শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নড়াইলের গোয়াল বাথান মসজিদ এক রাতেই নির্মিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ মার্চ, ২০২৫, ৬:১৬ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নড়াইলের গোয়াল বাথান মসজিদ এক রাতেই নির্মিত

 

উজ্জ্বল রায়ঃ

নড়াইলের গোয়াল বাথান মসজিদ এক রাতেই নির্মিত।
নড়াইল জেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার চালিতাতলা বাজার পার হয়ে গোয়ালবাথান গ্রাম। এরপর এক কিলোমিটার রাস্তা সোজা গিয়ে ডানদিকে গোয়ালবাথান গ্রাম। ধুড়িয়া গ্রামে যাবার পথে রাস্তার বামপাশে নীল রঙের ছোট একটি মসজিদ। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, এটাই গোয়ালবাথান মসজিদ। চারিদিকে বনজঙ্গলে ঘেরা এই মসজিদটিই জেলার সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ। প্রায় ৪৫০ বছরের পুরাতন গোয়ালবাথান মসজিদ। ৫ একর ৭০ শতক জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৫০ ফুট এবং প্রস্থে ৩৫ ফুট।
ছোট ছোট ইট আর চুন সুরকীর গাঁথুনিতে এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। উপরে চারটি ছোট মিনার রয়েছে। আছে বজ্রপাত নিরোধক লোহার দণ্ড। নেই কোনো পিলার। কোনো রডের ব্যবহার ছাড়াই মসজিদের গম্বুজটি অপূর্ব স্থাপত্য নির্মাণশৈলী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। জনশ্রুতি রয়েছে, ওই মসজিদটি জ্বীনদের দিয়ে নির্মাণকাজ করা হয় এবং ওই সময় জিনরাও নামাজ আদায় করতেন।
এলাকায় জনশ্রুতি আছে, মোগল শাসনামলে প্রায় ৪০০ বছর আগে একদিন এই গ্রামে এসে হঠাৎ করে বসবাস শুরু করেন মুন্সী হবৎউল্লাহ নামে এক ব্যক্তি। এর কিছু দিন পর তিনি এক রাতে ওই স্থানে এ মসজিদ এবং এর সংলগ্ন একটি পুকুর খনন করেন। সেই থেকে ওই গ্রামে আস্তে আস্তে জনবসতি শুরু হয় এবং ওই স্থানসহ আশপাশের এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা ওই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে থাকেন।
এলাকাবাসী জানান, ওই এলাকায় কোনো মানুষের বসতি ছিল না। বাগানে ভরা ছিল এলাকাটি। মুন্সী হবৎউল্লাহই ওই গ্রামের প্রথম বাসিন্দা ছিলেন। তার বসবাস শুরুর পর কোনো এক রাতে ওই মসজিদ এবং তার সঙ্গে লাগোয়া একটি পুকুর খনন করা হয়।
মসজিদটি তৈরির সঠিক সময়কাল বলতে পারেন না এলাকার লোকেরা, তবে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ বছরের পুরাতন বলে ধারণা স্থানীয়দের। তাদের তথ্যমতে, মোঘল আমলে মুন্সি হয়বৎউল্লাহ নামের এক বুজুর্গ ব্যক্তি কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে গোয়ালবাথান গ্রামে বসতি গড়েন। তিনি কোথা থেকে এসেছেন সে কথা কেউ বলতে পারে না। এই অঞ্চলে তখন গরু চরানোর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তিনি জঙ্গলের মধ্যে রাস্তা তৈরি করে বসতি গড়া শুরু করেন।
একদিন তিনি নিজের ও সঙ্গীদের নিয়ে ঘর তৈরি করতে জঙ্গলের কয়েকটি গাছ কেটে ফেলেন। একদিন রাতে তিনি স্বপ্নে দেখেন ‘বাড়ি তৈরি না করে মসজিদ বানা’। একই স্বপ্ন তিনি পরপর তিনরাত দেখেন। এই স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
আশপাশের পুরো এলাকায় তখন সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীদের বসবাস। তিনি নিজের সঙ্গী ও কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে মুসল্লিদের ডেকে এনে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেন এবং তাদের সহায়তায় মসজিদটি নির্মাণ করেন। একই সময়ে এলাকার মানুষের সুপেয় পানির জন্য মসজিদ সংলগ্ন বিশাল আকৃতির পুকুর খনন করা হয়।
কথিত আছে, এলাকার লোকেরা হঠাৎ গড়ে ওঠা এই মসজিদ এবং বিশাল আকৃতির পুকুর দেখে অবাক হয়ে যান। তাদের ধারণা বিশাল এই পুকুর খনন করা এবং মসজিদটি এক রাতের মধ্যেই নির্মিত হয়েছে। জিন দ্বারা বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছিল বলে এলাকায় এটিকে জ্বিনের মসজিদ নামেও ডাকা হয়। এলাকার মুসল্লিরা বিশ্বাস করেন সে সময় জিনেরা এখানে নামাজ পড়তেন।
এক সময়ে পায়ে হাঁটা পথে দূর থেকে হেঁটেও মুসল্লিরা শুক্রবারে জুমার নামাজ আদায় করতে আসতেন এখানে। তারা এখানে এসে খাওয়া দাওয়া করতেন এবং মুন্সি হয়বৎউল্লাহ সাহেবের আশ্রয়ে থেকে আবার চলে যেতেন। সপ্তাহের সাত দিনই নানা ধরনের কয়েকশ’ মুসাফির এর খাওয়া আর বিশ্রামের ব্যবস্থা ছিল এখানে।
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি মাওলানা তাইয়েবুর রহমান ঢাকা মেইলকে জানান, আমরা জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে চেয়ে অর্থ এনে মসজিদটি সংস্কার করছি। মসজিদে একটি ভালো বাথরুম কিংবা পানির ব্যবস্থা নাই। আমরা আশা করি এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ তাদের আওতায় নিয়ে মসজিদটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে।
মসজিদটি দেখতে আসেন। এখানে পর্যটকদের জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান। যশোর জেলার ভাঙ্গুরা এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার হাসান ঢাকা মেইলকে বলেন, আমি গোয়ালবাথান মসজিদে এসে নামাজ পড়েছি। ৪০০ বছরের পুরোনো এই মসজিদটি দেখে খুব ভালো লেগেছে। এই মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হলে আরও ভালো হতো।
মসজিদের ইমাম মুন্সি রহমতউল্লাহ ঢাকা মেইলকে বলেন, আমার পূর্বপুরুষের গড়া এই মসজিদ। এখানে একসময় শুক্রবারে বিশাল আকারের জুম্মার নামাজ আদায় হতো। ৫০/৬০ মাইল দূর থেকে এখানে নামাজ আদায়ে আসতেন মুসল্লিরা। আমাদের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া হতো, সেই বিশাল আকৃতির হামান দিস্তাসহ মসলা বাটার অনেক পুরাতন তৈজসপত্র ছোটবেলায় দেখেছি। এখানে ইমামতি করতে পেরে গর্ব অনুভব করছি। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

