয়ে না যায় দুনিয়ার একাকী কোন কোণে, ঋণের দায় মাথায় নিয়ে।
আমরা হারিয়ে যেতে দিতে পারিনা নিজের দেশের যুবকদের যাদের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম দেখে আমি বলে উঠি ওহ,প্রবাস তুমি আর কত এভাবে আমাদের সর্ব শান্ত করে কফিনে বন্দি করে ঘুম পাড়িয়ে রাখবে।
প্রবাসীদের না বলা কথা নিয়ে আর ফিরার সুযোগটা পায় না সেটা বুঝতে অনেকটা সময় পার হয়েছে ওহ প্রবাসী আমিও যে।

1

ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪০ পিএম
ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ

সাহেদ আলী,সিরাজগঞ্জ :

ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ ২৭ জানুয়ারি। ১৯২২ সালের এ দিনে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে সলঙ্গার হাটে বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনের কর্মীসহ সাড়ে ৪ হাজার সাধারণ হাটুরে জনতা শহীদ হন।ব্রিটিশ শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনে জনতা উদ্বেলিত হয়ে বিলেতি পণ্য বর্জন করে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের সংগ্রাম শুরু করেছিলেন।এমনি একটি আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সলঙ্গায়।সে সময় তৎকালীন পাবনা জেলার এবং বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গায় একটি ব্যবসায়ীক জনপদ হিসেবে সপ্তাহে ২দিন হাট বসতো।
১৯২২ সালের ২৭ শে জানুয়ারি শুক্রবার ছিল বড় হাট বার।মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা হাটে নামেন বিলেতি পণ্য কেনা-বেচা বন্ধ করতে।আর এ স্বদেশি আন্দোলনের কর্মীদের রুখতে ছুটে আসে পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর.এন দাস জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রসাশক এসকে সিনহাসহ ৪০ জন সশস্ত্র লাল পাগড়ীওয়ালা পুলিশ।
সলঙ্গার গো হাটায় ছিল বিপ্লবী স্বদেশি কর্মীদের অফিস।পুলিশ কংগ্রেস অফিস ঘেরাও পূর্বক গ্রেফতার করে মাওলানা আব্দুর রশিদকে।সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্ত করতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিদ্রোহে ফেটে পড়ে সলঙ্গার সংগ্রামী জনতা।জনতার ঢল ও আক্রোশ দেখে ম্যাজিস্ট্রেট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি চালাতে নির্দেশ দেয়।শুরু হয়ে যায় বুলেট বৃষ্টি।৪০টি রাইফেলের মধ্যে মাত্র ১টি রাইফেল থেকে কোনো গুলি বের হয়নি।এ রাইফেলটি ছিল একজন ব্রাহ্মণ পুলিশের।
হত্যাকাণ্ডে হতাহতের সরকারি সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার দেখানো হলেও বেসরকারি বিভিন্ন মতে এর সংখ্যা ১০ হাজারেরও অধিক বলে জানা যায়। মাওলানা আব্দুর রশিদ সলঙ্গা বিদ্রোহ উপনিবেশিক শাসনের ভিত লড়িয়ে দিয়েছিলেন।সলঙ্গার রক্তসিক্ত বিদ্রোহ শুধু বাংলার মাটিকে সিক্ত করেনি,সিক্ত করেছে সমগ্র উপমহাদেশ।যে রক্তে ভেজা পিচ্ছিল পথে অহিংস,অসহযোগ আন্দোলনে যা কিছু অর্জিত হয়েছে তা সলঙ্গা বিদ্রোহেরই ফসল।
দিবসটি পালন উপলক্ষে সলঙ্গায় মাওলানা আব্দুর তর্কবাগীশ পাঠাগার, বেগম নূরুন্নাহার তর্কবাগীশ ডিগ্রী কলেজ,সলঙ্গা সমাজ কল্যাণ সমিতি, তর্কবাগীশ মহিলা মাদরাসা,তর্কবাগীশ উচ্চ বিদ্যালয়,মাওলানা তর্কবাগীশ গবেষণা কেন্দ্র ও সলঙ্গা ফোরাম পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা সভা,ক্রীড়া প্রতিযোগিতা,রেলী ও পুরস্কার বিতরণসহ নানা কর্মসুচীর আয়োজন করেছে।

