বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯ ১৪৩২

নড়াইলের গোয়াল বাথান মসজিদ এক রাতেই নির্মিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ মার্চ, ২০২৫, ৬:১৬ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নড়াইলের গোয়াল বাথান মসজিদ এক রাতেই নির্মিত

 

উজ্জ্বল রায়ঃ

নড়াইলের গোয়াল বাথান মসজিদ এক রাতেই নির্মিত।
নড়াইল জেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার চালিতাতলা বাজার পার হয়ে গোয়ালবাথান গ্রাম। এরপর এক কিলোমিটার রাস্তা সোজা গিয়ে ডানদিকে গোয়ালবাথান গ্রাম। ধুড়িয়া গ্রামে যাবার পথে রাস্তার বামপাশে নীল রঙের ছোট একটি মসজিদ। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, এটাই গোয়ালবাথান মসজিদ। চারিদিকে বনজঙ্গলে ঘেরা এই মসজিদটিই জেলার সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ। প্রায় ৪৫০ বছরের পুরাতন গোয়ালবাথান মসজিদ। ৫ একর ৭০ শতক জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৫০ ফুট এবং প্রস্থে ৩৫ ফুট।
ছোট ছোট ইট আর চুন সুরকীর গাঁথুনিতে এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। উপরে চারটি ছোট মিনার রয়েছে। আছে বজ্রপাত নিরোধক লোহার দণ্ড। নেই কোনো পিলার। কোনো রডের ব্যবহার ছাড়াই মসজিদের গম্বুজটি অপূর্ব স্থাপত্য নির্মাণশৈলী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। জনশ্রুতি রয়েছে, ওই মসজিদটি জ্বীনদের দিয়ে নির্মাণকাজ করা হয় এবং ওই সময় জিনরাও নামাজ আদায় করতেন।
এলাকায় জনশ্রুতি আছে, মোগল শাসনামলে প্রায় ৪০০ বছর আগে একদিন এই গ্রামে এসে হঠাৎ করে বসবাস শুরু করেন মুন্সী হবৎউল্লাহ নামে এক ব্যক্তি। এর কিছু দিন পর তিনি এক রাতে ওই স্থানে এ মসজিদ এবং এর সংলগ্ন একটি পুকুর খনন করেন। সেই থেকে ওই গ্রামে আস্তে আস্তে জনবসতি শুরু হয় এবং ওই স্থানসহ আশপাশের এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা ওই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে থাকেন।
এলাকাবাসী জানান, ওই এলাকায় কোনো মানুষের বসতি ছিল না। বাগানে ভরা ছিল এলাকাটি। মুন্সী হবৎউল্লাহই ওই গ্রামের প্রথম বাসিন্দা ছিলেন। তার বসবাস শুরুর পর কোনো এক রাতে ওই মসজিদ এবং তার সঙ্গে লাগোয়া একটি পুকুর খনন করা হয়।
মসজিদটি তৈরির সঠিক সময়কাল বলতে পারেন না এলাকার লোকেরা, তবে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ বছরের পুরাতন বলে ধারণা স্থানীয়দের। তাদের তথ্যমতে, মোঘল আমলে মুন্সি হয়বৎউল্লাহ নামের এক বুজুর্গ ব্যক্তি কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে গোয়ালবাথান গ্রামে বসতি গড়েন। তিনি কোথা থেকে এসেছেন সে কথা কেউ বলতে পারে না। এই অঞ্চলে তখন গরু চরানোর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তিনি জঙ্গলের মধ্যে রাস্তা তৈরি করে বসতি গড়া শুরু করেন।
একদিন তিনি নিজের ও সঙ্গীদের নিয়ে ঘর তৈরি করতে জঙ্গলের কয়েকটি গাছ কেটে ফেলেন। একদিন রাতে তিনি স্বপ্নে দেখেন ‘বাড়ি তৈরি না করে মসজিদ বানা’। একই স্বপ্ন তিনি পরপর তিনরাত দেখেন। এই স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
আশপাশের পুরো এলাকায় তখন সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীদের বসবাস। তিনি নিজের সঙ্গী ও কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে মুসল্লিদের ডেকে এনে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেন এবং তাদের সহায়তায় মসজিদটি নির্মাণ করেন। একই সময়ে এলাকার মানুষের সুপেয় পানির জন্য মসজিদ সংলগ্ন বিশাল আকৃতির পুকুর খনন করা হয়।
কথিত আছে, এলাকার লোকেরা হঠাৎ গড়ে ওঠা এই মসজিদ এবং বিশাল আকৃতির পুকুর দেখে অবাক হয়ে যান। তাদের ধারণা বিশাল এই পুকুর খনন করা এবং মসজিদটি এক রাতের মধ্যেই নির্মিত হয়েছে। জিন দ্বারা বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছিল বলে এলাকায় এটিকে জ্বিনের মসজিদ নামেও ডাকা হয়। এলাকার মুসল্লিরা বিশ্বাস করেন সে সময় জিনেরা এখানে নামাজ পড়তেন।
এক সময়ে পায়ে হাঁটা পথে দূর থেকে হেঁটেও মুসল্লিরা শুক্রবারে জুমার নামাজ আদায় করতে আসতেন এখানে। তারা এখানে এসে খাওয়া দাওয়া করতেন এবং মুন্সি হয়বৎউল্লাহ সাহেবের আশ্রয়ে থেকে আবার চলে যেতেন। সপ্তাহের সাত দিনই নানা ধরনের কয়েকশ’ মুসাফির এর খাওয়া আর বিশ্রামের ব্যবস্থা ছিল এখানে।
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি মাওলানা তাইয়েবুর রহমান ঢাকা মেইলকে জানান, আমরা জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে চেয়ে অর্থ এনে মসজিদটি সংস্কার করছি। মসজিদে একটি ভালো বাথরুম কিংবা পানির ব্যবস্থা নাই। আমরা আশা করি এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ তাদের আওতায় নিয়ে মসজিদটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে।
মসজিদটি দেখতে আসেন। এখানে পর্যটকদের জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান। যশোর জেলার ভাঙ্গুরা এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার হাসান ঢাকা মেইলকে বলেন, আমি গোয়ালবাথান মসজিদে এসে নামাজ পড়েছি। ৪০০ বছরের পুরোনো এই মসজিদটি দেখে খুব ভালো লেগেছে। এই মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হলে আরও ভালো হতো।
মসজিদের ইমাম মুন্সি রহমতউল্লাহ ঢাকা মেইলকে বলেন, আমার পূর্বপুরুষের গড়া এই মসজিদ। এখানে একসময় শুক্রবারে বিশাল আকারের জুম্মার নামাজ আদায় হতো। ৫০/৬০ মাইল দূর থেকে এখানে নামাজ আদায়ে আসতেন মুসল্লিরা। আমাদের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া হতো, সেই বিশাল আকৃতির হামান দিস্তাসহ মসলা বাটার অনেক পুরাতন তৈজসপত্র ছোটবেলায় দেখেছি। এখানে ইমামতি করতে পেরে গর্ব অনুভব করছি। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

