শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শাহাদাতের আলোকশিখা : শহীদ সাইয়েদ কুতুব রহ.

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ২:১২ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
শাহাদাতের আলোকশিখা : শহীদ সাইয়েদ কুতুব রহ.

 

✍️ জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

❝এক কালেমায় রুজিরোজগার,
এক কালেমায় ফাঁসি।❞

ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের জীবন কেবল জন্ম-মৃত্যুর সীমায় আবদ্ধ নয়। তাঁরা রক্ত দিয়ে লিখে যান অমর পঙ্‌ক্তি, তাঁদের মৃত্যু হয়ে ওঠে আগামী প্রজন্মের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। শহীদ সাইয়েদ কুতুব রহ. ছিলেন সেই বিরল মানুষদের একজন। মিশরের এক গ্রামীণ প্রান্তে জন্ম নেওয়া এক সাধারণ শিশু, যিনি তাঁর কলমের জাদু দিয়ে সাহিত্যাঙ্গন জয় করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ত দিয়ে প্রমাণ করলেন এক কালেমার মর্যাদা। তাঁর ঠোঁট থেকে উচ্চারিত সেই অমর বাণী আজও সময়ের বুক কাঁপিয়ে তোলে—
“আমরা লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ কালেমার বিজয়ের জন্য ফাঁসির দড়ি গলায় নিচ্ছি। আর তোমরা সেই একই কালেমা বিক্রি করে রুজিরোজগার করছ।”

১৯০৬ সালের ৯ অক্টোবর মিশরের আসিউতের ছোট্ট গ্রামে জন্ম নেওয়া সাইয়েদ কুতুব শৈশবেই কুরআন হিফজ করেছিলেন। তাঁর চোখে ছিল কাব্যের স্বপ্ন, কানে বাজত সাহিত্যের সুর। কৈশোরে কবিতা লিখে তিনি মন জয় করতেন, তরুণ বয়সে সমালোচনা লিখে সাহিত্য অঙ্গনে জায়গা করে নিলেন। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে দিল খ্যাতি, দিল পরিচিতি। কিন্তু খ্যাতির আড়ালে তাঁর অন্তরে জন্ম নিচ্ছিল এক গভীর অস্থিরতা। কেন এই সমাজ এত ভগ্ন, কেন মুসলমানরা নামমাত্র মুসলমান হয়ে আছে, কেন শাসনব্যবস্থা ইসলামের পথ ছেড়ে জাহেলিয়াতের আঁধারে হাঁটছে—এই প্রশ্নগুলো তাঁকে তাড়া করতে লাগল।

তিনি বুঝলেন, সাহিত্য দিয়ে হৃদয় ছোঁয়া যায়, কিন্তু সমাজ বদলানো যায় না; আর কেবল কাব্যের ভাষা দিয়ে উম্মাহকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। তখনই তাঁর কলমের মোড় ঘুরে গেল। সাহিত্যিক সাইয়েদ কুতুব রূপ নিলেন চিন্তাবিদ ও দার্শনিক কুতুব-এ, যিনি কলমকে বানালেন আল্লাহর পথে সংগ্রামের অস্ত্র। মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি তাঁর বুদ্ধি ও সৃজনশীলতাকে ঢেলে দিলেন আন্দোলনের পথে। তাঁর গ্রন্থ “ফি জিলালিল কুরআন” ছিল কুরআনের ছায়াতলে নতুনভাবে জীবনকে বোঝার এক অবিনশ্বর প্রয়াস, আর “মা’আলিম ফিৎতারিক” হয়ে উঠল যুগান্তকারী ঘোষণাপত্র, যা তরুণদের শিখাল—এই জাহেলিয়াত ভাঙতে হলে আল্লাহর কালেমা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।

কিন্তু সত্যের এই ভাষণ সহ্য হলো না মিশরের জালিম শাসক জামাল আবদুন নাসেরের। ১৯৫৪ সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হলো, শুরু হলো দীর্ঘ কারাবাস। সেই কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে তাঁর শরীরকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল অকল্পনীয় নির্যাতনে। কখনো উত্তপ্ত লোহার সলাকা গরম করে তাঁর গায়ে চাপানো হতো, কখনো বরফ-ঠান্ডা পানিতে ফেলে রাখা হতো দীর্ঘসময়। অন্ধকারে লেলিয়ে দেওয়া হতো হিংস্র কুকুর। তিনি ছিলেন একজন পাতলা গড়নের মানুষ, রোগে ভুগতেন প্রায়ই; তবুও তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি শাসকের নির্যাতন। প্রতিবারই তাঁর ঠোঁট থেকে উচ্চারিত হতো একটাই শব্দ—“আল্লাহু আকবার।”

একসময় তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হলো—চাইলে তিনি মন্ত্রী হতে পারেন। কলমের জাদু, সাহিত্যিক খ্যাতি, রাজনৈতিক প্রভাব সব মিলিয়ে তাঁর হাতে ক্ষমতার দরজা খুলে দেওয়া হতো। কিন্তু তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে প্রত্যাখ্যান করলেন—“মন্ত্রীত্ব তখনই নেব, যখন শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামী ছাঁচে সাজাতে পারব।” এই উত্তরেই স্পষ্ট হলো, তিনি কোনো দুনিয়াবি পদ বা প্রতিপত্তির লোভে মাথা নোয়াতে আসেননি।