1

ফ্যামিলি কার্ডের আড়ালে সহিংসতা চলবে না’- ডা. শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম
ফ্যামিলি কার্ডের আড়ালে সহিংসতা চলবে না’- ডা. শফিকুর রহমান

মোঃ ইস্রাফিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, “একদিকে গায়ে হাত, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ড—এই দুই বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না। যাদের হাতে মা-বোনেরা এখনও নিরাপদ নয়, তারা ভবিষ্যতে কী করবে তা সহজেই বোঝা যায়।”

মঙ্গলবার যশোর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দাঁড়িপাল্লার মাপে কোনো কম-বেশি হবে না। যার যা প্রাপ্য, তা ন্যায্যভাবে সবাইকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।” তিনি যশোরের সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের মানোন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং উন্নত ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলা জামায়াতে ইসলামীর নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয় উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “এই নির্বাচন হলো জনগণের রায়ের মাধ্যমে রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।” পরিবারতন্ত্র ও গোষ্ঠীগত রাজনীতির পরিবর্তে জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়াকে গণভোটের সঙ্গে তুলনা করেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটকে মুক্তির পথ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নারীদের প্রতি সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেসব দল প্রকাশ্যে নারীদের অধিকার ও কল্যাণের কথা বলে, তাদেরই কর্মীদের হাতে নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন—যা সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক। “মায়েদের অসম্মান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি। একই সঙ্গে যুবসমাজকে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

জনসভা চলাকালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ঈদগাহ ময়দান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণার মূল লক্ষ্য। তিনি যশোরবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ আসনের প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর-৫ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলীসহ জেলা ও অঞ্চল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

1

ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি কর্পোরেশন করার প্রতিশ্রুতি জনসভায় জামায়াত আমিরের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি কর্পোরেশন করার প্রতিশ্রুতি জনসভায় জামায়াত আমিরের

মনা যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিযোগিতা নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক গণভোট। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ চাইলে দীর্ঘদিনের ব্যর্থ, পরিবারতান্ত্রিক ও গোষ্ঠীগত রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতির নতুন ধারা সূচনা করতে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর শহরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভাস্থলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই পরিবর্তনের পথে অগ্রযাত্রা

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সরাসরি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া মানে কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করা নয়; এটি নিজের অধিকার, মর্যাদা এবং দেশের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার একটি সাহসী সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, এই ভোট হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান। জনগণের রায়ই যে রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তনের মূল শক্তি সে কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।

যশোরের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও যশোর দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। অবহেলা ও বৈষম্যের কারণে এ অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

তিনি যশোরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা, মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের আধুনিকায়ন, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আধুনিক ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জামায়াত আমির বলেন, জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে যশোরের এসব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করবে। উন্নয়ন হবে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহি মূলক এমন আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এটি কেবল সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়; বরং ন্যায়বিচার, সুশাসন, মানবিক মূল্যবোধ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।

নারীর মর্যাদা, আইনশৃঙ্খলা ও যুবসমাজের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা নারীদের প্রতি আচরণের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল মুখে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেও বাস্তবে তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের প্রতি সহিংস ও অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটছে, যা পুরো সমাজের জন্য লজ্জাজনক।

তিনি বলেন, মায়েদের অসম্মান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে যুবসমাজকে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতনভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেও সংঘাত ও সহিংসতা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন জামায়াত আমির।

নতুন বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী এই নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে।

তিনি যশোরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ান, সাহসের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিন এবং একটি নতুন, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।