1

মাদারীপুরে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৯ পিএম
মাদারীপুরে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

এস এম সোহাগ কাজী = মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাজি ইউনিয়নের কুন্তিপাড়া ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে তিন বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন দেশনেত্রী ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন মাদারীপুর জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সম্পাদক ও সদর উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মুরাদ মাতুব্বর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং মাদারীপুর-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী জনাব আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমি গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তবুও আমি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। একজন আদর্শবান নেতার দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের পাশে থাকা, কাউকে কষ্ট না দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে কাছে টেনে নেওয়া। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। ভয় দেখিয়ে বা হয়রানি করে কখনো ভোটে নির্বাচিত হওয়া যায় না।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদারীপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সহ-সাধারণ সম্পাদক জনাব খায়রুল হাসান টুসু খন্দকার। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই।”
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন—
মাদারীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহাসিন মাদবর,
মাদারীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফারুক বেপারী,
যুবদল নেতা হালিম খান,
জিয়া পরিষদ মাদারীপুরের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল হাওলাদার,
মাদারীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহীন মৃধা,
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস মুন্সী ইরাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা সকলেই আসন্ন নির্বাচনে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

1

সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী উঠান বৈঠক  অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৬ পিএম
সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী উঠান বৈঠক  অনুষ্ঠিত

সাহেদ আলী – সিরাজগঞ্জ :

সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এ আচরণ বিধি ও গণভোট সম্পর্কিত তথ্য জনসাধারণকে অবহিত করন এবং ভোটদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে মাঠ প্রাঙ্গনে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতেই নির্বাচনী তথ্য সম্পর্কিত লিফলেট বিতরণ করা হয়।উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ৮নং সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি ও গণভোট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসাধারণকে অবহিত এবং ভোট দানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করেন।এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলাম মন্টু,সাংবাদিক কে.এম আল আমিন,ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম,আব্দুল খালেক, মনিরুজ্জামান মনি,ওবায়দুল হকসহ অন্যান্য ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

1

সাভারের আলোচিত মাদকের আখড়া বেদে পল্লীতে যৌথ বাহিনীর অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:১১ পিএম
সাভারের আলোচিত মাদকের আখড়া বেদে পল্লীতে যৌথ বাহিনীর অভিযান

সাভার প্রতিনিধি:

সাভারের আলোচিত মাদকের আখড়া বেদে পল্লীতে যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে সাভার পৌর এলাকার বেদে পল্লীতে এ অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনী।

যৌথ বাহিনীর অভিযানে এসময় উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন। এসময় দুই নারী সহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানে অংশ নেন সেনাবাহিনী, সাভার উপজেলা প্রশাসন, ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। যৌথবাহিনী জানায়, সকালে বেদে পল্লীতে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। এসময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, নগদ টাকা ও গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে যৌথ বাহিনী।