শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শখ পুরনে রেডিও কিনতে পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১০:০৭ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
শখ পুরনে রেডিও কিনতে পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি

সাহেদ আলী, সিরাজগঞ্জ :

“শখের তোলা আশি টাকা” প্রবাদটির বাস্তব উদাহরণে ছিলেন সিরাজগঞ্জের মৃত দেলোয়ার হোসেন মিঞা।তৎকালিন সময়ে তাঁর শখ পূরণের গল্প যেমন ব্যতিক্রমী,তেমনি আবার মর্মস্পর্শী।

ঘটনাটি কিন্ত আজকালের নয়, ১৯৬৫ সালের। সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামকৃঞপুর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন দেলোয়ার হোসেন মিঞা।যিনি পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করে তখনকার সময়ে একটি রেডিও কিনছিলেন,আর ব্যাটারি কেনার জন্য বিক্রি করেছিলেন আরও এক বিঘা জমি!

শখ পূরণে মানুষ কতকিছুই তো করে, কিন্তু এমন ঘটনা ইতিহাসে বিরল।এর জন্য অবশ্য পরবর্তীতে দেলোয়ার মিঞাকে অনেক কষ্টও করতে হয়েছে। অভাবের তাড়নায় সাত বছরের মাথায় আবার শখের সেই রেডিও বিক্রিও করেছিলেন তিনি। তার আগে বিক্রি করেছেন নিজের ঠাঁই বসতবাড়ি।
তাঁরই ছেলে সদা হাস্যোজ্বল,সলঙ্গার সবার প্রিয়,ফোক সম্রাট হিসেবে পরিচিত সেই আলতাফ হোসেন বাবার স্মৃতি হিসেবে ৫০ বছর পরে ২০২২ সালে সেই রেডিও আবার বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছিলেন।
অর্ধ শতাব্দীর বেশি পুরোনো রেডিও দেখতে তখন অনেকে ভিড় করছেন আলতাফ হোসেনের বাড়িতে।কিন্তু তিনি রেডিও বাজাতে পারছিলেন না।কারন রেডিওটি চালু করতে একসঙ্গে আটটা ব্যাটারি লাগে।এর দামও প্রায় ৪০০ টাকা।কিন্তু ওই টাকা খরচের সামর্থ্যও নেই আলতাফের।কারণ, শখের মূল্য দিতে গিয়ে মৃত বাবা তাঁদের নিঃস্ব করে গেছেন। রেডিওটার গায়ে লেখা আছে নিপ্পন ইলেকট্রনিক কোম্পানি লিমিটেড, জাপান।
বাবার সেই কাহিনী বলতে গিয়ে চোখ ভিজে উঠে আলতাফের।তাঁর বয়স এখন প্রায় সত্তর বছর।শুনেছি,তিনি মানুষের বাড়িতে রাখালের কাজ করতেন।
আলতাফ হোসেন বলেন,আমার মৃত বাবার শখের শেষ ছিল না।এলাকার মানুষ যা চাইতেন, বাবা তাই দিতেন। সবাইকে খুশি করতে গিয়ে একসময় পৈতৃক ২৬ বিঘা জমি শেষ হয়ে গেছে।১৯৭২ সালে রেডিওটাও ১৮০ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিলেন। আলতাফ আরও বলেন,বাবা রেডিও বিক্রির সময় আমি চিক্কর দিয়া উঠলাম। কইলাম বাবা,জমিও গেল,রেডিও গেল! বাবা আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে কইলেন,আবার কিনে দিব।’
রেডিও বিক্রির আগে আলতাফ হোসেনের বাবা ১৯৬৯ সালে নিজের বাড়িও বিক্রি করেন।২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি মারা যান। কয়েক বছর আগে শুনেছিলাম, আলতাফ পাশের বনবাড়িয়া গ্রামের রহমান মাস্টারের বাড়িতে রাখালের কাজ করেন।তাতেও তাঁর কোনো দুঃখ নেই।তাঁর মন পড়ে থাকে রেডিও’র কাছে। স্থানীয় জিল্লার খন্দকার নামের এক ব্যক্তি রেডিওটি কিনেছিলেন।তিনি দিনে দু’বার করে তাঁর বাড়িতে রেডিওটা নিতে যান।কিছুতেই তাঁরা দিতে চান না। ২০১০ সালে জিল্লার খন্দকার মারা গেলে রেডিওটা তাঁর ছেলে আমজাদের কাছে ছিল।তাঁর কাছে গেলে তিনি বলতেন,বাবা মারা যাওয়ার আগে কোথায় রেখে গেছে জানেন না।তবু হাল ছাড়েন না আলতাফ। তাঁর এই রেডিও প্রীতি দেখে ২০১৪ সালে উল্লাপাড়া উপজেলার পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান মারুফ বিন হাবিব এক ব্যাটারির ছোট একটা রেডিও কিনে দেন গান প্রেমিক আলতাফকে।
পাশের চেংটিয়া গ্রামের নির্মাণ শ্রমিকের সহকারী হাবিবুর রহমান শেখ পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করে রেডিও কেনার বিষয়টিও জানেন। তাঁর ভাষ্যমতে,তখন তাঁর পুরো জ্ঞান হয়েছে।আলতাফ হোসেনের বাবা রেডিও কিনে আনলেন।গ্রামের শত শত মানুষ এসে সেই রেডিওতে ভাষণ শুনছেন,গান বাজনা শুনছেন—এসব তিনি নিজের চোখেই দেখেছেন।
২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি সকাল সাতটায় ৫০০ টাকার একটা নোট নিয়ে তিনি আমজাদের কাছে গিয়ে অনুনয় বিনয় করে বলেন, রেডিওটা ফেরত দিন, এটা আমার মৃত বাবার শখের জিনিস ছিল।এ কথা শুনে টাকা ছাড়াই আমজাদ তাঁর হাতে রেডিওটি তুলে দেন।আলতাফ হোসেন বলেন,পাঁচ বছর বয়স থেকে তিনি রাখালি করছেন।সারা জীবন শুধুই কষ্ট।এ জন্য বিয়ে করতেও দেরি হয়েছে।মেয়েটা ৩ বছর আগে এইচএসসি পাস করেছে।ছেলেটা ছোট।তখনও রাখালিই করেছেন। সংসারই চলে না। বাবার রেডিও’র সেই আওয়াজ ভুলতে পারেন না।মন চায় রেডিওটা বাজাতে। আটটা ব্যাটারির দাম এখন ৪০০ টাকা। বিদ্যুৎ সংযোগে শুনবেন,তার জন্য মিস্ত্রির কাছে নিতে হবে।সে সামর্থ্যও যে তাঁর নেই।বলতে বলতে আলতাফ হোসেন রেডিওটা বুকের কাছে ধরেন। তাঁর চোখ ভিজে ওঠে।এভাবেই এখনও তার মৃত বাবার স্মৃতি বিলুপ্ত প্রায় “রেডিও” বুকে জড়িয়ে বেঁচে আছেন আলতাফ।