আদালতের কাঠগড়ায় তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো—“মুসলিম নামধারী এই শাসক কি কাফের?” তিনি দ্বিধাহীন কণ্ঠে বললেন—“সে কাফের।” সাথীরা ফিসফিস করে বলল, “হুজুর, কৌশলে বললেও তো হতো।” তিনি তখনো অটল থাকলেন—“আকীদার প্রশ্নে কোনো কৌশল চলে না।” সত্যের সামনে তিনি কোনো দিন নরম হননি, আর মিথ্যার সঙ্গে কোনো আপস করেননি।

১৯৬৬ সালের ২৯ আগস্ট ভোরবেলা তাঁকে নিয়ে আসা হলো ফাঁসির মঞ্চে। ফজরের সময় তখনো বাকি, আকাশে ছড়িয়ে পড়ছিল হালকা আলো। তাঁর চোখে কোনো ভয়ের ছায়া ছিল না, বরং ছিল অদ্ভুত প্রশান্তি। শেষ মুহূর্তে এক আলেম তাঁকে বললেন, “কালেমা পড়ে নিন।” তখনই তিনি সেই অমর বাণী উচ্চারণ করলেন—
“আমরা লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ কালেমার বিজয়ের জন্য ফাঁসির দড়ি গলায় নিচ্ছি। আর তোমরা সেই একই কালেমা বিক্রি করে রুজিরোজগার করছ।”

এরপর তাঁর ঠোঁট থেকে বের হলো চূড়ান্ত সাক্ষ্য—“আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।” ফাঁসির দড়ি টেনে ধরা হলো, কিন্তু সেদিন পৃথিবী একজন মানুষকে হারালেও, ইসলামী আন্দোলন পেল এক অমর শহীদের উত্তরাধিকার।

সাইয়েদ কুতুব রহ.-এর শাহাদাতের খবর ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো বিশ্বে। একদিকে তাঁর হত্যার মাধ্যমে শাসকেরা ভেবেছিল ইসলামি আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে যাবে; অন্যদিকে তাঁর রক্ত উল্টো তরুণ প্রজন্মের রগে জ্বালিয়ে দিল আগুন। তাঁর লেখা বই এখনো মিশরের কারাগারের দেয়াল ভেদ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া থেকে শুরু করে পশ্চিমের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আলো ছড়াচ্ছে। তিনি প্রমাণ করে গেছেন, আকীদা কোনো আপসের বিষয় নয়। এক কালেমার ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে তোলা যায় সভ্যতা, আর সেই এক কালেমার জন্য গলায় নেওয়া যায় ফাঁসির দড়ি।

শাহাদাতের এত বছর পরেও তাঁর নাম উচ্চারণ করলেই হৃদয়ে জ্বলে ওঠে আলো, বুকে সঞ্চারিত হয় সাহস। তিনি হয়ে আছেন আমাদের সময়ের শহীদ, আমাদের চিন্তার মুজাহিদ, যিনি দেখিয়ে গেছেন—শরীরকে হত্যা করা যায়, কিন্তু সত্যকে হত্যা করা যায় না।

লেখক ও কলামিস্ট, শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর

1

ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘ-টনায় নি-হত ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘ-টনায় নি-হত ২

মো:মাহফুজুর রহমান ঠাকুরগাঁও জেলা সদর প্রতিনিধিঃ

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঋত্বিক (২৫) ও আশিক (২৫) নামের দুই বন্ধুর মৃ-ত্যু হয়েছে।

বুধবার সকাল ৬.০০ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন।

নিহ-তরা হলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের লিটনের ছেলে ঋত্বিক (২৫) এবং একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আশিক (২৫)।

পুলিশ জানায়, সকালে দুই বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে দ্রু-তগতিতে ঠাকুরগাঁও শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট এলাকায় একটি মোড় অতিক্রম করার সময় চালক মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে থাকা আইল্যান্ডের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ঋত্বিক নিহ-ত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আশিককে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃ-ত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, “দুর্ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলে মারা যান। গুরুতর আহত অপর ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আল্লাহ সবাইকে নিরাপদে রাখুন!!! আমিন

1

বকশীগঞ্জে ভূমি সেবা মেলা উদ্বোধনী র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৮:২৪ পিএম
বকশীগঞ্জে ভূমি সেবা মেলা উদ্বোধনী র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

 

 

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দঃ

“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরে বকশীগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ৩ দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ভূমি অফিসের যৌথ উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি থেকে জাতীয় ভাবে ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।

পরে বেলুন উড়িয়ে ভূমি অফিস চত্বরে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।

র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসমা-উল – হুসনা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, সহ সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নওশেদ আলী সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন ।

ভূমি অফিস  সূত্রে জানা গেছে, মেলায় নাগরিকদের জন্য অনলাইন নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান,অনলাইনে মৌজা ম্যাপ প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ , ভূমি বিষয়ক সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর প্রদান । পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত হয়রানি কমিয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

1

বকশীগঞ্জে পানিতে ডুবে ১-শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
বকশীগঞ্জে পানিতে ডুবে ১-শিশুর মৃত্যু

 

 

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দঃ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাড়ির পাশে বিলের পানিতে ডুবে মাহিদুল গাজী (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের গাজিরপাড়া সিংগিডোবা বিলে এঘটনা ঘটে।

শিশু মাহিদুল গাজীপাড়া গ্রামের সুজা আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে নিজ বাড়িতে রান্না করছিলেন মা লামিয়া আক্তার। রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকায় বাড়ির আঙিনা থেকে শিশু মোহাম্মদ আলী অজান্তেই ঘরের পাশের সিংগি ডোবা বিলে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন বাড়ির লোকজন। এক পর্যায়ে বিলের কিনারা থেকে মোহাম্মদ আলীকে  উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।

বকশীগঞ্জ থানাধীন কামালের বার্ত্তী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।