1

ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘ-টনায় নি-হত ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘ-টনায় নি-হত ২

মো:মাহফুজুর রহমান ঠাকুরগাঁও জেলা সদর প্রতিনিধিঃ

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঋত্বিক (২৫) ও আশিক (২৫) নামের দুই বন্ধুর মৃ-ত্যু হয়েছে।

বুধবার সকাল ৬.০০ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন।

নিহ-তরা হলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের লিটনের ছেলে ঋত্বিক (২৫) এবং একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আশিক (২৫)।

পুলিশ জানায়, সকালে দুই বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে দ্রু-তগতিতে ঠাকুরগাঁও শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট এলাকায় একটি মোড় অতিক্রম করার সময় চালক মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে থাকা আইল্যান্ডের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ঋত্বিক নিহ-ত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আশিককে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃ-ত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, “দুর্ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলে মারা যান। গুরুতর আহত অপর ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আল্লাহ সবাইকে নিরাপদে রাখুন!!! আমিন

1

বকশীগঞ্জে ভূমি সেবা মেলা উদ্বোধনী র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৮:২৪ পিএম
বকশীগঞ্জে ভূমি সেবা মেলা উদ্বোধনী র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

 

 

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দঃ

“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরে বকশীগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ৩ দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ভূমি অফিসের যৌথ উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি থেকে জাতীয় ভাবে ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।

পরে বেলুন উড়িয়ে ভূমি অফিস চত্বরে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।

র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসমা-উল – হুসনা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, সহ সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নওশেদ আলী সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন ।

ভূমি অফিস  সূত্রে জানা গেছে, মেলায় নাগরিকদের জন্য অনলাইন নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান,অনলাইনে মৌজা ম্যাপ প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ , ভূমি বিষয়ক সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর প্রদান । পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত হয়রানি কমিয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

1

বকশীগঞ্জে পানিতে ডুবে ১-শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
বকশীগঞ্জে পানিতে ডুবে ১-শিশুর মৃত্যু

 

 

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দঃ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাড়ির পাশে বিলের পানিতে ডুবে মাহিদুল গাজী (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের গাজিরপাড়া সিংগিডোবা বিলে এঘটনা ঘটে।

শিশু মাহিদুল গাজীপাড়া গ্রামের সুজা আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে নিজ বাড়িতে রান্না করছিলেন মা লামিয়া আক্তার। রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকায় বাড়ির আঙিনা থেকে শিশু মোহাম্মদ আলী অজান্তেই ঘরের পাশের সিংগি ডোবা বিলে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন বাড়ির লোকজন। এক পর্যায়ে বিলের কিনারা থেকে মোহাম্মদ আলীকে  উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।

বকশীগঞ্জ থানাধীন কামালের বার্ত্তী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।