1

বকশীগঞ্জে ১- হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার স্বামী স্ত্রীসহ গ্রেফতার -৩

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৫:০৬ পিএম
বকশীগঞ্জে ১- হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার স্বামী স্ত্রীসহ গ্রেফতার -৩

 

 

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দঃ

জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ১- হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ ।

শুক্রবার দিবাগত  রাত  ২টার দিকে উপজেলার নিলাখিয়া ইউনিয়নের জানকিপুর সলইমন্ডলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন,নিলাখিয়া ইউনিয়নে জানকিপুর সলইমন্ডলপাড়া আব্দুল বারেক ছেলে মোঃ আরিফ হোসেন (৩০), ও তার স্ত্রী রহিমা বেগম (২৫), কক্সবাজার জেলার রামু থানার জুয়াইনালা ইউনিয়নের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল মান্নান (৪২)।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে জানকিপুর সলইমন্ডলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদের দেহ তল্লাশি করে ১- হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এই ব্যাপারে বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে।শনিবার তাদেরকে জামালপুর কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

1

বকশীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন উপজেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৫৪ এম
বকশীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন   উপজেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং

জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ ইমরান আকন্দঃ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জামালপুরে চালু হতে যাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি।

প্রাথমিকভাবে এই কর্মসূচির আওতায় জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের  টালিয়া পাড়া ও সাতভিটা  গ্রামে ১ হাজার ২৯৫ টি পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।

আগামি ১৬ মে শনিবার বগারচর ইউনিয়নের সারমারা নাসির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের জন্য সরকার কার্যক্রম শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড , বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও খাল পুন:খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বকশীগঞ্জ উপজেলাতেও ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোছা. কনিকা খাতুন জানান, বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টালিয়া পাড়া ও সাতভিটা গ্রামে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।শনিবার উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হবে ফ্যামিলি কার্ড।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনে আরো উপস্থিত থাকবেন জামালপুর জেলার আরো ৫ জন সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দরা ।

প্রেস ব্রিফিংকালে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

1

নাগরপুরে গভীর রাতে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার দুই মাদক ব্যবসায়ী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম
নাগরপুরে গভীর রাতে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার দুই মাদক ব্যবসায়ী

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে উপজেলার রাথুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাথুরা এলাকার বিশু মার্কেট সংলগ্ন সালামের চায়ের দোকানের সামনে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় সন্দেহজনকভাবে অবস্থানরত দুই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে মোট ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আরশেদ আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম রাজিব (২৬) ও মৃত শ্যামল কৃষ্ণ সাহার ছেলে রবিন্দ্র সাহা (৪০)। এর মধ্যে রাজিবের কাছ থেকে ৯ পিস এবং রবিন্দ্র সাহার কাছ থেকে ৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন নাগরপুর থানার এসআই (নিঃ) রাকিব কায়নার শুভ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন এএসআই আবু তাহের, এএসআই আতিকুর রহমান এবং কনস্টেবল রিয়াজ উদ্দীন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে রাথুরাসহ আশপাশের এলাকায় মাদকসেবীদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিল। নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মুরাদ হোসেন মুঠোফোনে বলেন,“মাদকের বিরুদ্ধে নাগরপুর থানা পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।